লারার অপরাজিত ৫০১ রানের ইনিংসের আজ জন্মদিন!

Send
পবিত্র কুন্ডু
প্রকাশিত : ১৯:২১, জুন ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৯, জুন ০৭, ২০২০

অপরাজিত ৫০১ রানের ইনিংসের পর লারাআজ ৬ জুন, একটি জন্মদিন। ২৬ বছর ধরে এই জন্মদিনটি পালন করা হচ্ছে । ‘পালন’ মানে শুধুই স্মরণ। স্মৃতি তর্পণে কেক যদিও কাটা যেতে পারে, ফুলের মালা এটির গলায় তুলে দেওয়ার উপায় নেই। পারলে তাও করা হতো। তবে অনন্তকাল ধরেই হয়তো এটি স্মৃতির সরণিতে জ্বলজ্বল করবে। যদিও এটি নিতান্তই এক বিমূর্ত বিষয়। অপরাজিত ৫০১ রানের একটি ইনিংস! এখনও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। ১৯৯৪ সালের ৬ জুন যেটি জন্ম নিয়েছিল ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান চার্লস লারার ব্যাটে।

টেস্ট সর্বোচ্চ ৪০০ রানের ইনিংসটির মালিক হয়েছেন পরে। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তখনকার টেস্ট সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলে ইংলিশ কাউন্টি ওয়ারউইকশায়ারে খেলতে আসেন ব্রায়ান লারা। প্রত্যাশামতোই `ত্রিনিদাদের রাজপুত্র’ বিরাট সেনসেশন, তার খেলা থাকলে মাঠ লোকারণ্য। ওয়ারউইকশায়ারের প্রধান নির্বাহী ডেনিস অ্যামিস তো নিজেদের মহাভাগ্যবান ভাবেন ৩৭৫ রানের আগে তাকে সাইন করাতে পেরে। চুক্তি ছিল ৪০ হাজার পাউন্ডের, এক সপ্তাহ পরে অঙ্কটা কম করে হলেও হতো ১ লাখ পাউন্ড!

অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন গ্লামরগনের বিপক্ষে। সেই থেকে প্রতিটি ম্যাচেই ওয়ারউইকশায়ার সমর্থকদের কাছে দুর্নিবার এক আকর্ষণ লারা। প্রথম দিন থেকেই তার ব্যাটিং দেখার সুযোগ না মিললে জমে হতাশা। ঘরের মাঠ এজবাস্টনের এ ম্যাচে হতাশাই জমলো। ২ জুন ডারহাম টস জিতে নিলো ব্যাটিং। নিষ্প্রাণ উইকেট, দেড়দিন ধরে ব্যাট করে ডারহাম ৮ উইকেটে ৫৫৬ রানে ঘোষণা করলো ইনিংস। দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ারউইকশায়ার ৮ রানে হারায় প্রথম উইকেট, তারপর নামেন লারা। ১১১ রানে শেষ করেন দিন। পরের দিন একটি বলও মাঠে গড়াতে দেয়নি অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। শেষদিনেই ৩৯০ রান করে হানিফ মোহাম্মদের ৩৫ বছরের অমলিন রেকর্ডটিকে ভেঙে দেন লারা, প্রথম সেসনেই করেন ১৭৪ রান।  ৪৭৪ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ৪১৭ বলের মুখোমুখি হয়ে ৬২ চার ও ১০ ছক্কায় অপরাজিত ৫০১ রান করে যখন ফিরে আসেন ড্রেসিংরুমে, পেছনে পড়ে গেছে হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯। ১৯৫৯ সালে যে ইনিংসটি পাকিস্তানের ‘লিটল মাস্টার’ করাচির হয়ে খেলেছিলেন বাহওয়ালপুরের বিপক্ষে। ৩৭৫ রানের টেস্ট ইনিংসটির ঠিক দুইমাস পর লারার অপরাজিত ৫০১ আর কিথ পাইপারের অপরাজিত ১১৬ রানের সৌজন্যে ৪ উইকেটে ৮১০ রান করেছিল ওয়ারউইকশায়ার। দুটি করে ইনিংসই শেষ হতে পারেনি, ম্যাচের ভাগ্যে ড্র ছাড়া আর কিছু ঘটা সম্ভব ছিল না। তবে ঘটতেও পারতো যদি লারাকে সঙ্গ না দিতো সৌভাগ্য। ১২ রানে বোল্ড হয়েছিলেন নো-বলে, ১৮ রানে তার ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন উইকেটকিপার ক্রিস স্কট। ক্যাচটি ফেলে স্কটকে বলতে শোনা যায়, ‘ওহ্ ডিয়ার, সে তো চালিয়ে যাবে এবং সম্ভবত সেঞ্চুরি পাবে।’ শুধু সেঞ্চুরি, হয়ে তো গেছে পাঁচশো রান! কুইন্টিপুল সেঞ্চুরি।

একটি দলের ১১ জন মিলেই প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫০০ রান সচরাচর বেশি করতে পারেন না। সেখানে একজনের ব্যাট থেকেই অপরাজিত ৫০১! এই ইনিংসটির দিকে তাই মাথা উঁচু করেই তাকাতে হয়। বিস্ময়ে ও শ্রদ্ধায়, দুই অর্থেই। কতদিন রেকর্ডটি অমলিন থাকে বলবে সময়। তবে রেকর্ড হয় ভাঙার জন্যই। রানআউটে কাটা পড়া হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯ রানের ইনিংসটিই কোনওদিন ভাঙবে বলে মনে হয়নি। সেটি ৩৫ বছর পর ভেঙেছেন লারা। তবে রেকর্ডের বরপুত্র টেস্টে অপরাজিত ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলেই যে এই আভাস দিয়েছিলেন, তাতে কোনও ভুল নেই।

ক্রিকেট বিধাতাই হয়তো রেকর্ডের বরপুত্রের জন্য সাজিয়ে রেখেছিল মঞ্চ। নতুবা ওয়ারউইকশায়ারে লারার জায়গায় খেলতে দেখা যেতো মনোজ প্রভাকরকে। ভারতীয় অলরাউন্ডারের সঙ্গেই চুক্তিটি করেছিল ওয়ারউইকশায়ার। কিন্তু অ্যাঙ্কেলে অস্ত্রোপচার করিয়ে ইংল্যান্ডে আসা প্রভাকর ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তাকে বাদ দিয়ে আগের মৌসুমে ১৮ দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৬তম দলটি চুক্তি করে লারার সঙ্গে। প্রভাকরের এই দুর্ভাগ্যকে ক্রিকেট সৌভাগ্য বিবেচনা করবে কি না সেই ভার ক্রিকেটের হাতেই দেওয়া থাক!

২২ গজে একটি ‍কুইন্টিপুলসহ লারার ৯ সেঞ্চুরিতে ৮৯.৮২ গড়ে তোলা ২০৬৬ রান, নেপথ্যে বব উলমারের মস্তিষ্ক, সেবার ট্রেবলই জেতে ওয়ারউইকশায়ার। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ, বেনসন অ্যান্ড হেজেস কাপের সঙ্গে সানডে লিগ। একটি মাত্র ট্রফিই ঘরে আসেনি- ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি। এক কাউন্টি মৌসুমে এমন সাফল্য কোনও দলই আর কখনও পায়নি। 

/পিকে/

লাইভ

টপ