৬০ ভাগ কাজ হারিয়েছে বিপিও ইন্ডাস্ট্রি

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৩:০০, আগস্ট ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৮, আগস্ট ২৪, ২০২০

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনের বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) শিল্প খাত গত কয়েক মাসে কাজ হারিয়েছে ৬০ ভাগের বেশি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই শিল্প আরও কাজ হারাবে। খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এরইমধ্যে কলসেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করে, বেতন কমিয়ে, ভর্তুকি দিয়ে কোনোমতে টিকে আছে।

জানা গেছে, বিপিও খাত নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাক্য (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং)-এর সদস্য সংখ্যা ১৫৬টি। এরমধ্যে অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ, অফিস তালাবদ্ধ। আর বিপিও নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০০টির মতো হবে। অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স নিলেও সেভাবে কাজ করে না।

‘বাক্য’ সূত্রে জানা গেছে, বিপিও খাতে দেশের বাজার পরিধি ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ কলসেন্টারভিত্তিক (দেশের বাইরে এর পরিমাণ ১২-১২ শতাংশ)। অবশিষ্ট কাজ ডাটা এন্ট্রি, মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশন (মেডিক্যাল স্ক্রাইব), টেলিমেডিসিন, গ্রাফিক্সের কাজ, ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিংভিত্তিক কাজ ইত্যাদি। সূত্র আরও জানায়, দেশের বিপিও খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় ঢাকা থেকে। এরমধ্যে ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের কাজ করে থাকে।

জানতে চাইলে বাক্য’র মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এই খাতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে আবারও কোম্পানিগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা সেটা বেশ ভাবনার একটা বিষয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ ৬০ ভাগের বেশি কমে গেছে।’ তিনি জানান, কলসেন্টারগুলোর কর্মীদের অফিসে এসে কাজ করতে হতো। করোনাকালে সেটা কমে যায়। ফলে কাজও কমতে থাকে। দেশে লকডাউন চলায় ব্যাংক, বিমা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বন্ধ ছিল। করোনাকালে দেশে কোনও সার্ভে হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনও ডাটা আসেনি। তাই ডাটা এন্ট্রির কাজও বন্ধ গত ৫ মাস ধরে।’

তৌহিদ হোসেন জানান, গত কয়েক মাসে বিপিও খাত থেকে ১৫-২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। কর্মীদের বেতন কর্তন করা হয়েছে ১০-৫০ শতাংশ। তারপরও কোম্পানিগুলো টিকতে পারছে না। কলসেন্টারগুলোর বড় বড় অবকাঠামো রয়েছে। সেগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হয়েছে। কারণ, এসব অবকাঠামো একবার নষ্ট করে ফেললে পুনরায় তা চালু করা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। তাই ভর্তুকি দিয়েই আপাতত চালিয়ে নিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সেসময়ে নতুনভাবে ফিরে আসতে চায় বিপিও খাত।

তিনি মনে করেন, করোনাকালে প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। ব্যবহারও বেড়েছে বহুমুখী। ই-কমার্সের ব্যাপক প্রসার, অনলাইন স্কুল চালু, টেলিমেডিসিনের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি কারণে আগামীতে বিপিও খাতে নতুন নতুন কাজ যুক্ত হতে পারে। এমনকি ব্যাক অফিসের কাজ বিপিও খাতে আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

বিপিও খাতের দুরবস্থা কাটিয়ে যাতে কোম্পানিগুলো নতুন করে এই খাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এজন্য বিপিও খাতের সংগঠন (বাক্য) প্রাইম ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসির সঙ্গে ‘কো-ল্যাটারাল’ চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটো বাক্য’র সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে। বাক্য’র মহাসচিব আশাবাদী, তাদের প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠান ঋণ পাওয়ার মতো যোগ্য। কারণ, হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই বড় বড় অবকাঠামো রয়েছে—যা ঋণ পাওয়ার পেছনে উপযুক্ত সম্পদ, দলিল।

তিনি জানান, এরই মধ্যে ঋণের জন্য আবেদন আসতে শুরু করেছে। যদিও ধীরগতিতে। তবে যাদের প্রয়োজন তারাই আবেদন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আরও জানান, ঋণ নিলেই তো হবে না, পরিশোধও তো করতে হবে। আগামীতে কাজ কেমন আসবে, ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা—এমন শতেক প্রশ্ন আছে। প্রশ্নগুলোর জবাব মিললেই হয়তো আবেদন আরও আসতে শুরু করবে।

জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিপিও খাতের প্রশিক্ষণ এসইআইপি (স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) বন্ধ রয়েছে। ফলে এই খাতে দক্ষ কর্মী তৈরির পথটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। প্রশিক্ষণ আবারও চালু হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর মাস থেকে এসইআইপি প্রশিক্ষণ আবারও শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাক্য মহাসচিব।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X