বাউন্ডারির সংখ্যায় বিশ্বকাপ, এখনও পোড়ায় কিউই অধিনায়ককে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২৭, মে ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, মে ২১, ২০২০

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে উইলিয়ামসন২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা কেউই ভুলতে পারবে না। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের ওই ম্যাচটির পরতে পরতে ছিল রোমাঞ্চ। বৃহস্পতিবার তামিমের সঙ্গে লাইভ আড্ডায় রোমাঞ্চকর সেই  ফাইনাল নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দুই বলে কোনও রান নিতে পারেননি বেন স্টোকস। তৃতীয় বলে দারুণ এক ছক্কা মারেন, আবার পরের বলেই সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ৬ রান পেয়ে যান। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের থ্রোয়ে তার ব্যাটে বল লেগে বাউন্ডারি হয়ে যায়। শেষ দুই বলে দুটি রান আউট হলেও স্কোর সমান ছিল। তাতে  ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড তোলে ১৫ রান। এই রান তাড়ায় জফরা আর্চারের প্রথম দুই বলেই পেয়ে যায় তারা ৯ রান। প্রথম বল ওয়াইডের পর জিমি নিশাম ৬ মারেন। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ২টি করে রান নেন নিশাম। তাতে শেষ ২ বলে ৩ রান দরকার ছিল কিউইদের। পঞ্চম বলে দৌড়ে একটি রান নেন নিশাম। তাতে শেষ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২ রানের। মার্টিন গাপটিল দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। তিনি সীমানায় পৌঁছানোর আগেই জেসন রয়ের থ্রো থেকে বাটলার বল হাতে নিয়ে ভেঙে দেন স্টাম্প। সুপার ওভারও টাই হলে ৫০ ওভারের ইনিংসে বাউন্ডারি বেশি থাকায় জিতে যায় ইংল্যান্ড।

এমন একটি ম্যাচ হেরে মাঠেই ভেঙে পড়েছিলেন কিউই ক্রিকেটাররা।  কিভাবে পুরো ড্রেসিংরুমকে সামলেছেন সেটাই তামিম জানতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক উইলিয়ামসনের কাছে। তামিমের প্রশ্নের জবাবে উইলিয়ামস বলেছেন,  'বাউন্ডারির সংখ্যা গণনায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্যাপারটা আমারকাছে অদ্ভুত ও মজার মনে হয়েছে। ইংল্যান্ডে চলা বিশ্বকাপের দুই মাসের সময়টাতে  খুবই মনোযোগী থাকতে হয়েছে। ফাইনালে শিরোপার সমাধান যেভাবে হলো সেটা মেনে নেওয়া  কঠিন। এখনও অনেকে আছেন, যারা বিষয়টি বুঝতে চান না।'

তবে ট্রফি জিততে না পারলেও ফাইনালে খেলার অর্জনটি কম মনে হয় না উইলিয়ামসনের কাছে, ‘বিশ্বকাপ থেকে যা অর্জন করেছি সেটার জন্যই আমরা গর্বিত। যেভাবে বিশ্বকাপেআমরা পারফরম্যান্স করেছি তাতে গর্বিত। তবে দিন শেষে ফাইনালটা এমন জিনিস যা আপনার হাতে নেই।'

এর আগের ২০১৫ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অবিশ্বাস্যভাবে সেমিফাইনাল জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। ওই ম্যাচটি নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন কিউই অধিনায়ক, ‘আসলে ওটা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের এক ম্যাচ, অসাধারণ এক ম্যাচ। তার ওপর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। সেটিও আমাদের ঘরের মাঠ। আমরা সে ম্যাচে সমর্থকদের দারুণ সমর্থন পেয়েছিলাম। আসলে জয়ের পর পুরো মাঠে অন্যরকম আবহ বিরাজ করছিল।’

প্রোটিয়াদের হারিয়ে ফাইনালে গিয়ে সেবারও ট্রফি জেতা হয়নি নিউজিল্যান্ডের। তামিমের সঙ্গে আলাপে পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে হার নিয়ে উইলিয়ামসন বলেছেন, ‘আমরা ভাবি যে, বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। এটা সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশ্বকাপে আমাদের সামগ্রিক  অর্জনের জন্যই প্রশংসিত হয়েছি, শুধু  ফাইনালের জন্য নয়।’

 

/আরআই/পিকে/

লাইভ

টপ