২১ বছরের দীর্ঘ এক ক্যারিয়ার শেষে আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। খেলছেন শুধু ক্লাব ফুটবলে। তবে জাতীয় দলকে বিদায়ের পর এবার মেসি পেলেন অন্যরকম এক সম্মান। পেরুর বিজ্ঞানীরা নতুন এক ফুলের নাম রেখেছেন মেসির নামে!
কিছুদিন আগে মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয় বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। এবার পেরুর বিজ্ঞানীরাও মেসিকে দিলেন বিশেষ সম্মান। দেশটির দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে সমতলভূমি থেকে প্রায় ২৪০০ মিটার উঁচুতে জন্ম নেওয়া একটি সুগন্ধি গাছের ফুলের নাম মেসির নামে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, আন্দিজ পর্বতমালায় জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন অচেনাই ছিল। মেসির সম্মানে উদ্ভিদটির নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’।
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদের পাপড়িগুলো নীল ও সাদা রঙের। এটি ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই একই পরিবারে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি এবং সাধারণ সেজের মতো গাছগুলো রয়েছে।
পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস এই প্রজাতির উদ্ভিদটি আবিষ্কার ও বর্ণনা করেন। তারা বৈজ্ঞানিক জার্নাল ফাইটোতাক্সায় তাদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন।
মায়মোনাইডস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তি জানান, ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি, তাই কোনও প্রকৃতিবিদ বা বিজ্ঞানী লিওনেল মেসি ব্যক্তিত্বের মতো গুণাবলি ও আবেগের পরিমণ্ডলের বাইরে গিয়ে কাজ করেন না। এটিই ব্যাখ্যা করে, কেন বিভিন্ন অঞ্চলের এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এক হয়েছেন, যা তার নামকে অমর করে রাখবে।’
মেসির নামে কোনও প্রজাতির নাম রাখার ঘটনা এই প্রথম নয়। আর্জেন্টিনার সালতায় বারিতু জাতীয় পার্কে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয়েছিল ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। সেখানে পাতাগোনিয়ান প্রজাতির মাকড়সার নাম ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’, পুনা অঞ্চলে টিকটিকির নাম ‘লিওলায়েমুস মেসি’, আন্দেজের প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নাম রাখা হয়েছিল ‘ভালচার মেসি’। ঝিনুকের মতো দেখতে প্রাগৈতিহাসিক খোলসি একটি প্রাণীর নামকরণ হয়েছে ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’।