করোনায় করুণ দশার কথা তুলে ধরলেন এক হকি খেলোয়াড়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২৯, এপ্রিল ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৯, এপ্রিল ১৯, ২০২০

বাপ্পী কুমার ঘোষ।এমনিতেই ঘরোয়া হকি লিগ অনিয়মিত। তার ওপর প্রিমিয়ার হকি লিগ খেলে যে সবাই বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পান, বাস্তবতাও তেমন নয়। অথচ এই অনিয়মিত লিগই অনেক খেলোয়াড়ের রুটি-রুজির মূল উৎস। পাশাপাশি কোচিং করিয়েও জীবিকা নির্বাহ করেন কেউ কেউ।

কিন্তু করোনাভাইরাস এসে এসব কিছুই স্থবির করে দিয়েছে। যার ফলে নির্মম বাস্তবতার মধ্যে পড়েছেন অনেকে। যেমনটি ঘটেছে রাজশাহীর খেলোয়াড় বাপ্পী কুমার ঘোষের বেলায়। অনিয়মিত লিগ আর সীমিত কোচিংয়ের ওপর ভর করে চলতো তার পরিবার।

দুই বছর হলো লিগ নেই। স্থানীয় বৈকালি যুব সংঘকে কোচিং করিয়ে সামান্য হাত খরচ পেতেন। এছাড়া সার্ভিসেস দলে আন্ত ইউনিটে চুক্তিভিত্তিক কোচিং করিয়েও কিছু টাকা আসতো। কিন্তু করোনার কারণে এসব কিছুই এখন বন্ধ।

বাপ্পীর ছোট পরিবারে আছেন তিনজন- বাবা-মা ও বাপ্পী। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় ছোট এই পরিবার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। ২০০৮ সালে প্রিমিয়ার হকি লিগে অভিষেক হওয়া এই খেলোয়াড় তুলে ধরলেন তার করুণ দশার কথা, ‘খেলার পাশাপাশি কোচিং করিয়ে যা কিছু আসতো, তা দিয়েই কোনওভাবে সংসার চলছিল। অনেক দিন ধরে লিগ নেই। তার ওপর করোনার কারণে কোচিংও সেভাবে হচ্ছে না। স্থানীয় বৈকালি সংঘ থেকে কয়েক হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু তা দিয়ে কী হয়?’

এর পরেই বাপ্পীর মুখ ফুটে বের হলো অনিশ্চিত জীবন নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন তিনি, ‘বাবার ওষুধ খরচও তো অনেক। সামনে যা দিন আসছে, তাতে করে বৈকালি সংঘ থেকে আগামীতে সম্মানি পাবো কিনা, জানি না। এছাড়া এই বছর সার্ভিসেস বাহিনীর ইউনিটে কাজ পাবো কিনা, তাও জানি না। এখন ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছি।’

১২ বছরে ৬টি লিগ হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে সাধারণ বীমাতে খেলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন বাপ্পী। এই হকির ওপর নির্ভর করেই চলছেন এখনো, ‘মূলত হকির ওপর নির্ভর করেই চলছে অমার পরিবার। প্রতি মাসের হকি লিগ হলে সুবিধা হতো। তা তো হচ্ছে না। আমাদের কোনও সঞ্চয় নেই। দিন আনি, দিন খাইয়ের মতো, যা পাচ্ছি তা দিয়েই সংসার চালাচ্ছি। আগামী মাসে কী হবে জানি না।’

বাপ্পীর মতো অবস্থা অনেক হকি খেলোয়াড় ও কোচের। জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার মওদুদুর রহমান শুভ অবশ্য ফেডারেশনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আমাদের আনাচে-কানাচে অনেক খেলোয়াড় কিংবা কোচের দূরাবস্থা। আমি মনে করি ফেডারেশন ও বাইরে যারা আছেন, সবাই মিলে যদি তাদের জন্য কিছু করতে পারি, তাহলে তাদের পরিবার এই যাত্রায় বেঁচে যাবে।’

পরিস্থিতি সামলাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ আশার বাণী শোনালেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। যারা দুস্থ খেলোয়াড়-কোচ কিংবা সংগঠক আছেন, তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা। যদিও আমাদের ফেডারেশনের তহবিল সীমিত। আশা করছি, দ্রুতই কিছু একটা হবে।’

করোনাকালে তাই ফেডারেশন যত দ্রুত ব্যবস্থা নিবে, তত দ্রুত তা বাপ্পীদের মতো খেলোয়াড়দের মঙ্গল বয়ে আনবে।

/টিএ/এফআইআর/

লাইভ

টপ