চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসি-রোনালদোকে ছাড়িয়ে হল্যান্ড

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:০২, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০২, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

erling-haaland-borussia-dortmund-2019-20_m2o2zgvd8cn21u572xk6ler7p

আর্লিং ব্রাউট হল্যান্ডের মাঝে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ছায়া খুঁজে পাচ্ছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু নরওয়ের স্ট্রাইকার নিজের রাজ্য নিজেই গড়ে তুলছেন। নরওয়ের এ ‘বিস্ময়বালক’ ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পরবর্তী প্রজন্মের সুপারস্টার  বলা হচ্ছে তাকে। সময়ের অন্যতম সেরা দুই তরুণ খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমারের মুখোমুখি হয়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড স্ট্রাইকার দেখিয়ে দিলেন, তিনিও এসেছেন সেরা হতেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের এ মৌসুমে রেডবুলস সলসবুর্গের হয়ে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন হল্যান্ড। টানা ৫ ম্যাচে গোল করে যোগ দেন আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, নেইমার, রোনালদো ও রবার্ট লেভানদোভস্কিদের কাতারে। অস্ট্রিয়ান ক্লাবটি থেকে এ বছরের জানুয়ারিতে নতুন ঠিকানা খুঁজে নেন। সাড়ে চার বছরের চুক্তিতে যোগ দেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। সেখানেও অনন্য হল্যান্ড। ডর্টমুন্ডের ইতিহাসে পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াংয়ের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লিগ অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন। তাও আবার ৫৬ মিনিটে বদলি নেমে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী কোলনের বিপক্ষেও বদলি হয়ে মাঠে নামেন এবং ২২ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন। প্রথম বুন্দেসলিগা খেলোয়াড় হিসেবে হল্যান্ড শুরুর দুই ম্যাচে সবচেয়ে কম ৫৬ মিনিটে ৫ গোল করে ইতিহাস গড়েন। জার্মানির শীর্ষ লিগে জানুয়ারির সেরা খেলোয়াড় হন তিনি।

ডর্টমুন্ডের হয়ে প্রথমবার বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেন, কিন্তু গোল হয়নি। তবে গত শুক্রবার এইনট্রাখ্ট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে ৫৪ মিনিটে গোল করে প্রথম ৫ ম্যাচে ৮ গোলের মালিক হন, এটাও বুন্দেসলিগা রেকর্ড।

অবশেষে ডর্টমুন্ডের হয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে করলেন জোড়া গোল। ঘরের মাঠে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৬৯ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন পিএসজি গোলকিপার কেইলর নাভাসের ফিরিয়ে দেওয়া বল জালে জড়িয়ে। ৬ মিনিট পর নেইমার গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান। কিন্তু নায়ক হতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। সব আলো কেড়ে নেন নরওয়ের ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। ৭৭ মিনিটে জিওভানি রেইনার পাসে দ্বিতীয় গোল করে জেতান জার্মান ক্লাবকে।

প্রথম ‘টিনএজার’ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে সবচেয়ে কম ৭ ম্যাচ খেলে ১০ গোলের রেকর্ড হল্যান্ডের। এমন কীর্তি মেসি-রোনালদোরও নেই! এ মৌসুমে ৩৭ গোল তার। ডর্টমুন্ডের হয়ে ৭ ম্যাচে ১১ গোল। তারপরও বললেন এখনও নিজের সেরাটা দেওয়ার বাকি, ‘ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে আমি আনন্দিত। কিন্তু আমার মনে হয় আরও উন্নতি করতে হবে আমাকে। এ পর্যায়ে আমাকে আরও ভালো খেলতে হবে, উন্নতি করতে খাটতে হবে।’

শুধু ফ্রি-কিক ছাড়া সবভাবেই গোল করেছেন তরুণ নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। বাঁ পায়ে, ডান পায়ে, হেড করে, বক্সের ৬ গজ দূর থেকে, বক্সের বাইরে থেকে, পেনাল্টি আর কাউন্টার অ্যাটাক থেকেও জাল কাঁপান তিনি। ৬.৪ ফুটের দীর্ঘাদেহী হল্যান্ড, তারপরও পায়ের দারুণ কাজের সঙ্গে ক্ষিপ্রগতির দৌড় ব্যতিক্রমই বলা চলে। পিএসজির বিপক্ষে কাল মাত্র ৬.৬৪ সেকেন্ডে ৬০ মিটার দৌড়েছেন, বিশ্ব রেকর্ড ৬.৩৪ সেকেন্ডের।

সব্যসাচী হওয়াটাই তো হল্যান্ডের জন্য স্বাভাবিক। তার বাবা ও সাবেক ফুটবলার আলফ ইনজে বলেছেন, ‘তার ফুটবল খেলার আগে আমরা তাকে অ্যাথলেটিকসে নিয়ে যেতাম যাতে সে নিজেকে যাচাই করতে পারে। সে হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিকস, ক্রস কান্ট্রি স্কিয়িং করেছে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত। নরওয়ের হ্যান্ডবল ম্যানেজার তো তাকে হ্যান্ডবলে দেখতে চেয়েছিল।’ যদি তা-ই হতো, ভাবুন তো- ফুটবলের কতটা ক্ষতি হতো!

/এফএইচএম/পিকে/

লাইভ

টপ