'ফাহিম একজন দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তরুণ উদ্যোক্তা ছিলেন'

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৩৩, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১০, জুলাই ১৬, ২০২০

নিহত ফাহিম সালেহ, ছবি- সংগৃহীতবাংলাদেশি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাওয়ের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ একজন দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তরুণ উদ্যোক্তা ছিলেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম ছিলেন অসাধারণ উদ্ভাবনী মেধাশক্তির অধিকারী। ফাহিমের অকাল মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় এ কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।

মেধাবী এই উদ্ভাবক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপস কোম্পানি, ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধান করে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। তার উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন অ্যাপস পাঠাও চালু করে রাজধানীর যাতায়াত সমস্যা সমাধান ও কর্মসংস্থানে কার্যকর অবদান রেখেছে বলে উল্লেখ করেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক মানের অসাধারণ মেধাশক্তির অধিকারী একজন তরুণ উদ্ভাবককে হারালাম। যার অভাব কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে পাঠাওয়ের অপর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হুসাইন এম ইলিয়াস ফাহিমের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, পাঠাওয়ের প্রতিষ্ঠাতাবর্গের অন্যতম সদস্য ফাহিম সালেহের মৃত্যুর সংবাদে আমরা মর্মাহত।

দেশ ও দেশের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের সম্ভাবনায় বিশ্বাসী ছিলেন ফাহিম। আমাদের ওপর তার ছিল দৃঢ় আস্থা, আর তাই একই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল আমাদের যাত্রা।

পাঠাও পরিবারের জন্য তিনি ছিলেন, আছেন এবং চিরকাল থাকবেন এক অবিশ্বাস্য অনুপ্রেরণা হয়ে।

ফাহিমের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

বেসিসের শোকবার্তায় বলা হয়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা রীতিমতো স্তম্ভিত। একইসঙ্গে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সব উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ফাহিমের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায় বেসিস।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন এলাকার নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনও হত্যার রহস্য জানা যায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, মুখঢাকা কেউ প্রবেশ করেছিলেন ফাহিমের ঘরে।

ফাহিম সালেহ ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফিরে যৌথভাবে ‘পাঠাও অ্যাপ’ চালু করে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। নিহত ফাহিম সালেহ বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও ছাড়াও নাইজেরিয়ায় ‘গোকান্ডা’ নামে আরেকটি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। পেশায় ওয়েবসাইট ডেভেলপার ফাহিম অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল গ্লোবাল নামক একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানেরও উদ্যোক্তা ছিলেন।

আরও পড়ুন- পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ খুন



/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ