ভারত জুজু কাটবে তো!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৯:৩০, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৮, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০

ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দ্বৈরথটা শেষ কয়েক বছরে হয়ে জন্ম নিয়েছে উত্তুঙ্গ শ্বাসরূদ্ধকর লড়াইয়ে।সেটি বড়দের ক্রিকেটে হোক কিংবা ছোটদের। যার সবশেষ উদাহরণ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা সে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে পারেনি, পারেনি ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল পাকিস্তানও। বাংলাদেশ ফাইনাল খেললেও শেষ মুহূর্তে পরাজয় বরণ করেছে।
বড়দের ক্রিকেটের এমন অসংখ্য উদহারণ থাকলেও ছোটরা গত দুই বছরের মধ্যে তিনবার ভারতের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছে। হারের বৃত্তটা ভাঙতে পারেনি যদিও! এবার কি তাহলে ভারত জুজু কাটছে, নাকি আবারও না পাওয়ার বেদনায় নীল হবে বাংলাদেশ? আজ রবিবার পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু হচ্ছে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টসে ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে।

সবকিছু ছাপিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশের যুবারা। কেন হবে না? গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ব্যাট-বলে আলো ছড়িয়েছে আকবররা।

নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতও। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তারা। টুর্নামেন্টটিতে সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে চারবার। গত ১২ আসরের মধ্যে ফাইনাল খেলেছে ছয় আসরেই। চলতি টুর্নামেন্টেও দারুণ ছন্দে আছে, কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে ১০ উইকেটে।
ভারতের মতো বাংলাদেশও অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বাদে বাকি সব ম্যাচেই প্রভাব বিস্তার করা জয় পেয়েছে। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন ক্রিকেট খেলেছে-তাতে করে প্রত্যাশার বেলুন উড়ানো অযৌক্তিক নয়। আকবর আলী মনে করেন, ‘ফাইনালে সাধারণ একটি ম্যাচ বিবেচনায় খেললেই ভালো হবে। আগের ম্যাচের মতো ভারতের বিপক্ষেও নিজেদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরা সম্ভব।’

আকবররা প্রথম এশিয়া কাপ খেলেছে ২০১৮ সালে। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে ২ রানে হার মানে স্বাগতিক দল। ভারতকে ১৭২ রানে আটকে বাংলাদেশ থেমে গেছে ১৭০ রানে। গত বছর আগস্টে ইংল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও হার এড়ানো যায়নি। ২৬১ রান করে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে। এছাড়া গত সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ১০৬ রানে অলআউট করেও ম্যাচ জিততে পারেনি। ১৭ ওভার বাকি থাকতে মাত্র ১০১ রানে অল আউট হয়ে ৫ রানের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আকবর আলীর দলকে।
আজ পচেফস্ট্রুমে আরও একবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। এবার কি ভারত বাধা উতরানো সম্ভব হবে? আকবরের জবাব, ‘ভারত অনেক শক্তিশালী দল। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে চাইব। চেষ্টা করব নিজেদের সেরা খেলাটা দেখাতে। তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে, আশা করি এবার নিজেদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

এদিকে শনিবার বৃষ্টির কারণে পুরোদমে অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ইনডোরে অনুশীলন সেরেছেন, ভারতও। তবে স্বস্তির ফাইনালে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। রবিবার বৃষ্টির কারণে খেলা পরিত্যক্ত হলে তা অনুষ্ঠিত হবে পরের দিন। সেদিনও খেলা সম্ভব না হলে ঘোষণা করা হবে যৌথ চ্যাম্পিয়ন।

বাংলাদেশ যুব দলের ম্যানেজার কায়সার আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আজকেও বৃষ্টির শঙ্কা আছে। তবে এখানকার মাঠের অবস্থা বেশ ভালো। আশা করছি খেলা হবে। নাহলে রিজার্ভ ডে তো আছেই।’

ফাইনালে একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। কোয়ার্টার ফাইনাল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে স্পিন দিয়ে কাবু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হয়তো আলাদা পরিকল্পনা করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বরাবরই স্পিনের বিপক্ষে শক্তিশালী। এ জন্য হয়তো একটি পরিবর্তন আসতে পারে বাংলাদেশের একাদশে। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের জায়গায় দলে সুযোগ পেতে পারেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার অভিষেক দাস।

বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে উঠলে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কথা ছিল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের। দক্ষিণ আফ্রিকা যাবেন বলে ভিসাও করে রেখেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বিসিবি প্রধানকে হঠাৎ যেতে হয়েছে লন্ডনে। ফলে তার দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাওয়া হচ্ছে না। তবে সেমিফাইনালের আগে দলের খেলোয়াড়দের ভিডিও বার্তায় সাহস দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন, বোর্ড প্রধানের সাহস দেওয়াতে হয়তো ভয়ডরহীন ক্রিকেট-ই খেলবে আকবর-শামীমরা।

 

/আরআই/এফআইআর/

লাইভ

টপ