ব্যবহার হচ্ছে ৫৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথঅনলাইন স্ট্রিমিংয়ে বাড়ছে দর্শক

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১০:০৮, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৫, নভেম্বর ১১, ২০১৯

অনলাইন স্ট্রিমিং

ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিনোদনের নতুন মাধ্যম অনলাইন স্ট্রিমিং (অ্যাপস ও ওয়েবসাইট) সেবা। দেশে দিন দিন এই মাধ্যমের দর্শক সংখ্যা বাড়ছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, গত দুই বছরে অনলাইন ভিডিও এবং স্ট্রিমিং সার্ভিসের দর্শক সংখ্যা ১১ শতাংশ বেড়েছে (যদিও টেলিভিশনে বেড়েছে ৩ শতাংশ)। আর এজন্য ব্যবহার হচ্ছে দেশের মোট ব্যান্ডউইথের প্রায় ৪০ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ। এরমধ্যে ৪০ শতাংশ হলো ৫৬০ জিবিপিএস। অন্যদিকে অনলাইন স্ট্রিমিং হলো কোনও মুভি বা ভিডিও যা অনলাইনে দেখা যায়। এছাড়া কোনও লাইভ অনুষ্ঠানও অনলাইনে দেখা যাবে, যেমন, ক্রিকেট ম্যাচ লাইভ, ফুটবল ম্যাচ লাইভ, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ও কনসার্ট ইত্যাদি।

স্ট্রিমিং সেবা ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট দুই মাধ্যমেই দেখা যায়। দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) এজন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ অফার করে থাকে। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ নির্ভর অ্যাপসের মাধ্যমেও এসব দেখা যায়। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরগুলোরও রয়েছে এ ধরনের সেবা। টাকা দিয়ে এবং বিনামূল্যে অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ দিচ্ছে অপারেটরগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা নেটফ্লিক্স, হইচই, জি-ফাইভ, আইফ্লিক্স ইত্যাদি এবং দেশীয়গুলোর মধ্যে গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ, রবির রবি টিভি প্লাস, বাংলালিংকের ভাইব, বাংলাফ্লিক্স ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া রিসার্চ এজেন্সি) কান্তার-এর একটি জরিপের ফল (২০১৮ সালে প্রকাশিত) থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০০৮ সালে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মাত্র ১ শতাংশ ছিল ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিসের দর্শক। ২০১০ সালে যা ছিল ২, ২০১২ সালে ৪, ২০১৪ সালে ৮, ২০১৬ সালে ১৫ এবং ২০১৮ সালে ছিল ২৬ শতাংশ। সংস্থাটি প্রতি দুই বছর পরপর এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের ফলে দেখা গেছে, অনলাইনে স্ট্রিমিং সার্ভিসের দর্শক সংখ্যা প্রতি দুই বছর পরপর দ্বিগুণ হারে বাড়লেও টিভি দর্শক কিন্তু কমেনি। বরং বেড়েছে। অনলাইনের মতো দ্বিগুণ না বাড়লেও প্রতি দুই বছর পরপর প্রকাশিত জরিপের ফলে দেখা গেছে তা বেড়েছে।    

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘ইন্টারনেটে যেসব কনটেন্ট দেখা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগ বিদেশের। যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ও নেটফ্লিক্স ইত্যাদি। আমাদের দেশীয় কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। আইপি টিভি বেশি বেশি তৈরি করতে হবে। তাহলে দর্শকরা আমাদের সার্ভিসগুলো দেখবে। ওটিটি (ওভার দ্য টপ অ্যাপস) সার্ভিস ও ভিডিও অন ডিমান্ড সেবা তৈরি করতে পারলে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ কম ব্যবহার হবে। দেশীয় সার্ভিসগুলো তখন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।’ তিনি মনে করেন, স্ট্রিমিং সার্ভিস যত বেশি দেওয়া যাবে, ততই দর্শকের চোখ থাকবে আমাদের দেশীয় কনটেন্টের দিকে।  তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট ব্যান্ডউইথের প্রায় ৪০ শতাংশ অনলাইন স্ট্রিমিং, ভিডিও অন ডিমান্ড ইত্যাদি দেখতে ব্যবহার হয়।

এদিকে দেশের তিনটি শীর্ষ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথ কনজিউমের (ব্যবহার) ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার হওয়া ব্যান্ডউইথের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার হয় স্ট্রিমিং সার্ভিস ও কনটেন্ট দেখায়।

একটি আইএসপির ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাসে ওই প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় প্রায় ১৪ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড)। এরমধ্যে ফেসবুকের জন্য ব্যবহার হয় ৫ জিবিপিএস। গড়ে তা হয় আড়াই জিবিপিএস। আর সর্বনিম্ন থাকে এক জিবিপিএস। অন্যদিকে ইউটিউবের জন্য ব্যয় হয় ৭ জিবিপিএস। আর নেটফ্লিক্সে ব্যবহার হয় এক জিবিপিএসের মতো। অন্যদিকে আকামাইয়ের জন্য গড়ে ব্যবহার হয় ৭০০ থেকে ৮০০ এমবিপিএস (মেগাবিটস পার সেকেন্ড)। তবে খেলা চলাকালে তা বেড়ে হয় আড়াই জিবিপিএসের মতো।

মালয়েশিয়াভিত্তিক আইফ্লিক্সের বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড আশিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিমাসে বাংলাদেশের গড়ে ১৫ লাখ দর্শক আইফ্লিক্স দেখেন। দর্শকরা অনেক্ষণ আইফ্লিক্সে থাকেন। প্রতিমাসে ভিউয়ের পরিমাণ ২ কোটি মিনিট। বিশ্বের ২২টি দেশে আইফ্লিক্সের অপারেশন রয়েছে। বাংলাদেশেও অফিস রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এখন বাংলায়ও প্রচুর কনটেন্ট থাকছে। বাংলাদেশের অনেক ছেলে এর জন্য কাজ করছে। আইফ্লিক্স দেশের একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে পার্টনারশিপে থাকলেও এটা এখন উন্মুক্ত। সবাই এটা দেখতে পারছেন।’

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের রয়েছে বায়োস্কোপ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এই অ্যাপে বাংলা চলচ্চিত্র, নাটক, ওয়েব সিরিজ ও মিউজিক ভিডিও ইত্যাদি দেখা যায়। গ্রামীণফোন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক অ্যাপটি ব্যবহার করেন। এছাড়া ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ লাখ গ্রাহক এটি ব্যবহার করে থাকেন। দিন দিন এর গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া গ্রামীণফোনের রয়েছে জিপি মিউজিক প্ল্যাটফর্ম। 

মোবাইল অপারেটর রবির রয়েছে একাধিক প্ল্যাটফর্ম। রবি টিভি প্লাস, মাই স্পোর্টস, রবি স্ক্রিন ও কুক টিভি। মিউজিকের জন্য রয়েছে স্প্ল্যাশ। এছাড়া আইফ্লিক্সের মাধ্যমেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কনটেন্ট। অন্যদিকে ভারতীয় জি-বাংলা চ্যানেলের অ্যাপ জি-ফাইভ দেখা যায় রবিসহ অন্যান্য নেটওয়ার্কে। এটা ওপেন প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় রবি গ্রাহকরা তাদের স্মার্টফোনে জি-ফাইভ অ্যাপ ডাউনলোড করে সব অনুষ্ঠানে দেখতে পারবেন। রবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন অপারেটরটির নেটওয়ার্ক থেকে এক থেকে দেড় শতাধিক অ্যাপ (জি-ফাইভ) ডাউনলোড হচ্ছে।

বাংলালিংকেরও রয়েছে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। এগুলোতে গান, নাটক, খেলা, ইসলামিক কনটেন্ট ইত্যাদি রয়েছে অপারেটরটির। বাংলালিংক সূত্রে জানা গেছে, অপারেটরটির রয়েছে বাংলা মিউজিক প্ল্যাটফর্ম ভাইব, বাংলা ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট বাংলাফ্লিক্স, খেলার জন্য রয়েছে গেম অন, নতুন ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম টফি ইত্যাদি।

অন্যদিকে এয়ারটেলের রয়েছে স্প্ল্যাশ, এয়ারটেল স্ক্রিন ও এয়ারটেল টিভি প্লাস, এয়ারটেল মাই স্পোর্টস, ওয়াচমোর প্ল্যাটফর্ম। এসব প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান দেখতে পান গ্রাহকরা।   

/এনআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ