কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কারের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন মেমোরি চিপ সংকট, যার বড় ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপলের ওপর। বিশ্ববাজারে আইফোন ও ম্যাকের রেকর্ড বিক্রির সুসংবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন আইফোন ঘাটতির এক চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তি বিশ্বে ‘র্যামাগেডন’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই চিপ সংকটের জেরে আগামী দিনে আইফোনের বাজারে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অ্যাপলের প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে টেক ইন্ডাস্ট্রিগুলো বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ ব্যবহার করছে। ফলে অন্য ডিভাইস নির্মাতারা পর্যাপ্ত চিপের জোগান পাচ্ছে না এবং বাধ্য হয়ে পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের নীতি ভেঙে বিপুল মজুত অ্যাপলের
আসন্ন সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা করতে এবং আইফোনের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অ্যাপল এখন অস্বাভাবিক পরিমাণে যন্ত্রাংশ মজুত করা শুরু করেছে। সাধারণত প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য মজুত না করার বিষয়ে অ্যাপল প্রধান নির্বাহী টিম কুকের একটি দীর্ঘদিনের সুনাম ও নীতি ছিল। তবে বর্তমান সংকটে বাধ্য হয়ে সেই নীতি থেকে সরে এসেছেন তিনি।
হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের কাছে যেখানে ৫৭০ কোটি ডলারের পণ্য মজুত ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১,১১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
বাড়তে পারে নতুন আইফোনের দাম
চলতি বছরের রেকর্ড আয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অ্যাপলের আইফোন ও ম্যাক বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে যথাক্রমে ২২ শতাংশ ও ২৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই সাফল্যের মাঝেও চিপ সংকটের কারণে গত মাসেই বেশ কিছু ডিভাইসের দাম ২০ শতাংশ বা তার বেশি বাড়িয়েছে অ্যাপল। যদিও আইফোনের দাম এখনও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তবে ধারণা করা হচ্ছে— আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন মডেল বাজারে আসার সাথে সাথেই আইফোনের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।
সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে টিম কুকের উদ্বেগ
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে টিম কুক খোলামেলাভাবেই স্বীকার করেছেন যে, চিপ সংকটের কারণে বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ফোন উৎপাদন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, “বাজারে ফোনের উচ্চ চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলেই আমরা মনে করছি। তবে সাপ্লাই চেইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় এই সংকটের প্রভাব আগামীতে আরও স্পষ্ট হবে। আমরা এমন এক বড় সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছি, যা দ্রুত সমাধানের সুযোগ বেশ সীমিত। সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে আমাদের তীব্র সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
শেয়ারবাজারে বড় পতন
রেকর্ড বিক্রির খবরও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। টিম কুকের এই সতর্কবার্তা ও উৎপাদন সংকটের আশঙ্কায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে অ্যাপল। ভবিষ্যতে কোম্পানির সার্বিক আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে গেছে।
এমনকি আগামী প্রান্তিকের জন্য যেখানে অ্যাপলের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকে, সেখানে এবার মাত্র ৯ থেকে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানিটি।
সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট









