হরিণের চামড়ার ওপর সৌম্যর আশীর্বাদ, ব্যাখ্যা দিলেন তার বাবা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৪৯, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৭, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

হরিণের চামড়ার আসনে হয় সৌম্যর আশীর্বাদহরিণের চামড়ার তৈরি আসনে সৌম্য সরকারের আশীর্বাদের বেশকিছু ছবি ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো নিয়ে যেমন চলছে আলোচনা, সমান্তরালে হচ্ছে সমালোচনা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের শাস্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে কেউ কেউ হরিণের চামড়ার ওপর আশীর্বাদের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে পুরো ব্যাপারটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সৌম্যর বাবা কিশোরী মোহন সরকার।

সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে এখন অবসরে মোহন সরকার। ছেলে সৌম্যর কৃর্তিতে তার পরিচিতি এখন আরও বেড়েছে। তবে খ্যাতির যে ‘বিড়ম্বনা’ আছে, সেটি খুব ভালো করে টের পাচ্ছেন সৌম্যর আশীর্বাদ অনুষ্ঠান দিয়ে। হরিণের চামড়ার ওপর দাঁড়িয়ে হওয়া আশীর্বাদে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে ‘সরকার পরিবার’।

যদিও বাংলা ট্রিবিউনের কাছে মোহন সরকার জানিয়েছেন, হরিণের চামড়ার আসনটি তার পারিবারিক ঐতিহ্যের নিদর্শন, ‘এই হরিণের চামড়াটি বহু পুরানো। এটির ওপর বসে প্রার্থনা করা হয়, যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এটি পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে বংশানুক্রমে আমার পাওয়া। আমি আমার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমার জানা মতে, আমার বাবা পেয়েছিলেন দাদুর কাছ থেকে। তবে এটি প্রথমে কে ব্যবহার করেছিলেন, সেটা আমার জানা নেই।’

এতদিন এই আসনের ওপর প্রার্থনা করা হলেও সৌম্যর আশীর্বাদের ছবিতে অন্য কিছু খোঁজা হচ্ছে বলে দাবি মোহন সরকারের, ‘আমার পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া আরও অনেক জিনিস আমার কাছে আছে। সৌম্য আমার ছোট ছেলে। তার বিয়ে নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে হরিণের চামড়ার বিষয়টি নিয়ে একটি দল তিলকে তাল করার চেষ্টা করছে। অতি উৎসাহী হয়ে একটি বিশেষ মহল রঙ লাগিয়ে আমার পারিবারিক ঐতিহ্যকে ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।’

হরিণের চামড়ার আসনে হয় সৌম্যর আশীর্বাদছবিতে দেখা যায়, হরিণের চামড়ার তৈরি আসনের ওপর কখনও বসে কখনও দাঁড়িয়ে সৌম্য। তার আশীর্বাদের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এটির ওপরই।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের হরিণের চামড়ায় আশীর্বাদের বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘যেহেতু এটা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের ব্যাপার, বংশানুক্রমে তারা এটি পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে প্রার্থনা করে আসছে, তাই এ বিষয়টি স্পর্শকাতর তো বটেই। আমরা আমলে নিচ্ছি না। তবে কেউ অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক বিবেচনা করা হবে।’

পারিবারিক আয়োজনে গোপনে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও কনে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পূজার সঙ্গে সৌম্যর জানাশোনা অনেক আগে থেকেই। সোমবার খুলনায় কনের বাড়িতে হয়েছে আশীর্বাদ অনুষ্ঠান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা শহরের মধ্য কাটিয়া এলাকায় নিজের বাড়িতে সম্পন্ন হয় সৌম্যর আশীর্বাদ।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ