অ্যাপল অবশেষে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’ উন্মোচন করেছে। এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাপী ফোনটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়। বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি বাজারে প্রথম চালান পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।
ফোনটির জন্য চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে ডেলিভারির তারিখ ইতিমধ্যে অনেক পিছিয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ অক্টোবর ফোনটি দোকানে আসার কথা। তবে সকালের প্রথম ভিড়ে যারা অর্ডার করতে পারেননি, তারা এখন ডেলিভারির সম্ভাব্য সময় হিসেবে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি দেখতে পাচ্ছেন। এই দ্রুত বিক্রি ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের মতো প্রাথমিক নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে অ্যাপলের প্রবেশের প্রতি জোরালো আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। এই সাড়ার পর শুক্রবার প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে অ্যাপলের শেয়ারের দামও ২ শতাংশ বেড়েছে।
তবে প্রথম দফায় বিক্রির জন্য আসলে কতগুলো ফোন ছিল, তা প্রকাশ করেনি অ্যাপল। ফলে ডেলিভারিতে দীর্ঘ অপেক্ষা শুধুই অতিরিক্ত চাহিদার কারণে, নাকি উন্মোচনের সময় অ্যাপলের সরবরাহই সীমিত ছিল, তা বলা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতে আইফোন ডুও কিনতে হলে বড় বাজেট লাগবে। এটি অ্যাপলের এ পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফোন। ২৫৬ জিবির বেস মডেলের দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ রুপি যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭১। সর্বোচ্চ স্টোরেজ চাইলে ২ টেরাবাইটের টপ-টিয়ার সংস্করণের দাম পড়বে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৫।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রধান মডেলের দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু। স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই এই দুটি রঙের বাজারে আসবে।
অ্যাপল আইফোন ডুওতে বইয়ের মতো ভাঁজ করার প্রক্রিয়া রেখেছে, যা বন্ধ অবস্থায় দেখতে অনেকটা পাসপোর্টের মতো। বাইরের দিকে রয়েছে পকেটে সহজে রাখার মতো ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির কাভার স্ক্রিন। খুললে দেখা মেলে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বিশাল সুপার রেটিনা এক্সডিআর ভেতরের ডিসপ্লে, যা ফোনটিকে মিনি ট্যাবলেটে রূপ দেয়। ভাঁজের দাগ কমাতে এবং প্রতিফলন ঠেকাতে ভেতরের স্ক্রিনে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচার ফিনিশও যোগ করেছে অ্যাপল।
ফোনটিতে রয়েছে শীর্ষস্তরের এ২০ প্রো চিপসেট। প্রো-লেভেলের পারফরম্যান্স দিতে এবং ভারী মাল্টিটাস্কিং সহজে সামলাতে এই প্রসেসর তৈরি করা হয়েছে। ছবি তোলার জন্য ফোনে আছে শক্তিশালী ডুয়াল ৪৮ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ, যার মধ্যে রয়েছে ফিউশন মেইন ক্যামেরা এবং আল্ট্রা ওয়াইড লেন্স, যা উচ্চমানের ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি পুরোপুরি সমর্থন করে।
নতুন হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সফটওয়্যার মেলাতে ফোনটি চলে আইওএস ২৭-এ। ভাঁজযোগ্য স্ক্রিন ব্যবহার মসৃণ, পরিচিত ও সহজ করতে এ সফটওয়্যার সংস্করণকে অ্যাপল সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছে। এ ছাড়া বড় ডুয়েল-ব্যাটারি ব্যবস্থার জন্য জায়গা করে দিতে ফিজিক্যাল সিম কার্ড ট্রে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়েছে অ্যাপল। অর্থাৎ আইফোন ডুও শুধু ই-সিম সমর্থিত ডিভাইস।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সৌরপ্রযুক্তি রফতানিতে লাগাম টানতে চীনের নতুন উদ্যোগ