সারাদেশে একদামে কম্পিউটার বিক্রি ‘পুরোপুরি’ শুরু হয়নি

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ২১:৫৫, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

কম্পিউটারসারাদেশে একদামে কম্পিউটার ও খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে এই নিয়ম মানা হচ্ছে। বাজারে হাজারও প্রযুক্তি ব্র্যান্ড ও পণ্য থাকায় এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করা যাচ্ছে না বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটা পুরোপুরি কার্যকর করতে সময় লাগবে। এই নিয়ম প্রচলন ও কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।

বাজারে নতুন আসা পণ্যে একদাম তথা এমআরপি (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) কার্যকর করা গেলেও যে পরিমাণ পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে, সে পণ্যগুলো কীভাবে এই নিয়মের মধ্যে এনে তা কার্যকর করা হবে, সেটাই এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের কাছে। 

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২২ জুলাই থেকে সারাদেশে কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ওপর ‘এমআরপি নীতিমালা-২০১৮’ এবং ‘ওয়ারেন্টি নীতিমালা ২০১৮’ কার্যকর হয়েছে। এ দু’টি নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে কম্পিউটার পণ্যের গুণগতমান সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি এ পণ্যের বিশ্বস্ততা অর্জিত হবে। একইসঙ্গে আইটি বাজার ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল হবে। এতে ভোক্তা এবং কম্পিউটার ব্যবসায়ী উভয়ই উপকৃত হবেন।

এই নিয়ম চালুর আগে একই কম্পিউটার ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে বিভিন্ন দামে বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচসহ আরও অনেক খরচ যুক্ত করে আরও বেশি দামে বিক্রি করতেন। এমনকি কোনও পণ্যের গায়ে কোনও দাম লেখা থাকতো না।  নতুন নিয়ম চালুর প্রতিটি পণ্যের গায়ে দাম লেখা থাকছে। ঢাকার বিভিন্ন কম্পিউটার মার্কেটসহ ঢাকার বাইরের কম্পিউটারের দোকানগুলোতে এখন একই দামে কম্পিউটার বিক্রি হচ্ছে।এই নিয়ম চালুর ফলে প্রযুক্তি পণ্যের ক্রেতাদের দুর্ভোগ কমবে। কম দামে পণ্য কেনার জন্য এ মার্কেট, ওই মার্কেট ঘুরতে হবে না ক্রেতাদের। সব দোকানে একই পণ্য একই দামে বিক্রি হবে। নতুন নিয়মের ফলে বাজারে যে কারও একচেটিয়া প্রভাব কমবে। কম্পিউটার ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই দু’টি নিয়ম চালু হলে প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রেতাদের তখন সেবা দিয়ে টিকে থাকতে হবে। এতে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

জানতে চাইলে বিসিএস সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, ‘সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে কম্পিউটার বিক্রির নিয়ম চালু হওয়ায় ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কম্পিউটার বা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে প্রযুক্তি পণ্যের গায়ে লাগানো এমআরপি স্টিকার মূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ থাকছে ক্রেতাদের।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুরো নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু সময় তো লাগবেই।’

বিক্রেতা ও আমদানিকারকরা এ ব্যাপারে আন্তরিক উল্লেখ করে সুব্রত সরকার বলেন, ‘বাজারে কিছু সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে, পণ্য রয়েছে সেসবের সমাধানও করতে হবে।’

কম্পিউটার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিসের পরিচালক মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায়। পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে এ খাতে একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কে কার চেয়ে কমদামে বা বেশিদামে কম্পিউটার বিক্রি করতে পারে, এই নিয়ে বাজারে কম্পিউটার বিক্রির প্রতিযোগিতা চলে। এগুলো ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষের জন্যই খারাপ। বাজারে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। নতুন নিয়মের ফলে এই পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে।’

তবে ব্যবসায়ীদের ভাবাচ্ছে প্রযুক্তি পণ্যের ‘গ্রে’ বাজার। চোরাই পথে বা লাগেজে করে আনা পণ্য বাজারে কিভাবে বিক্রি হবে, দাম কত হবে সেসব চিন্তায় ফেলে দিয়েছে আমদানিকারকদের। গ্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে কী কৌশল প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়েও রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রে পণ্যে দামের কোনও স্টিকার থাকবে না। ফলে ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারবেন এটা নন চ্যানেল পণ্য। তবে এর পরও ক্রেতারা গ্রে পণ্য বাদ দিয়ে আসল পণ্যে আগ্রহী হবেন কিনা, সেটাও এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহের এমএম কম্পিউটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখলেছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২২ জুলাই থেকে সারাদেশে একদামে কম্পিউটার বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও এখন শতভাগ করা সম্ভব হয়নি। এখন যেসব পণ্য আসছে সবগুলোতে এমআরপি স্টিকার থাকছে কিন্তু সবার পক্ষে তা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা অনেক বড় একটা কাজ। পুরোপুরি কার্যকর করতে সময় প্রয়োজন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘সারাদেশে একদামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব। পণ্যের বহন খরচ আমদানিকারকরা বহন করছেন। অন্যান্য খরচ পূর্বানুমাণ করে তবেই দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। যশোরের এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীও প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করেন।’ নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘একদামে বিক্রির ঘোষণাটির আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন ছিল। আরও সময় দিতে হতো। গ্রে মার্কেট নিয়ে ক্রেতাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যেটা ভবিষ্যতে আমাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ