প্রথমবারের মতো ’স্টারশিপ’ রকেট পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স। স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকলেও কোনো কারণ না জানিয়ে তা প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত স্টারবেস থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ৭৫ মিনিটের উৎক্ষেপণ পর্ব শুরু হবে। তবে এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্টারশিপের বিগত ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নই কক্ষপথে না গিয়ে মহাকাশের প্রান্তে উঠে ফিরে আসার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। এবার প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে স্টারশিপের মূল মহাকাশযানটি প্রায় ছয়বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে এবং পুরো পরীক্ষাটি প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মহাকাশযানটিকে দ্রুত ও বারবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরবর্তী ধাপের প্রযুক্তি যাচাই করতে চায় স্পেসএক্স। অর্থাৎ, প্রতিটি মিশনের পর মহাকাশযান ও রকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করাই স্টারশিপ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
এবারের মিশনে প্রথমবারের মতো স্টারলিংক নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য ২৬টি তৃতীয় প্রজন্মের ‘ভি৩’ স্যাটেলাইটও কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। আগের পরীক্ষায় ভি৩ স্যাটেলাইট বহন করার সক্ষমতা যাচাই করা হলেও সেগুলো পরে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যায়। এবার পাঠানো স্যাটেলাইটগুলো স্টারলিংক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। ভি৩ স্যাটেলাইটে সর্বোচ্চ ১ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড ডাউনলোড এবং ১৬০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড আপলোড সক্ষমতা রয়েছে, যা বর্তমান ভি২ স্যাটেলাইটের তুলনায় যথাক্রমে প্রায় ১০ ও ২২ গুণ বেশি।
তবে এবারও স্টারশিপের ওপরের ধাপকে উৎক্ষেপণ টাওয়ারের যান্ত্রিক বাহু দিয়ে ধরে অবতরণ করানোর চেষ্টা করা হবেনা বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পর সুপার হেভি বুস্টার সমুদ্রে অবতরণ করবে, আর স্টারশিপের ওপরের ধাপ নির্ধারিত কক্ষপথের কাজ শেষ করে চিলির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে পানিতে নামবে। এর আগে ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে স্টারশিপকে মহাকাশে পাঠানোর পর সেটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পর্যায়ে সুপার হেভি বুস্টারের কয়েকটি র্যাপ্টর ইঞ্জিন পুনরায় চালু হতে ব্যর্থ হয়। বুস্টারটি অবতরণের আগে গতি কমিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে সমুদ্রে নামানোর জন্য এসব ইঞ্জিন পুনরায় চালু করার প্রয়োজন হয়। ওই পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এবার সুপার হেভি বুস্টারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ব্যবহৃত স্টারশিপের ওপরের অংশ উদ্ধার করে পরীক্ষা করার পর এর তাপঢালেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় প্রচণ্ড তাপ সহ্য করে যানটি নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।
স্টারশিপের প্রথম কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষাকে স্পেসএক্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ভবিষ্যতে ফ্যালকন ৯ ও ফ্যালকন হেভির পরিবর্তে নিয়মিত মহাকাশযাত্রায় স্টারশিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে যায়। একই সময়ে খুচরা বিনিয়োগকারীরা গত তিন সপ্তাহে প্রায় ৫৭ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছেন বলে বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।









