ফিরেই রিয়ালকে মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকো জেতালেন রামোস

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৪৮, অক্টোবর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫৭, অক্টোবর ২৫, ২০২০

রামোস ফিরতেই (2)ক্লেমেন্ত লেং জোরে সার্জিও রামোসের জার্সি টেনে ধরেছিলেন বলেই তিনি ক্রসটির নাগাল পাননি? তা নয়। রেফারি ‘ভারে’র দ্বারস্থ হতেই দেখা গেল লেংলে রামোসের জার্সি টেনে ধরেছিলেন বটে, তবে একটু অভিনয়ও ছিল রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়কের। কিন্তু বক্সের মধ্যে গোলমুখী বলে মাথা ছোঁয়াতে যাওয়া কারও শার্ট টেনে ধরলে পেনাল্টি হয়, পেনাল্টিই দিয়েছেন রেফারি। তা থেকে গোল করে রিয়ালকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন রামোস। ৬৩ মিনিটের এই গোলই ম্যাচের গতিটা ঘুরিয়ে দেয় রিয়ালের দিকে। কাঁটায় কাঁটায় ৯০ মিনিটে ভালভার্দের বদলি লুকা মদরিচ বার্সেলোনার বিশৃঙ্খল রক্ষণের সুবিধা নিয়ে গোল করেছেন। ৩-১ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতে লা লিগার শীর্ষে উঠলো রিয়াল। লা লিগায় কাদিজের কাছে হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে শাখতার দোনেৎস্কের কাছে হার। নিজেদের মাঠে পর দুই ম্যাচে পরাজিত রিয়ালের জন্য এই ক্লাসিকোটা ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। তাতে কী দারুণভাবেই উৎরে গেল জিনেদিন জিদানের দল। তাও  চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে। শাখতারের কাছে হারা ম্যাচে চোট খেলতে দেয়নি রামোসকে। অধিনায়ক ফিট হয়ে ফিরতেই রিয়াল অন্যরকম। রামোসহীন যে রক্ষণ শাখতারের ম্যাচে ভুগিয়েছে, সেই রক্ষণই দুর্ভেদ্য। অনেক আক্রমণের সেতু হিসেবেও কাজ করেছেন রামোস।

মাত্রই ৫ মিনিটে করিম বেনজেমার থ্রু থেকে গোল করে দিনটিকে রিয়ালের বলেই যেন পূর্বাভাস দেন ফেদে ভালভার্দে। কিন্তু তিন মিনিট পর জর্ডি আলবার পাসে গোল করে বার্সাকে সমতায় ফেরান আনসু ফাতি। তখন আর এটিকে রিয়ালের ম্যাচ বলে মনে হচ্ছিল না। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলাটা বেশ জমে উঠেছিল। বিরতির পর ফাতি ও কুতিনিয়োর দুটি সুযোগ নষ্ট না হলে ফল অন্যরকম হতেই পারতো। এরপর বার্সেলোনা মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে সমন্বয় ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। চাপ বাড়াতে থাকে রিয়াল, সুবাদে রামোসের ওই পেনাল্টি গোল। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বলের কাছে আঙুল প্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন বার্সার দ্বিতীয় গোলকিপার নেটো। ব্যবধান ছিল সেন্টিমিটার সমান। ৮৫ মিনিটে ক্রুস ও রামোসের শটে বার্সেলোনাকে ডাবল সেভ করে একটা প্রশ্ন নেটো তুলেও দিয়েছেন এরইমধ্যে, টের স্টেগেন ফিরলে বেঞ্চেই জায়গা হবে এই ব্রাজিলিয়ানের?  

ভারের সিদ্ধান্তে পেনাল্টি পেয়েছে রিয়াল, বার্সেলোনার একটি পেনাল্টির আবেদন হয়েছে প্রত্যাখ্যাত। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সেন্টার ব্যাক ভারানের হাতে বল লাগলেও রেফারির বিচারে সেটি পেনাল্টি ছিল না।

খেলার বাকি যখন মাত্র ১০ মিনিট, বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোম্যান তিন খেলোয়াড় বদলান একসঙ্গে। ফাতি, বুসকেটস ও পেদ্রোকে বদলে নামেন ডেম্বেলে, গ্রিজমান ও ত্রিঙ্কাওকে। প্রশ্নবিদ্ধ ফিটনেস নিয়ে একাদশে খেলা আলবাকে তুলে শেষদিকে নামান আরেক ফরোয়ার্ড ব্রাথওয়েটকে। পাঁচ ফরোয়ার্ডেও কাজ হয়নি। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে এমনটা করা যেতেই পারে। তবে প্রশ্নটা খেলোয়াড় বদলানোর সময় নিয়ে। পাল্টা আক্রমণে বেসামাল বার্সেলোনাকে ৯০ মিনিটে খেতে হয়েছে তৃতীয় গোল। কোচ হিসেবে প্রথম ক্লাসিকোয় পরাজয় কোম্যানের, সেটি ট্যাকটিকসের দিক থেকেও। ২০১৬ সালের পর নিজেদের মাঠে রিয়ালের কাছে হারলো বার্সেলোনা। ২০০৮ সালের মে মাসের পর প্রথম টানা দুটি  ক্লাসিকো জিতলো রিয়াল।

৯০৫ দিন হয়ে গেল গোল অদৃশ্য এল ক্লাসিকোর সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসির কাছে। এ তো বার্সেলোনার দুর্গতির স্মারক। তবে তাদের একমাত্র গোলটি করে আরেকটি রেকর্ড করেছেন রেকর্ডের ‘বরপুত্র’ ফাতি। ১৯৩০-এর দশকে বয়স ১৮ পূর্ণ হওয়ার আগে লা লিগায় ১১ গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন পোম্বো। প্রায় নয় দশক পর একই বয়সে সেই রেকর্ড ছুঁলেন বার্সেলোনার নতুন সেনসেশন। এই গোল বার্সেলোনার নতুন এক মাইলফলক, রিয়ালের বিপক্ষে ৪০০তম গোল। তবে দলীয় এই মাইলফলকের চেয়ে ব্যক্তিগত এক মাইলফলক অনেক তৃপ্তি দিয়েছে রিয়ালকে। সেটি রামোসের ১০০তম গোল। একজন সেন্টারব্যাক হয়েও শততম গোলের অনন্য রেকর্ড!

ন্যু ক্যাম্পে শনিবারের বিকেলটা (স্পেনের সময় অনুযায়ী) ছিল রামোসের, রিয়ালের। বার্সেলোনারও কি নয়! তবে কাতালানদের জন্য তা আত্মানুসন্ধানের। 

/পিকে/

লাইভ

টপ