ধৃষ্টতা দেখালো বাংলাদেশ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:৫৯, নভেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫০, নভেম্বর ২২, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।ভুল থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। তবে অন্যের ভুল থেকে শিখতে পারলে তার জন্য কম মূল্য দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিজের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে পারলো না। তাই দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে আবারো ব্যাটিং করলো এবং তার ফলাফল সবারই জানা।
লাল বলের প্রথম টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিংয়ে উভয় ইনিংসেই বলা যায় ব্যর্থ হয়েছে। সাইফ হাসানের ইনজুরির কারণে উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তন আনা যাচ্ছে না। লিটন দাস পিংক বল ভালো দেখতে পান না- এমন খবর পত্রিকায় দেখেছি এবং পরে তাকে দলের প্রথম একাদশে দেখে আরও অবাক হয়েছি। সাকিব-তামিমের অনুপস্থিতিতে এবং সর্বোপরি ইতোপূর্বে গোলাপি বলে না খেলার অভিজ্ঞতা- এসব কোনো কিছুকেই বিবেচনায় না নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে আবারও ব্যাটিং করার সাহস একটা দলের অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে নেয়? দল হিসেবে দুটি দলের শক্তির ফারাক এই ফরম্যাটে বিস্তর। আমাদের উপরে, মাঝে, নিচে একটি ব্যাটসম্যানও ইনফর্ম নেই। যে ব্যাটসম্যান বল ভালো দেখছে না, সেই লিটনকেও খেলাতে হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে। এমন অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্তের ফল হাতে নাতে পেলাম। দলের ৩,৪ ও ৫ নম্বর ব্যাটসম্যান শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত এসেছেন। আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা যখন এতই নড়বড়ে, তখন পরে ব্যাট করলে পরিস্থিতির বিশাল পরিবর্তন হয়তো হতো না।

তবে উন্নতি হতো বলে আমার বিশ্বাস। এই দলে আমাদের তিনজন পেস বোলার ছিল। তারা নতুন প্রাণবন্ত পিচ থেকে ভালো ফায়দা তুলতে পারতো। দিনের শেষে তাদের তিনটি উইকেট তুলে নেওয়া এই কথাটা পরিষ্কার করে দিচ্ছে। আমরা ৩১ ওভারের মতো ব্যাট করেছি। তাতে স্পিনার ১টি ওভার করেছে এবং তা ন্যায়সংগত ছিল। ভারতের এই তিন পেসার পুরোটা ইনিংস জুড়ে প্রান্ত বদল করে একের পর এক বল করেছে এবং আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে। গোলাপি বলের লেট মুভমেন্টের বল খেলা মোটেও সহজ ছিল না। মুভিং বলের বিপক্ষে আমাদের বল খেলা বা ছাড়ার টেকনিকে এখনও বেশ ঘাটতি আছে। যখন দ্রুত গতির বিপক্ষে খেলতে হয় তখন তা অনেক এক্সপোজড হয়ে যায়।

আজ টস জিতে ফিল্ডিং করলে আমাদের বোলারদের একটা ফেভারেবল কন্ডিশনে বল করার ফেয়ার সুযোগ দেওয়া যেত। তাতে ফিল্ডাররা সারাক্ষণই মাঝখান থেকে বলের গতিবিধির ওপর চোখ রাখতে পারতো এবং পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবহৃত পিচে ব্যাট করতে পারতো। সেখানে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা আনুপাতিক হারে বেশি থাকতো। তারা কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করে বড় বা মাঝারি মানের জুটি গড়ে তুলতে পারতো। নতুন বলের তিন বোলারকে খেলতে পারলে স্পিনারদের তার চেয়ে অনেক সহজেই সামাল দিতে পারতো।
লিটনের ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি তার কোন সমস্যা হচ্ছে। তবে লিটন ও নাঈমের ইনজুরির কারণে এবং তাদের দুজনের বদলি খেলোয়াড় সংযোজন ছিল দিনের আলোচিত বিষয়। নাঈমের বোলিং দেখাটা হলো না তবে ইতোমধ্যে ম্যাচটা বাংলাদেশের হাত থেকে প্রথম দিনেই বের হয়ে গেছে। এটা নিঃসন্দেহে খুবই নিচু মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শুরু হওয়া এক টেস্ট ম্যাচ।

ঐতিহাসিক এই ম্যাচ দেখতে যে পরিমাণ দর্শক ইডেনে খেলা দেখতে এসেছিল তা আগে দেখা যায়নি। কিন্তু আমাদের প্লেয়াররা সেই দর্শকদের প্রত্যাশা মতো ধারে কাছে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে না পারায় হতাশ হয়েছি।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ