জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল। তার আজ ৭৪তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনকে সামনে রেখে তার হাতে গড়া আবাহনী লিমিটেড ক্লাবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হয়েছে। বিকালে ক্লাব চত্বরে হয়েছে আলোচনা সভা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ক্লাবটির চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানও ছিলেন। তিনি বছর শেষে শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শুরুতে বক্তব্যে সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর চ্যাম্পিয়নশিপের দিক দিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে সেরা ক্লাব আছি। এক নম্বরে আছি। তা ধরে রাখতে হবে। কাজ করতে হবে। আজকে আমি আনন্দিত কাজটা শুরু হয়েছে। বছর শেষের আগেই আমরা শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে পারবো।’
ক্লাবটিতে পেশাদার লোকজন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে এর চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে সবকিছু ঠিক করা হয়েছে। আমরা এখন পেশাদার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এসেছি। সিইও নিয়ে এসেছি। আরও পেশাদার লোকজন আসছে। বিদেশে যেমন একটা স্পোর্টিং ক্লাব পরিচালনা হয় সেভাবে চালাতে চাচ্ছি।’
শেখ কামালের ভিশনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে চান সবাই। আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আমাদের তরুণ খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। কামালের ভিশন ছিল নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা। আমাদের স্কাউটিং করে সারা বাংলাদেশ থেকে খেলোয়াড় আনতে হবে। এনে লং টার্ম চুক্তি করা উচিত। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। তাহলে ভালো ভালো খেলোয়াড় বের হবে।’
নিজস্ব একাডেমি করারও পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির। তা জানিয়ে সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘এতে ট্রান্সফারের সময় ক্লাবও লাভবান হবে। আশা করছি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তখন একাডেমি শুরু করবো। মাঠের উন্নতি হবে। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি করছি, উন্নয়নের জন্য। শেখ কামালের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের সেরা ক্লাব ও আধুনিক ক্লাবে পরিণত করা। তা করতে পারবো।’
শেখ কামালের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে গিয়ে সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের সাদা টয়োটা গাড়ি ছিল। ও বললো গাড়ি লাগবে। চার পাঁচদিন পর পাকিস্তানি আর্মি অ্যাকশন শুরু হয়ে গেলো। যাই হোক দেশ স্বাধীন হলো একসময়। সে আমার বাসায় এসে যেখানে গাড়ি রাখা ছিল, সেখান থেকে এনে আমার বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে দিয়ে আসলো। তখন আমরা বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছে কি না জানি না। দেশ নতুন স্বাধীন হয়েছে। শেখ কামালের দায়িত্বশীলতা দেখেন। আগে দিতে পারেনি। স্বাধীনতার পর তার কাজ সম্পন্ন করেছে।’
শেখ কামাল সবার জন্য কাজ করতেন। তার মহানুভবতার পরিচয় দিতে গিয়ে আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘কামাল নিজের জন্য কিছু করতো না। অন্যদের জন্য করতো। আমরা তখন মাত্র বেক্সিমকো করেছি। তখন ও বলতো অন্যদের চাকরি দিতে। বন্ধুদের জন্য শুধু নয়, গরীব মানুষের জন্য ও কাজ করতো। জুট মিলে বলতো গরীব মানুষদের চাকরি ব্যবস্থা করতো।’
দেশের বাইরে গেলে আবাহনী ক্লাব ও স্পন্দনের জন্য সরঞ্জাম আনার কথা উল্লেখ করে সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘বিদেশে যখন যাই তখন বলতাম তোমার জন্য কী আনবো? ও শুধু বলতো আবাহনীর জন্য জার্সি ও কেডস আনো। আরেক দিন বললো স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠীর জন্য ইলেকট্রিক গিটার এনো। তখন আমি বলেছি এয়ারপোর্টে তা শুল্ক দিতে হবে। তখন ও বলেছে তা দিয়েই আনতে। তাই করেছিলাম। ও সবসময় হাসি খুশি ছিল।’
শেখ কামাল স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশ একসময় বিভিন্ন খেলাতে সেরা হবে। সালমান ফজলুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসাতে নতুন রুম করা হয়েছিল। অনেক রাত আমরা খোলা আকাশে সময় কাটিয়েছি। তখন তার পরিকল্পনা, চিন্তা ও স্বপ্নের কথা জানিয়েছিল। বাংলাদেশ একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে চ্যাম্পিয়ন হবে। অলিম্পিকে আমরা মেডেল পাবো। তার চিন্তা ছিল বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কীভাবে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করবে। দুর্ভাগ্য যে ওর চিন্তাগুলো অসম্পূর্ণ থাকলো। সেই কালো রাতে ১৫ আগস্ট আমার বন্ধু ও তার পরিবারের সবাইকে ঘাতকদের হাতে হারালাম।’
এরপরই যোগ করে বলেছেন, ‘যদিও তার চিন্তা আমরা পুরো করতে পারিনি। কিন্তু আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে জায়গায় আসতে পেরেছি তা কামালেরই চিন্তাগুলো ধরে। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শেখ কামালের সেই স্বপ্ন বাংলাদেশ একদিন ক্রিকেট, ফুটবল ও হকিতে চ্যাম্পিয়ন এবং অলিম্পিকে মেডেল পাবো। এটা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করতে পারবো।’
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আবাহনী লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর কাজী নাবিল আহমেদ, পরিচালক আজমল কবির, দলটির প্রথম ফুটবল অধিনায়ক আব্দুস সাদেক ও সমর্থক গোষ্ঠীর কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার তাহের আহমেদ। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ, শায়ান এফ রহমান, শেখ বশির আহমেদ মামুন ও ফাহিম সিনহা।









