গোলাপি বলেও বিবর্ণ বাংলাদেশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০৯, নভেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৫, নভেম্বর ২২, ২০১৯

মুশফিকের এই আউট যেন পুরো দলের চিত্রউত্তেজনা-উন্মাদনায় ছিল ভরপুর। বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী উপমহাদেশের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্টকে আকর্ষণীয় করতে আয়োজনে কোনও কমতি রাখেননি। ইডেন গার্ডেনসের প্রথম দিনে আলোকিত সব আয়োজনেও অন্ধকারেই ঢাকা থাকলো বাংলাদেশের ক্রিকেট! গোলাপি বলেও মিললো পুরোনো সেই বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরে থাক, ইডেনে বাংলাদেশের একাদশের থাকা কোনও ক্রিকেটারের ঘরোয়া ক্রিকেটেও অভিজ্ঞতা নেই গোলাপি বলে খেলার। কতটা চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, সেটা ম্যাচের আগে দুই দলের অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে বলে গিয়েছিলেন। এরপরও ইন্দোর টেস্টের হতাশা কাটিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু হয়নি। আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ১০৬ রানে।

ভারতীয় অধিনায়ক কোহলিও চিন্তিত ছিলেন ফ্লাডলাইটের নিচে ব্যাটিং করা নিয়ে। যদিও এই ব্যাটসম্যান চ্যালেঞ্জটা উতরে গিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দলকে। তার হার না মানা হাফসেঞ্চুরিতে ইডেনের দিবা-রাত্রির টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত ৩ উইকেটে ১৭৪ রানে। এরই মধ্যে স্বাগতিকরা লিড নিয়েছে ৬৮ রানের।

কোহলি অপরাজিত ৫৯ রানে। আর তার সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন ২৩ রানে অপরাজিত থাকা আজিঙ্কা রাহানে।

বোলিংয়ে কিন্তু বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। গোলাপি বলে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট শিকারি হিসেবে নাম তোলেন আল-আমিন। এই পেসারের বলে ফিরেছেন ইন্দোর টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মায়াঙ্ক আগারওয়াল।

ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও আগারওয়াল। বোলিংয়ে বাংলাদেশকে চেপে ধরা ভারত ব্যাটিংয়েও ছিল দুর্দান্ত। যদিও উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি সফরকারীদের। আগারওয়ালকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন লম্বা সময় পর টেস্টে ফেরা আল-আমিন। এই পেসারের বলে ভারতীয় ওপেনার গালিতে ধরা পড়েন ‘কনকাশন-সাব’ হিসেবে মাঠে নামা মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। আউট হওয়ার আগে আগারওয়াল করেন ২১ বলে ১৪ রান।

এই আল-আমিনই ক্যাচ ছেড়ে ‘জীবন’ দিয়েছিলেন রোহিতকে। চা বিরতির আগে বেঁচে যাওয়া ভারতীয় ওপেনার চা বিরতির পরপরই ফিরে গেছেন। চমৎকার এক ডেলিভারিতে রোহিতকে আউট করেছেন ‍এবাদত হোসেন। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে পিচ করা বল ব্যাট উঁচিয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন রোহিত। কিন্তু বল অনেকটা সুইং করে আঘাত করে এই ব্যাটসম্যানের প্যাডে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জোরালো আবেদনে সাড়া দিতে দেরি হয়নি আম্পায়ারের। পরে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি রোহিত। এবাদতের শিকার হয়ে রোহিত ফিরেছেন ২১ রানে।

৪৩ রানে ২ হারানো ভারতকে পথে ফেরান কোহলি ও পূজারা। এবাদতের চমৎকার বোলিংয়ে ভাঙে তাদের এই জুটি। হাফসেঞ্চুরি পূরণের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ‍পূজারা। ৫৫ রান করে স্লিপে ধরা পড়েছেন সাদমান ইসলামের হাতে। যাওয়ার আগে ১০৫ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি ৮ বাউন্ডারিতে। একই সঙ্গে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে কোহলির ‍সঙ্গে গড়া ৯৪ রানের জুটি। এরপর দিনের বাকিটা পার করে দিয়েছেন কোহলি ও রাহানে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার এবাদত। এই পেসার ৪৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। আর ভারতের হারানো অন্য উইকেটটি নিয়েছেন আল-আমিন।

এর আগে টস জিতে আরও একবার ব্যাটিংয়ে দিশেহারা বাংলাদেশ। ইন্দোর টেস্টের পর কলকাতার দিবা-রাত্রির টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ব্যর্থতার তলানিতে ডুবেছে মুমিনুল হকরা। ভারতীয় পেসারদের তোপে অলআউট মাত্র ১০৬ রানে।

ওপেনার সাদমান ইসলাম (২৯), মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়া লিটন দাস (২৪) ও স্পিনার নাঈম হাসান (১৯) কেবল যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে। যাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল সবচেয়ে বেশি, সেই মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দিয়েছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহও (৬)। ফলে ভারত সফরের টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার একই চিত্র ধরা পড়লো ইডেন গার্ডেনসে।

ভারতীয় পেসারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ইশান্ত শর্মা ২২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৫ উইকেট। ৩ উইকেট শিকার উমেশ যাদবের। আর মোহাম্মদ সামি পেয়েছেন ২ উইকেট।

/কেআর/

লাইভ

টপ