পরিবারকে ভয়ে রেখে পাকিস্তানে যেতে পারি না: মুশফিক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০৩, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম। ছবি-রবিউল ইসলাম। প্রথমবারের মতো বিপিএলের ফাইনাল খেললেন মুশফিকুর রহিম। সাতবারের চেষ্টায় বিপিএল ট্রফি জয়ের খুব কাছে গেলেও অধরাই রইলো ট্রফি। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য এই প্রসঙ্গ প্রাধান্য পেলো না। বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকলো পাকিস্তান সফরে তার না যাওয়ার বিষয়টি। সংবাদ সম্মেলন স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন, জীবনের চেয়ে ক্রিকেট বড় নয়।

তিন দফায় পাকিস্তান সফর করবে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় আগামী ২২ জানুয়ারি তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে দেশ ছাড়বে তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। সেই দলে মুশফিক যে যাচ্ছেন না, তা বহু আগেই বিসিবিকে অবহিত করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি লিখিত চিঠিতেও জানিয়েছেন পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না তিনি।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কথা বলেছেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান, ‘আমার জন্য পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার দারুণ সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি শুরুতেই না করে দিয়েছিলাম। আমি জানতাম এবার পুরো টুর্নামেন্টই হবে পাকিস্তানে। আমি তখনই বলেছি, যেহেতু আমার পরিবার আমাকে অনুমতি দিচ্ছে না। তাই সেখানে আমার খেলার কোনও সুযোগ নেই।’

মুশফিক বলেছেন, পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে তার পরিবারের মাঝে ভীতি কাজ করছে। এ কারণেই সফরে যাচ্ছেন না তিনি, ‘পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়ে আমার পরিবার ভীত। পরিবারকে ভয়ে রেখে আমার পক্ষে পাকিস্তানে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। কারণ জীবনের চেয়ে ক্রিকেট কখনোই বড় হতে পারে না। পাকিস্তানে না যাওয়ার বিষয়টি বিসিবিকে আমি আগেই জানিয়েছি। এমনকি অফিসিয়ালি চিঠিও দিয়েছি। বিসিবি সেটা মেনে নিয়েছে।’

শুরুতে টি-টোয়েন্টি খেলতেই পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এখন পূর্ণাঙ্গ সিরিজই হচ্ছে। মুশফিক টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করেন বলেই প্রশ্ন উঠলো এই সংস্করণে খেলার কোনও সুযোগ আছে কিনা- সাবেক অধিনায়কের জবাব, ‘শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, পাকিস্তানেই যাচ্ছি না আমি। না যেতে পারাটা অবশ্যই হতাশার। বাংলাদেশ দলের হয়ে আমি একটি সিরিজ মিস করবো, এটার মতো কোনও অন্যায় আমার হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতার কারণেই আমি যেতে পারছি না।’

২০০৮ সালে এশিয়া কাপ খেলতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন মুশফিক। তবে এই দফা সফর না করলেও অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অবস্থান উন্নতি হলে সেখানে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘এটাও সত্যি, পাকিস্তান এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। আমি ২০০৮ সালে পাকিস্তান সফর করেছি। ওদের সুযোগ-সুবিধাও খুব ভালো, উইকেট খুব ভালো। সেই জায়গা থেকে পাকিস্তান সফর অনেক মিস করবো। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভালো হলে অবশ্যই পাকিস্তান সফর করবো।’

একে তো নিরাপত্তা ইস্যুতে মানসিক চাপ নিয়ে খেলতে নামা। এর সঙ্গে সাকিব-মুশফিককে ছাড়া অনেকটাই খর্ব শক্তির দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিক অবশ্য মনে করেন তার পরিবর্তে যারাই সুযোগ পাবে, তারা চ্যালেঞ্জটা নিতে পারবে, ‘ভারতে গিয়ে তো আমি খেলেছি, কী লাভ হয়েছে? আমরা ৫ জন সিনিয়র থাকা অবস্থায় অনেক ম্যাচ হেরেছি। আবার অনেকে না থাকা অবস্থাতেও অনেক ম্যাচ জিতেছি। হয়তো সিরিজটি কঠিন হয়ে গেছে। তাই বলে জিততে পারবে না সেটা কিন্তু বলা যাবে না। আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট নতুন খেলোয়াড় খুঁজছে। আমার জায়গায় যে আসবে, তার জন্য দারুণ সুযোগ। সবাইকে শুভকামনা জানাচ্ছি। আমি আশা করবো, ভালো ফল নিয়েই দেশে ফিরতে পারবে বাংলাদেশ দল।’

/আরআই/এফআইআর/

লাইভ

টপ