টিটিতে শিষ্যের কাছে গুরুর হার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৭, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৬, জানুয়ারি ২২, ২০২০

গুরু মানস (পেছনে) চৌধুরীকে হারিয়ে দিয়েছেন মুফরাদুল খায়ের হামজাচট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে বাড়ির পাশে নবীন মেলা ক্লাব। পাড়ার বড় ভাইদের অনেকেই সেখানে গিয়ে টেবিল টেনিস খেলতেন। কৌতূহলের বশে নিজেও একদিন সেখানে যান। সেই থেকে টেবিল টেনিস খেলাটা তার  জীবনসঙ্গী হয়ে গেল। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মুফরাদুল খায়ের হামজা সজীবকে। দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মানস চৌধুরীর চোখে পড়ে যান। তিন বছর তার কাছেই নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন। আর পেয়েই কাকতালীয়ভাবে ফেডারেশন কাপ টেবিল টেনিসে গুরুকে হারিয়ে দিলেন। গুরুর কাছ থেকেই শিখে নিয়েছিলেন গুরু মারা বিদ্যা!

সদ্য সমাপ্ত এই প্রতিযোগিতার আগেও কয়েকবার মুখোমুখি হয়েছেন গুরু-শিষ্য। এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে  চ্যাম্পিয়ন মুফরাদুল।

২০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় এখানেই থেমে থাকতে চান না।স্বপ্ন দেখেন দেশের হয়ে খেলবেন, ‘লাল-সবুজ দলের প্রতিনিধি হয়ে খেলার ইচ্ছা আমার। এর জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি দেশের জন্য কিছু করতে পারি তাহলে নিজের জন্যই ভালো লাগবে।’

৪৩ বছর বয়সী মানসকে হারানোর উচ্ছ্বাস কম নয় তার মধ্যে, ‘দাদার কাছে অনুশীলন করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ফাইনালে দাদাকে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে জিততে পারবো। আমাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। জিততে পেরে আমি খুশি।’

ক্রিকেট-ফুটবলের গ্ল্যামার ছেড়ে টেবিল টেনিসে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটেতে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়া মুফরাদুল, ‘টেবিল টেনিসে ক্যারিয়ার গড়তে চাই। কিন্তু এখানে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন। তারপরেও লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলে যাবো। হ্যাঁ, ক্রিকেট কিংবা ফুটবলের দিকে নজর দিলে হয়তো ভালো করার সুযোগ থাকতো। কিন্তু টেবিল টেনিসের প্রতি আলাদা টান অনুভব করি।’

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট মুফরাদুল। বাবা ব্যবসায়ী। পরিবার থেকে ভালোই অনুপ্রেরণা পান। তাকে নিয়ে গুরু মানসও আশাবাদী, ‘ওর মধ্যে প্রতিভা আছে। ওকে আমি অনেক আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। ঠিকমতো চর্চা করতে পারলে মুফরাদুল একসময় আরও ভালো করবে।’

/টিএ/পিকে/

লাইভ

টপ