সাকিবের ৩৩তম জন্মদিনে...

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:০৫, মার্চ ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৪, মার্চ ২৪, ২০২০

আজ (মঙ্গলবার) ৩৩ বছর পূর্ণ হলো সাকিব আল হাসানের। বাংলাদেশি অলরাউন্ডার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব গোপন করায় এই মুহূর্তে সব ধরনের ক্রিকেট কর্মকাণ্ড থেকে দুই বছর নিষিদ্ধ, যার মধ্যে আছে এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। ২২ গজের ব্যাট-বল হাতে নিজেকে এমন উঁচুতে তুলেছেন যে, নিষেধাজ্ঞায় থাকার সময়ও আলোচনায় তিনি।

বাংলাদেশের তো বটেই, ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় তিনি উঠিয়েছেন নিজের নাম। সাকিবের ৩৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ক্রিকইনফোয় পরিসংখ্যান নির্ভর একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। যেখানে সাকিবকে উল্লেখ কর হয়েছে ‘সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার’ হিসেবে। সেরা অলরাউন্ডার নির্ণয়ে ব্যাটিং গড়ের সঙ্গে বোলিং গড় বিয়োগ করা হয়। এই জায়গায় চলতি শতাব্দীতে সাকিবের ওপরে আছেন কেবল দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিস।

টেস্টে সাকিবের ব্যাটিং গড় ৩৯.৪, আর বোলিংয়ে ৩১.১২। তার গড়ের ৮.২৭ পার্থক্য বর্তমান সময়ের যেকোনও অলরাউন্ডারের চেয়ে ভালো। বেন স্টোকসের গড় পার্থক্য ৩.৮৬। ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পার্থক্যটা ২.৬৭। ২ হাজার রান ও ১০০ উইকেট নিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকে এমন অলরাউন্ডারের তালিকায় ক্যালিসের পরই সাকিব।

আর যদি এই ক্যাটাগরিতে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের তালিকায় যাওয়া যায়, সেখানে সাকিবের ওপরে আছেন শুধু পাঁচজন। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের গড় পার্থক্যে তার চেয়ে এগিয়ে গ্যারি সোবার্স (২৩.৭৪), ক্যালিস (২২.৭১), ইমরান খান (১৪.৮৮), কিথ মিলার (১৩.৯৯) ও শন পোলক (৯.১৯)। সাকিবের চেয়ে পিছিয়ে আছেন টনি গ্রেগ (৮.২৩), ইয়ান বোথাম (৫.১৪), রিচার্ড হ্যাডলি (৫.১৪), ক্রিস কেয়ার্নস (৪.৮৬) ও কপিল দেবের (১.৪) মতো তারকারা।

ওয়ানডের কথা এলেও সাকিবের নামটা জ্বলজ্বল করছে। ব্যাটিং-বোলিং গড়ের পার্থক্যে টেস্টে মতো ওয়ানডেতেও তার ওপরে কেবল পাঁচজন। ২০০০ রান ও ১০০ উইকেট পেয়েছেন এমন অলরাউন্ডারের তালিকায় সাকিবের গড় ব্যবধান ৭.৬৪। তার ওপরে আছেন ক্যালিস (১২.৫৬), ভিভ রিচার্ডস (১১.১৬), ল্যান্স ক্লুজনার (১১.১৫), শেন ওয়াটসন (৮.৭৪) ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (৮.৫৮)।

নির্দিষ্ট কোনও টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়া খুব কঠিন কাজ ক্রিকেটে। সাকিব সেটি করে দেখিয়েছেন। ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানের পর মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কীর্তিটি গড়েন সাকিব। প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে ৫ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৪৪ রানে ৫ উইকেট। তার সঙ্গে ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রান করে ৩১ বছর পর এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়ার স্মৃতি ফিরিয়েছিলেন তিনি।

কেন সাকিব সব সংস্করণে অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার, তার আরও কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

  • টেস্টের দ্রুততম ৩ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের রেকর্ড সাকিবের দখলে। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার লেগেছিল ৫৪ টেস্ট, বোথাম খেলেছিলেন এক ম্যাচ বেশি।
  • ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট সাকিবের ওয়ানডে অভিষেকের পর মাত্র তিন ক্রিকেটার- বিরাট কোহলি (৩৬), এবি ডি ভিলিয়ার্স (২৭) ও তিলকরত্নে দিলশান (২৪) তার চেয়ে বেশি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। সাকিব পুরস্কার জিতেছেন ২১বার।
  • সাকিব মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ হাজার রান ও ২৫০ উইকেট নিয়েছেন। অন্যরা হলেন ক্যালিস, আব্দুল রাজ্জাক, সনাথ জয়াসুরিয়া ও শহীদ আফ্রিদি।
  • বাংলাদেশের তিন সংস্করণে রান কিংবা উইকেটে সেরা তিনের মধ্যে আছেন সাকিব। টেস্টে রান সংগ্রহে (৩,৮৬২) তিন নম্বরে থাকলেও উইকেট সংখ্যায় (২১০) সবার ওপরে। ওয়ানডেতে রান (৬,৩২৩) ও উইকেটে (২৬০) দ্বিতীয় স্থানে। আর টি-টোয়েন্টিতে রানে (১,৫৬৭) দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও উইকেট সংখ্যায় (৯২) শীর্ষে।
/কেআর/

লাইভ

টপ