নাপোলির মাঠে বার্সার ড্র

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:৫৭, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৩, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

2020-02-25T212523Z_441077192_RC2X7F9GTVGX_RTRMADP_3_SOCCER-CHAMPIONS-NAP-FCB-REPORTচ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে কোনও ইতালিয়ান ক্লাবের মাঠে গত পাঁচ ম্যাচে সুবিধা করতে পারেনি বার্সেলোনা। মঙ্গলবার নেপলসেও তারা ভাগ্য বদলাতে পারেনি। পিছিয়ে পড়েও শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ড্র করেছে কাতালান জায়ান্টরা। তবে অ্যাওয়ে গোলের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। নাপোলির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ১০ জনের বার্সেলোনা।

২০০৬ সালে এসি মিলানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল বার্সা। তারপর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট খেলতে ইতালিতে গিয়ে ৬ ম্যাচ জয়হীন থাকলো দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১৮ মার্চ ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগে নাপোলিকে স্বাগত জানাবে বার্সেলোনা।  

এইবারের বিপক্ষে চার গোল করা লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দী রাখায় পুরোপুরি সফল নাপোলির রক্ষণভাগ। প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ৯ মিনিটে। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের পাসে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে চাপের মুখে শট নেন, বল চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে।

এরপর থেকে ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জয়ী বল পায়ে পেলেও লক্ষ্যে শট নেওয়ার আগেই থামতে হয়। মেসিকে নিষ্ক্রিয় রাখার পাশাপাশি বার্সার বক্সে ব্যস্ত সময় কাটায় ইতালিয়ান জায়ান্টরা। ৩০ মিনিটে জুনিয়র ফিপরোর ভুলের মাশুল দিতে হয় কাতালানদের। বার্সা ডিফেন্ডার বলের দখল হারালে পিওতোর জিয়েলনিস্কি সহজেই আক্রমণে যান, বল বাড়ান বাঁ দিকে। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন দ্রিয়েস মের্টেন্স, উঁচু শটে মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১২১তম গোল করে নাপোলির মারেক হামসিকের সঙ্গে যুগ্ম শীর্ষ গোলদাতার আসনে বসেন মের্টেন্স।

বিরতিতে যাওয়ার আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল নাপোলি। কাছের পোস্টে বল বাড়ান হোসে ক্যালেয়ন, কস্তাস মানোলাসের নিচু শট ডানপোস্টের কয়েক ইঞ্চি বাইরে দিয়ে যায়।

ম্যাচ ঘড়ি ঘণ্টা পেরোনোর আগেই বার্সা সমতা ফেরায়। সার্জি বুশকেৎস বল দেন নেলসন সেমেদোকে, তার পাস থেকে বক্সের মাঝে অরক্ষিত থাকা আন্তোয়ান গ্রিজমান ৫৭ মিনিটে করেন ১-১। ২০১৭ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তিন বছর আগে বায়ার লেভারকুসেনের মাঠে গোলটি করেন আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে।

৬১ ও ৬৩ মিনিটে দুটি সেভে বার্সাকে রক্ষা করেন আন্দ্রে টের স্টেগেন। কিছুক্ষণ পর গোলমুখের সামনে মেসিকে আটকাতে গিয়ে তার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় নাপোলি গোলকিপার ওসপিনার। ডান কাঁধে আঘাত পান তিনি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড দেখেন হলুদ কার্ড। ৭৬ মিনিটে তার কর্নার থেকে উমতিতি ঠিক সময়ে হেড নিতে না পারায় সুযোগ হারায় অতিথি দল। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে মেসির পাস থেকে আর্থারের শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

ম্যাচে উত্তাপের কমতি ছিল না। মেসির সঙ্গে বার্সার আক্রমণভাগের বাকি দুই খেলোয়াড়ও দেখেছেন হলুদ কার্ড। সবচেয়ে বড় ধাক্কা তারা খেয়েছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আর্তুরো ভিদালের দুটি হলুদ কার্ডে। ৮৯ মিনিটে মারিও রুইকে কঠিন ট্যাকল করার পর তাকে ঢুশ দেওয়ার শাস্তি পান চিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তাতে দ্বিতীয় লেগে বার্সার হয়ে খেলতে পারবেন না তিনি। শঙ্কা রয়েছে জেরার্দ পিকেকে নিয়েও। গোড়ালির চোটে বদলি মাঠ ছাড়তে হয় বার্সার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকে।

নাপোলির হয়ে গোল করা মের্টেন্সও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছেন। তাতে ন্যু ক্যাম্পে যাওয়ার আগে তারাও খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছে না।

দিনের আরেক ম্যাচে ৩-০ গোলে চেলসিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে বায়ার্ন মিউনিখ। রবার্ট লেভানদভস্কির নৈপুণ্যে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। তিন গোলেই অবদান রাখেন পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার।

৮৩ মিনিটে মার্কো আলোনসোর লাল কার্ডে ১০ জনের দল হওয়ার আগেই চেলসি সব গোল হজম করে। লেভানদভস্কির অ্যাসিস্টে ৫১ ও ৫৪ মিনিটে দুটি গোল করেন সার্জ ন্যাব্রি। পোলিশ স্ট্রাইকার স্কোর ৩-০ করেন ৭৬ মিনিটে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ