গত আসরের স্মৃতি নিয়ে দুবাই যাচ্ছেন জাহানারা

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৬:২৩, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৩, অক্টোবর ১৮, ২০২০

জাহানারা আলম। ছেলেদের মতো মেয়েদের আইপিএল খ্যাত উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জও হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এবারের প্রতিযোগিতাতেও প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশ। সুযোগ পেয়েছেন জাহানারা আলম ও সালমা খাতুন।

এদের মাঝে জাহানারা গত বছরও উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিলেন।দল ছিল ভেলোসিটি। গত বছর ফাইনালে সুপারনোভাসের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করলেও জয়ের দেখা পায়নি তার দল। ২১ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। গত আসরের স্মৃতি নিয়েই আগামী ১৯ অক্টোবর দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। এবারও খেলবেন একই দলে। রবিবার বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে সার্বিক প্রস্তুতি ও ভেলোসিটির হয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন জাহানারা।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেকদিন ধরেই অনুশীলন করেছেন, প্রস্তুতি কেমন মনে হচ্ছে?

জাহানারা: আলহামদুলিল্লাহ সব মিলিয়ে গতবারের চেয়ে এবারের প্রস্তুতি আরও ভালো। বাকিটা স্পেসিফিক ডেতে পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। আর ভালো পারফরম্যান্স সব সময়ই ভাগ্যের ব্যাপার। বিসিবিকে ধন্যবাদ। আমাদের দুইজনের (জাহানারা ও সালমা) প্রস্তুতি নিতে মিরপুরের মাঠে অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বোলিং বিশেষজ্ঞ মাহবুব আলী জাকি স্যারের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে। সঙ্গে ফ্লাড লাইটের আলোতে দুটি অনুশীলন সেশনের ব্যবস্থাও করে দিয়েছে বিসিবি। এটা অনেক বড় বিষয়, সেখানে হুট করে ফ্লাডলাইটের আলোতে সমস্যায় পড়তে হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: পুরনো দলের হয়ে খেলছেন, এ বছর আপনাকে নিয়ে ওদের প্রত্যাশাটা খানিকটা বেশিই থাকবে। বাড়তি কোন চাপ অনুভব করছেন?

জাহানারা: না কোন চাপ নেই। বরং আমি খুবই খুশি। কারণ একই দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। ওদের সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। ফলে নতুন করে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে না। এমনিতে অবশ্য ক্রিকেট বোর্ড, দর্শক ও দলের সবার প্রত্যাশা থাকবে। আমার নিজেরও থাকবে। যতখানি প্রস্তুতি নিয়েছি এবং গত বারের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে চেষ্টা করবো নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য। গতবার ফাইনাল না জেতার আফসোস ছিল। এটা মাথায় নিয়েই বিমানে চড়বো। গতবার পারিনি, এবার সুযোগ এলে যেন দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে পারি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার দুটো উইকেট তুমুল সাড়া ফেলেছিল, ভাবলে কেমন অনুভূতি হয়?

জাহানারা: ইংল্যান্ডের নাতালি শিভার ও নিউজিল্যান্ডের সোফি ডিভাইনকে বোল্ড করেছিলাম। এই দুটো ঘটনা তুমুল আলোচিত হয়েছিল। ভাবতে খুব ভালো লাগে। যদি সুযোগ হয়, ফাইনাল ম্যাচের ফাইনাল ওভারটির পুনরাবৃত্তি করতে চাইবো। একই পরিস্থিতিতে পড়লে যেন ভালো কিছু করে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারি। আর ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। এই আউটে নিজের মধ্যে অন্যরকম আগ্রাসন তৈরি হয়।

অনুশীলনে সালমা খাতুনের সঙ্গে জাহানারা আলম। বাংলা ট্রিবিউন: এবারতো আরও পরিণত, পাশাপাশি একই দলের হয়ে খেলছেন। সব মিলিয়ে কি নিজেকে এগিয়ে রাখছেন?

জাহানারা: ভালো করার জন্য নিজের সুবিধাজনক অবস্থান নিয়ে আমি চিন্তা করি না। আমি কমফোর্টজোন থেকে বাইরে বের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। এটা অবশ্যই আমার জন্য বাড়তি সুযোগ। আমি একজন ঠাণ্ডা মাথার অধিনায়কের সঙ্গে খেলতে পারছি। আমি মনে করি মিতালি রাজ নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন লিজেন্ড। তার অধীনে আবার খেলার সুযোগ হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে অবশ্যই এটা একটি প্লাস পয়েন্ট। তারপরও সাফল্য নির্ভর করছে প্রস্তুতি ও প্রয়োগের ওপর। সত্যি কথা বলতে মাথায় আসলে এটা থাকে না, এর উইকেট নিবো, ওর উইকেট নিবো। এভাবে চিন্তা করে মাঠে নামিও না। আমার চিন্তা থাকে সব সময় কীভাবে ভালো খেলবো।

বাংলা ট্রিবিউন: ভেলোসিটির সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে?

জাহানারা: টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে কথা বার্তা হচ্ছে। এমনিতেই সিরিয়াস কোন আলাপ নয়। ওখানে গিয়েই আসলে মূল আলোচনায় যুক্ত হতে পারবো। করোনার কারণে সবাই মুম্বাইতে আইসোলেশনে আছে। আমরাতো এখানে আইসোলেশনে আছি। দুবাই গিয়ে আবার ৬ দিনের আইসোলেশনে থাকতে হবে। এর মধ্যে সেখানে তিনটি টেস্টে করোনা নেগেটিভ আসলে ২৮ তারিখ থেকে আমরা অনুশীলন করার সুযোগ পাবো।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদের চেয়ে নিজেদের নিশ্চয়ই ভাগ্যবান মনে করছেন?

জাহানারা: আমি এদিক থেকে ভাগ্যবান। আমি এবং সালমা আপু একটি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছি। পরিস্থিতিটাই আসলে এমন। তবে খুব বেশি দিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না। খুব দ্রুতই আমাদের ক্রিকেট ফিরবে। আগামী বছর কিন্তু আমাদের অনেক ক্রিকেট থাকবে। সুতরাং আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে আমাদের খুব বেশি সমস্যা হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: সতীর্থ সালমাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবেন, বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে?

জাহানারা: এর জন্য আলাদা কোন ভাবনা নেই। জাতীয় দল বাদে ঘরোয়া ক্রিকেটে কখনোই আমাদের একসঙ্গে খেলা হয় না। আমি এভাবেই চিন্তা করছি, প্রিমিয়ার লিগের মতো সালমা আপু আমার প্রতিপক্ষ হয়ে খেলবে। আমাকে ওভাবেই মুখোমুখি হতে হবে। হয়তো সে আমার সম্পর্কে জানে, আমিও তার সম্পর্কে জানি। সেটি হয়তো টিমের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে আমরা একে অন্যের ব্যাপারে ধারণা দিবো।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ