কার কাছ থেকে বিদায় নেবো, প্রশ্ন মাশরাফির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৫, জানুয়ারি ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৭, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

অবসর প্রসঙ্গে আবেগময় মাশরাফিগত এক বছর ধরেই মাশরাফি মুর্তজার অবসর নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। প্রতিবারই সেই আলোচনায় জল ঢেলে দিচ্ছেন মাশরাফি। রবিবার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে মাশরাফি নিজের নাম প্রত্যাহার করার পর সংবাদ সম্মেলনে আবারো অবসর নিয়ে উঠলো প্রশ্ন। বরাবরের মতো এবারো আবেগময় মাশরাফি। নিজের অবস্থান আবেগঘন কণ্ঠে ব্যাখ্যা করলেন।

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন মাশরাফির বিদায় নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল। মাশরাফি বলেছিলেন, দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। দেশের সফলতম অধিনায়কের অনাগ্রহ থাকলেও বিসিবির ইচ্ছা তাকে ঘটা করেই বিদায় দেওয়ার। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে উল্টো প্রশ্ন রেখেছেন, ‘কার কাছ থেকে বিদায় নেবো?’

বিসিবি যে ঘটা করে মাশরাফিকে বিদায় দিতে চায় রবিবার বোর্ড সভার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কথায় সেটি স্পষ্ট, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে খেলে শেষ করার একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমরা। ও (মাশরাফি) তো রাজি হলো না। এই বিপিএল পর্যন্ত দেখতে চাইলো। আমরা তো চাইবো ওকে ভালোভাবে, খুব ভালোভাবে বিদায় জানাতে। যেটা বাংলাদেশে এর আগে কেউ পায়নি। এটা আমাদের ইচ্ছা। ও চাইলে ভালো, না চাইলে কিছু করার নেই।’

বোর্ড প্রধানের এমন কথা শুনে আরও আবেগ ঝরে পড়ে মাশরাফির কণ্ঠে, ‘কে মনেপ্রাণে দিতে চায়? ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কালকের (রবিবার) দিন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার ছিলাম। আজ থেকে আর নেই। আমি সব সময় চিন্তা করি ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের অভিভাবক। তাদের বিপক্ষে যাওয়াকে আমি কখনোই আমার ক্যারিয়ারের গৌরব মনে করিনি। আমি মনে করি খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত তার ক্রিকেট বোর্ডকে। ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ যে ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছে আমার বিদায়ী ম্যাচ বা অবসর নিয়ে চিন্তা করতে। আমার পরিষ্কার বার্তা, মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। কার কাছ থেকে নেবো সেটাও কথা। আমার ইচ্ছে নেই।’

জাতীয় দল ঘিরে মাশরাফিকে নিয়ে চলতে থাকা বিরামহীন আলোচনায় স্পষ্ট বিরক্ত ক্রিকেটে ১৯ বছরের যাত্রী। সোমবার স্পষ্ট ভাষায় মাশরাফি বলেছেন, এখনও ক্রিকেট উপভোগ করছেন, যতদিন করবেন, খেলা চালিয়ে যাবেন, ‘বারবার আপনারাই আমার খেলাটা নিয়ে আসছেন জাতীয় দলে। বারবার বলছি জাতীয় দল কেন্দ্র করেই কেউ ক্রিকেট খেলে না। আগের দিনও পরিষ্কার করে বলেছি যে আমি ঢাকা লিগ খেলবো। বিপিএল খেলবো। আমি তো বলিনি যে জাতীয় দলে খেলবো? এখানে যে ৭০-৮০ জন ক্রিকেটার খেলছে, তারা কি সবাই জাতীয় দলের আশা করে খেলছে। অবশ্যই না। আমার এতটুকু স্বাধীনতা তো আছে যে, আমি খেলতে চাইবো। কারও জোর করায় তো আমি সিদ্ধান্ত নেবো না।’

সাবেক অনেক ক্রিকেটারের উদাহরণ টেনে মাশরাফি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা মাঠ থেকে অবসরে যায়নি। আমার থেকেও বড় খেলোয়াড় আছে। হাবিবুল বাশার সুমন ভাই তো বাংলাদেশের হয়ে সঙ্কটকালে সবসময় রান করেছেন। তিনিও মাঠ থেকে অবসরে যাননি। সুজন ভাই হয়তো করতে পেরেছে। আমি আগে ভাবতাম মাঠ থেকে অবসর নিলেই ভালো হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এর প্রয়োজন নেই।’

মাশরাফির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কারো নাক গলানো উচিত নয় বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহও, ‘আমি যেভাবে চিন্তা করি, এটা (অবসরে যাওয়া) পুরোটা মাশরাফি ভাইয়ের সিদ্ধান্ত। এটা নিয়ে তার সঙ্গে আমার দু-একবার কথা হয়েছে। কিন্তু আমি এটা নিয়ে কথা বলতে পারবো না। কারণ একটা ব্যক্তিগত বিশ্বাসেরও জায়গা আছে। কারণ এটা একান্তই আমার বিষয়, আমার ক্রিকেট। দায়বদ্ধতা তাই আমার-ই থাকা উচিত। আমি বিষয়টাকে এভাবে দেখি। আমার মনে হয়, মাশরাফি ভাইও এভাবে দেখেন।’

বোর্ড চাইলে মাশরাফি অধিনায়কত্বও ছাড়তে রাজি, ‘জাতীয় দল নির্বাচনের আগে অধিনায়ক নিয়ে ভাবে না নির্বাচকেরা। আমি তো পরিষ্কার বলেছি যে নির্বাচকেরা যা ভাববেন তাই হবে। বাংলাদেশে তো সবই হয়। তবে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা যদি বিসিবি বলে, আমি ছেড়ে দেবো।’

গত বিশ্বকাপের কেবলই আগে থেকে মাশরাফিকে প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। অথচ বছর খানেক আগেও মাশরাফি ছিলেন ২২ গজের নায়ক। তাকে নিয়ে ফেসবুক-টুইটারে বন্দনা হতো। নড়াইল থেকে নির্বাচন ও বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ককে। মাশরাফি নিজে জানতেন এই বাস্তবতার মুখোমুখি তাকে হতেই হবে, ‘আজ যারা সুপারস্টার, আজ থেকে পাঁচ বছর পর তাদেরও এরকম পরিস্থিতি আসতে পারে। এটাই জীবন। কথা হচ্ছে যে, কেউ হয়তো বা খুব ভালো অবস্থায় থেকে বিদায় নিতে চায়। কেউ হয়তো বলছে খেলাটা উপভোগ করছি, খেলি। তবে আমি যেভাবে প্রত্যাশা করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই হয়েছে সবকিছু।’

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিজের শেষ ম্যাচ খেললেন মাশরাফি বাঁহাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ বাধা অবস্থায়। কেন এই ঝুঁকি? মাশরাফির দর্শন, ‘জীবনের থেকে ক্রিকেট অবশ্যই বেশি না। তবে ক্রিকেট জীবনের একটা বড় অংশ।’

/আরআই/পিকে/

লাইভ

টপ