এই তো ২০১৭ সালের শুরুর দিকের কথা। জাতীয় এয়ারগান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৫৯৯ স্কোর গড়ে রেকর্ড গড়লেন অর্ণব সারার। তখনই সম্ভাবনাময় শুটার হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয়েছিল। তাকে ঘিরে ফেডারেশনের পরিকল্পনাও কম নয়। দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে ডেনমার্কের কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেনের অধীনে আছেন বিকেএসপির এই শুটার। এবার তো জাপানের ওয়াকো সিটিতে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল এককের যুব ইভেন্টে রুপা জিতে সবাইকে চমকেই দিয়েছেন তিনি। যাতে তিনি সরাসরি জায়গা করে নিয়েছেন সামনের যুব অলিম্পিকে।
শনিবার চীনের ঝ্যাং চ্যাংহং ২৫০ স্কোর গড়ে জিতেছেন সোনা। আর অর্ণব করেছেন ২৪৯.৫ স্কোর। অল্পের জন্য দেশের হয়ে সোনা জিততে পারেননি সাতক্ষীরার এই তরুণ। জাপান থেকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় এ নিয়ে আফসোসও ঝরল তার কণ্ঠে, ‘শেষের দিকে একটু খারাপ করে ফেলায় সোনা জেতা হলো না। চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত, কিন্তু হয়নি। অল্পের জন্য সোনার পদক হাতাছাড়া হয়েছে।’ তারপরও দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পদক জিতে অর্ণব বেশ খুশি, ‘দেশের হয়ে প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক আসরে বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। তারপর পদক জিতলাম। এতেই আমি অনেক খুশি।’
জাপানে পদক জেতায় অর্ণবের সামনে আরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়ে গেল। ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠেয় যুব অলিম্পিকে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে যে কোনও অলিম্পিকের আসরে ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়। এই জায়গায় অর্ণব ব্যতিক্রম। সেই ভালো লাগা ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকে, ‘দেশে আমার সেরা রেকর্ড। জাপানে এসে বাছাইয়ে ষষ্ঠ হয়েছি। শুট আউটে অল্পের জন্য সোনা জিততে পারিনি। তবে রুপা জিতে সরাসরি আর্জেন্টিনার যুব অলিম্পিকে যাবো চিন্তা করতেই ভালো লাগছে।’
জাপানে পদক জিতবেন কিনা, সেটা নিয়ে অবশ্য দ্বিধায় ছিলেন অর্ণব, ‘আমার আত্মবিশ্বাস ছিল ভালো করবো। তবে জাপানে পদক জিতবো, এমন চিন্তা করিনি। ধরে নিন আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের কারণে এই ফল হয়েছে। বিকেএসপির কোচদের অবদান আছে। এছাড়া ডেনমার্কের কোচ ক্লাভসের অবদানও কম নয়।’
নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার যুব অলিম্পিকে ভালো করতে চাই। পদক জয়ের আশা করি। আর মূল অলিম্পিকে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছে আছে। এছাড়া এসএ গেমস আর অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের লক্ষ্য তো আছেই।’
জাতীয় দলের সাবেক তারকা শুটার সাইফুল আলম রিঙ্কি বলেছেন, ‘অর্ণবের এই পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবে দেশের শুটিংকে আরও এগিয়ে নেবে। যতদূর শুনেছি, এই প্রথম অলিম্পিকের যে কোনও আসরে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কোনও শুটার খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটা ইতিবাচক দিক।’
অর্ণবের পারফরম্যান্সে জাতীয় শুটিং দলের কোচ ক্রিস্টেনসেনও উচ্ছ্বসিত, ‘সে অসাধারণ খেলেছে। বিশেষ করে ফাইনালের লড়াই ছিল ভীষণ কঠিন। ২৪৯.৫ নিঃসন্দেহে বিশাল স্কোর। স্বর্ণপদকের জন্য চীনের ছেলেটির সঙ্গে সে দারুণ লড়াই করেছে। মাত্র ০.৫ পয়েন্ট পেছনে ছিল সে। যুব অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করাও অসাধারণ অর্জন। তরুণ বয়সেই সে দারুণ সম্ভাবনাময় শুটার।’







