ইসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে শাস্তি পেতে হয়েছে স্পেনকে। সমর্থকদের বৈষম্যমূলক আচরণের দায়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। শুধু তাই নয় স্পেনের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে স্টেডিয়ামের অন্তত ১৫ শতাংশ আসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
গত মার্চে এস্পানিওলের মাঠ আরসি ডিই স্টেডিয়ামে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে এ ঘটনা ঘটে। গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচটিতে স্পেনের কিছু সমর্থক স্লোগান দেন, ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম।’ দ্বিতীয়বার স্লোগান দেওয়ার পর স্টেডিয়ামের ঘোষক সতর্কবার্তা দেন। স্কোরবোর্ডেও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বার্তা দেখানো হয়।
স্পেনের মুসলিম ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল তখনই এই স্লোগানের নিন্দা জানান। নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই তরুণ তারকা লেখেন, ‘‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’’
ঘটনার পরদিনই তদন্ত শুরু করে স্প্যানিশ পুলিশ। পরে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করে ফিফা।
আরএফইএফের যুক্তি ছিল, মুসলিম শব্দটি নিজে অপমানজনক বা অবমাননাকর নয়। তাদের মতে, ঘটনাটি ফিফার বৈষম্য ও বর্ণবাদবিরোধী ১৫ নম্বর ধারার পরিবর্তে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তাসংক্রান্ত ১৭ নম্বর ধারায় বিবেচনা করা উচিত।
তবে সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। তাদের ব্যাখ্যা, বৈষম্যমূলক আচরণ প্রমাণের জন্য সরাসরি কোনো গালিগালাজ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কোনো শব্দ অপমান, বিদ্রূপ কিংবা কাউকে হীন হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যম হলেও তা বৈষম্যমূলক হতে পারে।