উইঙ্গার নয়, নিজেকে পুরোপুরি স্ট্রাইকারই ভাবেন জীবন

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ২১:১০, এপ্রিল ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৬, এপ্রিল ০৮, ২০২০

 

নাবিব নেওয়াজ জীবনএমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। অনেক বিদেশি কোচ ও খেলোয়াড়ও বলে থাকেন, স্থানীয় ফরোয়ার্ডদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে। যে কারণে তারা নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেন না। এই তো কিছুদিন আগে রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিনদ্রেসও এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই উচ্চারণ করেছেন। আসলেই কি তাই? বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা কী বলছেন? জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার নাবিব নেওয়াজ জীবন অবশ্য এমনটা মানেন না।

বেশ কয়েক বছর ধরে আবাহনীর পাশাপাশি জাতীয় দলে খেলে যাচ্ছেন জীবন। ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত উপস্থিতি। এছাড়া জেমি ডেরও ‘অটোমেটিক চয়েস’। আত্মবিশ্বাসের কমতি নিয়ে জীবনের ব্যাখ্যা, ‘আত্মবিশ্বাস ঠিকই থাকে। যখন গোল মিস করি তখন হয়তো কিছুটা আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তখন নিজের কাছে খারাপ লাগে। গোল পেলে আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। পরের ম্যাচে ভালো খেলার আরও প্রেরণা পাই।’

ঘরোয়া ফুটবলে সবকটি দলেরই ফরোয়ার্ড পজিসনে বিদেশি খেলোয়াড়দের আধিক্য। সেখানে স্থানীয়দের লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। জীবন অবশ্য বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করলেন একটু অন্যভাবে। উদাহরণ হিসেবে নিজ দলের স্ট্রাইকার সানডেকে সামনে নিয়ে এলেন,‘সানডে বিদেশি খেলোয়াড়। ও জানে ও খেলতে পারবে। এছাড়া শারীরিক শক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে। অন্য বিদেশি খেলোয়াড়েরাও জানে ওরা মিস করলেও ওরা পরের ম্যাচে খেলতে পারবে। তখন দেখা যায় তারা গোলও পেয়ে যায়। কিন্তু দেশি স্ট্রাইকাররা তো খেলার সুযোগ কম পায়। এক ম্যাচ খারাপ করলে তো পরের ম্যাচে খেলার সুযোগও কম আসে। তখন স্বাভাবিকভাবে আমাদের আত্মবিশ্বাসও কমে যায়।’

আবাহনীতে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে কখনও উইংয়ে খেলে থাকেন জীবন। আবার জাতীয় দলে জেমি ডের ৪-১-৪-১ ফর্মেশনে তিনিই একমাত্র স্ট্রাইকার। জীবন নিজের পজিসন নিয়ে তাই একটু দ্বিধান্বিত থাকেন, ‘দেখুন আমি কিন্তু একেক সময় একেক পজিসনে খেলছি। কোনও সময় স্ট্রাইকার। আবার কোনও সময় উইঙ্গার। নিজের জায়গা ঠিক থাকে না। আমি যদি নিয়মিত স্ট্রাইকার খেলতে পারতাম তাহলে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তে পাতো। গোলও পেতে পারতাম। কিন্তু তা তো সম্ভব না। বিদেশিরা যে ওই পজিসনে খেলে থাকে।’

আবাহনী লিমিটেডের হয়ে গত মৌসুমে ১৭ গোল করে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। এবার দুই গোল করেছেন। জীবন সরাসরি বলেই দিলেন, ‘বিদেশিরা আমাদের চেয়ে কিছু দিক দিয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। আমরা কিন্তু আবার অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে থাকি। আমি এটা সরাসরি বলেই দিতে পারি, যদি সানডের বদলে আমি মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে পারি তাহলে অনেক গোল পাবো। এতে যেমন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। কিন্তু তা তো সম্ভব হচ্ছে না।’

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে খেললেও (২৭ ম্যাচ) তার ক্যারিয়ারে গোল মাত্র চারটি। আর জাতীয় দলের কোচ ডে তো সবসময়ই বলেন ঘরোয়া লিগে স্থানীয় স্ট্রাইকারদের খেলাতে। যতদিন পর্যন্ত তা না হবে ততদিন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের নিয়ে দুশ্চিন্তাও কমবে না।

জীবনের কন্ঠে এ নিয়ে হতাশারই সুর বাজে, ‘আপনি যদি ঘরোয়া ফুটবলে নিজের মতো খেলতে না পারেন তাহলে জাতীয় দলেও এর প্রভাব পড়বে। এছাড়া নিজেদের কিছু ভুল-ত্রুটি থাকে সেটা শোধরানোর বিষয় তো আছেই। নিজেদের কোয়ালিটি যত বাড়ানো যাবে ততই উন্নতি হবে।’

 

 

 

/টিএ/পিকে/

লাইভ

টপ