স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়া যাবে ফেসবুক ইউটিউবে

Send
দায়িদ হাসান মিলন
প্রকাশিত : ১৭:০৯, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৯, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০

মেডিটকপ্রযুক্তি মানুষের জীবনে কতটা আশীর্বাদ হতে পারে তা দেখা যাচ্ছে চলমান করোনা মহামারির সময়ে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সচেতনতা, সতর্কতা, করোনা বিষয়ক তথ্য, পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সেবা। এই সময়ে ফেসবুক ও ইউটিউবের সাহায্যে মানুষকে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে সাড়া ফেলেছে মেডিটক ডিজিটাল।

মেডিটক ডিজিটালের যাত্রা শুরু ২০১৯ সালের এপ্রিলে। মাত্র দেড় বছরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছেন উদ্যোক্তারা। এ কারণে মেডিটকের প্রতিদিনের লাইভগুলো দেখতে ফেসবুক ও ইউটিউবে যুক্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তারা লাইভ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ নিচ্ছেন।

মেডিটক ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা মো. রিয়াসাত আজিম ইভান। তিনি জানান তার এই উদ্যোগের কথা। ফেসবুক-ইউটিউবের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার ধারণাটা কীভাবে পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তখন একটি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম যার কনটেন্ট ও সার্ভিস ডেভেলপমেন্ট বিভাগটি আমার দায়িত্বে ছিল। আমাদের প্রধান কাজ ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষের কাছে স্বাস্থ্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এতে আমরা সফলও হয়েছিলাম। তখন থেকেই একটা ইচ্ছা ছিল- নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান চালু করবো।

মেডিটক ডিজিটালের শুরু সম্পর্কে রিয়াসাত আজিম বলেন, ২০১৯ সালে মেডিটক ডিজিটালের জন্ম। শুরুর দিকে শুধু ইউটিউবে স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করা হতো যার মাধ্যমে আমরা অল্প সময়ে ব্যাপক সাড়া পাই। এ কারণে দ্রুতই আমার হাতে চলে আসে ‘ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন’। এতে আমার কাজের উৎসাহ অনেক বেড়ে যায়, আর আমি মেডিটককে নিয়ে আরও গুরুত্বসহকারে সামনে এগোনোর পরিকল্পনা করি। ফেসবুক পেজটি তখন একটু ঠিকঠাক করার উদ্যোগ নিই। বাধা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনার শুরুতেই হোঁচট খেলাম। শুরু হলো করোনার ভয়াল সময়। মাত্র নতুনভাবে ডিজাইন করা স্টুডিও থেকে পেশাদারভাবে স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান তৈরির কাজ শুরু করবো ভেবেছিলাম, সেটা স্থগিত করতে হলো। আবার করোনার জন্য চিকিৎসকদের কর্মস্থলে গিয়ে ভিডিও শ্যুট করা থেকেও বিরত থাকতে হলো।

এরপর তিনি অনলাইনে ঘরে বসে লাইভের মাধ্যমে সরাসরি চিকিৎসকদের পরামর্শের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ব্যাপারটি এমন যে, প্রতিদিনই কোনও না কোনও বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকে লাইভে আমন্ত্রণ জানানো হতো। লাইভে দর্শকরা কমেন্টের মাধ্যমে প্রশ্ন করতেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উত্তরও পেয়ে যেতেন, যা করোনার এই সময়ে খুব জরুরি ছিল। তিনি বলেন, আগে আমরা দিনে ১টি লাইভ করতাম। এখন দিনে ৩ থেকে ৪টির মতো লাইভ অনুষ্ঠান করছি, আর সঙ্গে মাঝে মাঝে স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস, ছবি ও ভিডিও আকারেও দিচ্ছি।

মো. রিয়াসাত আজিম ইভান

কেমন সাড়া পেলেন জানতে চাইলে রিয়াসাত আজিম বলেন, অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/MediTalkDigital) ইউটিউব চ্যানেল (https://www.youtube.com/meditalkdigital) মিলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ মানুষ আমাদের ফলো করছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবের রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত আমাদের ভিডিওগুলো প্রায় ৫ কোটি মিনিট দেখা হয়েছে। ভিডিওতে থাকা প্রতিটি কথাই স্বাস্থ্যবিষয়ক এবং তা মানুষের উপকারের জন্য। যে ব্যপারটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তা হলো, মেডিটকের প্রতি চিকিৎসকদের সাপোর্ট ও ভালোবাসা। যা ছাড়া এতদূর আসতে পারতাম না। মানুষের কাছে সঠিক স্বাস্থ্য তথ্যটি পৌঁছে দিতে চিকিৎসকরা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। তারা তাদের ব্যক্তিগত সময় থেকে মেডিটকের জন্য পরামর্শ প্রত্যাশী মানুষদের জন্য সময় ব্যয় করেছেন, ফিডব্যাক দিয়েছেন, এটাই অনেক পাওয়া আমার কাছে।          

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও কনটেন্ট তৈরির করার কাজ চলছে। সারাবিশ্বের বাংলাদেশের চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যতথ্য যেন পৌঁছে দিতে পারি সে লক্ষে কাজ করছি, তাছাড়া প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াটাও মেডিটকের অন্যতম লক্ষ্য। চেষ্টা করছি ভিন্ন মাত্রার কিছু সেবা যুক্ত করতে। ইতোমধ্যে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। সেটা তৈরি হলে আরও সহজে সবার কাছে পৌঁছাতে পারবো।

/এইচএএইচ/

/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ
X