করোনার প্রভাব: অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা

Send
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রকাশিত : ২৩:১০, মার্চ ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৫, মার্চ ১৭, ২০২০





অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরাগত কয়েকদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একাধিক রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার (১৬ মার্চ) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। অনলাইনে বিনামূল্যে ‘জুম’ নামের ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়াসহ পুরো ক্লাসের কার্যক্রম শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার আগেই সোমবার প্রথম অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আজই আমরা প্রথম অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করলাম। শিক্ষার্থীরা কেউ বাসা থেকে, কেউ ভ্রমণকালীন অবস্থায় অনলাইনে এ ক্লাসে অংশ নিয়েছে।’ পুরো প্রক্রিয়াটি জুম-এর মাধ্যমে করা হয়েছে উল্লেখ করে রাফিউদ্দীন জানান, আমরা গুগল ডিজিটাল ক্লাসরুম ব্যবহার করেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছি। এ পদ্ধতিতে যেকোনও শিক্ষকই ক্লাস নিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ভিত্তিক ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে বাংলাদেশেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত রবিবার (১৫ মার্চ) থেকে অনলাইনে ডেমো ক্লাস চালু করেছে ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ।

ধানমন্ডির সোবহান বাগ ক্যাম্পাসে অনলাইন ডেমো ক্লাস নিয়েছেন বিভাগটির প্রধান ড. শেখ শফিউল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রেখেছিলাম। যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে, তাই আমরা এখন থেকে অনলাইনেই ক্লাস নেবো।’

অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার এমন পদ্ধতি বিষয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় অনুষদের ডিন এবং ওপেন এডুকেশন বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা অধ্যাপক মোস্তফা আজাদ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওপেন এডুকেশনের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রেখে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া, কুইজ নেওয়ার কাজটি খুব সহজেই করা সম্ভব। পাশাপাশি নির্ধারিত পাঠ্যবই বাদ দিয়ে বা পাশাপাশি অনলাইনে বিদ্যমান ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ