শারীরিক কারণেই নির্বাচনে নেই, আবারও জানিয়ে দিলেন বাদল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৩, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৮, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

টানা তিনবারের নির্বাচিত সহ-সভাপতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু শেষদিনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর। তাই ব্যালটে বাদল রায়ের নাম রয়ে গেছে। তবে আসন্ন ৩ অক্টোবরের নির্বাচনে যে আসলে তিনি নেই তা আবারও শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

মোহামেডান ক্লাবপ্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে কোনও সময় আবেগাপ্লুত হয়েছেন, আবার প্রত্যাহারের সপক্ষে নানান যুক্তি দেখিয়েছেন বাদল রায়। তবে সার কথা হলো, শারীরিক অসুস্থতাই তাকে এই নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। মোহামেডান ফুটবলের টিম লিডার আবু হাসান প্রিন্স ও সহধর্মিনী মাধুরী রায়কে দুপাশে বসিয়ে বাদল বলেছেন, ‘ফুটবল ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না। আমার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করলাম। আপনারা (ভোটারদের উদ্দেশ্যে) চিন্তাভাবনা করেই ভোট দেবেন। আমি চাই আমার ফুটবল ফেডারেশনে শক্তিশালী একটি কমিটি হোক। যারা কাজ করবেন তারাই নির্বাচন করেন। যারা কাজ করবেন না, তাদের দয়া করে আপনারা ভোট দেবেন না। এটাই আমার অনুরোধ। আইনগত কারণে ব্যালটে আমার নাম থাকলেও এখানে আমার কিছু করার নেই। ইচ্ছা করলেই আমার নাম বাদ দেওয়া যেত।’

তৃণমূলের সংগঠকদের উদ্দেশ্যে বাদল বলেছেন,‘তৃণমূলের সংগঠকদের জন্য আমি খুব চিন্তা করি। তারা আমাকে খুব ভালবাসতো। তৃণমূলের সংগঠকেরা কষ্ট পাবে দেখেই আমি আপনাদের সামনে এসেছি। আমার কষ্ট লাগছে যে আমি নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াচ্ছি। এর আগে আমি লিখিত দিয়েছিলাম। আগে বলেছিলাম কেউ না দাঁড়ালেও আমি দাঁড়াবো। শুধুমাত্র ফুটবলের স্বার্থে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফুটবলের স্বার্থ দেখতে গিয়ে আমার শরীরের উপর এত চাপ যাচ্ছে যে নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাদল আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন, ‘করোনা পরবর্তী এত ক্লান্ত হয়েছি যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারি না। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। তখন আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বললাম যে আমি কীভাবে প্রচারণা চালাবো। আমার মেয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমাকে বললো, তোমার নির্বাচন করার দরকার নেই। বেঁচে থাকো আমাদের জন্য (কান্না)।’

আবারও নির্বাচনে না থাকার ঘোষণা বাদল রায়ের     কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি মোহামেডানের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক ও ম্যানেজার , ‘আমি খুব ভাল সংগঠক তা নয়, কিন্তু চেষ্টা করেছি দেশের ফুটবলকে কিছু দিতে। আজকে আমার কষ্ট যে অনেকে হয়তো মনে করছেন আমার ওপর খুব চাপ আছে। আসলে চাপ না। আমার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনি আমাকে রাজনৈতিক জীবনে নিয়ে এসেছেন। ১৯৯১ সালে আমাকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন। উনার কার্যকলাপ অনুকরণ করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মানুষ আমি। এর সঙ্গে কোনও আপস নেই। আমি এখানে আবারও বলছি নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

২০১৭ সালে ব্রেন স্ট্রোক করায় অনেকদিন সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল বাদলকে। এখনও ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না তিনি। শরীরের এক পাশ চলৎশক্তিহীন। নিজের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন,‘ আমার জীবনের ওপর দিয়ে অনেক ঝক্কি গেছে। তারপরও সৃষ্টিকর্তা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাকে নতুন করে জীবন দিয়েছেন। এ জন্য উনাকে আমি মমতাময়ী মা বলি। উনাকে স্মরণ করেই বলতে চাই, উনি আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন বলেই আমি বেঁচে আছি। স্ট্রোক হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য কী করেছেন, সেটা আপনারা জানেন।’

বাদল রায় সরে দাঁড়ালেও দুজন সভাপতি প্রার্থী আছেন। কাউকে সমর্থনের প্রসঙ্গ উঠতেই তার সোজা উত্তর, ‘আমি জানি দু’জন আছেন। এখন দু’জনের ব্যাপারে এ মুহূর্তে আমার কোনও মন্তব্য নেই। আমার শরীরটা ভাল না। তাই সরে দাঁড়িয়েছি।’

 

 

/টিএ/পিকে/

লাইভ

টপ