২০২১ সালের শুরুতে দূর হতে পারে ল্যাপটপের সংকট

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৭:৫৫, নভেম্বর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০, নভেম্বর ২০, ২০২০

ল্যাপটপ

দেশের বাজারে ল্যাপটপের সংকট সহসাই কাটছে না। এ সংকট আগামী বছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জানুয়ারি-মার্চ) গিয়ে শেষ হতে পারে। বাজারে বাজেট (কম দামের) ল্যাপটপের সংকট তীব্র হলেও হাই-এন্ড (বেশি দামের) ল্যাপটপের সংকট তীব্র নয়। অপেক্ষার কয়েকদিনের মধ্যেই তা মিলছে বলে বাজার সংশ্লিষ্ট ও কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে ডেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বাজারে তাদের (ডেল ব্র্যান্ড) ল্যাপটপের কোনও ঘাটতি নেই। সাপ্লাই চেইন ঠিক রয়েছে।

এদিকে প্রসেসর নির্মাতা ইন্টেল করপোরেশন তাদের ইলেভেন জেন (১১তম জেনারেশন) প্রসেসরের বাজারে আসার তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে। অক্টোবরের শেষ দিকে বাজারে আসার কথা থাকলেও প্রসসেরটি নতুন বছরের প্রথম কোয়ার্টারের শুরুর (জানুয়ারি-মার্চ) দিকে আসতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টেল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যুগ্ম সম্পাদক মুজাহিদ আল বেরুনি সুজন বলেন, ‘করোনার সময়ে ল্যাপটপের বাজার যেখানে পৌঁছেছিল (প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার ইউনিট বিক্রি) সেখান থেকে ৫০ শতাংশ বাজার আমরা হারিয়েছি ল্যাপটপের সংকটের কারণে। অপরদিকে যে ৩৫ শতাংশ বাজার গ্রোথ হয়েছিল, সেই গ্রোথটাও আমরা ধরে রাখতে পারিনি। ফলে সার্বিক বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।’ এজন্য ল্যাপটপই বড় কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, পিসির (পারসোনাল কম্পিউটার) বিক্রি ঠিক আছে। হাই-এন্ড ব্র্যান্ড ও গেমিং পিসির বিক্রি বেড়েছে। ল্যাপটপ কিনতে এসে যারা পাচ্ছে না, তারাই পিসির বড় ক্রেতা। তবে ক্লোন পিসির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে তিনি জানান। ইন্টেলের ‘ইলেভেন জেন’ পিসির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাজারে আগমনের তারিখ পিছিয়েছে।’ তবে এজন্য ল্যাপটপপ্রেমীদের নতুন বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে এই প্রসেসরের ল্যাপটপ বাজারে চলে আসবে। তবে সেখানেও সংকট থাকবে। তিন হাজার ইউনিটের চাহিদা থাকলেও সর্বোচ্চ ৫০০ ইউনিট বাজারে আসতে পারে বলে জানান সুজন।

বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের চেয়ে ব্যতিক্রম ডেল ব্র্যান্ড। বাজারে ব্র্যান্ডটির ল্যাপটপের কোনও সংকট নেই। এর সাপ্লাই চেন ঠিক আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ডেলের কান্ট্রি ম্যানেজার আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘করোনার শুরুর দিকে ল্যাপটপে সংকট দেখা দিলেও বর্তমানে তা নেই। বাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডেল ল্যাপটপ আছে।’ বৈশ্বিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি (ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন) সম্প্রতি শীর্ষ যে ১০ ব্র্যান্ডের (শিপমেন্টর ওপর ভিত্তি করে) তালিকা প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে এক নম্বরে ডেলের অবস্থান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুর রহমান বলেন, ‘এটা চলতি বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুন-আগস্ট) প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে ডেল ব্র্যান্ড (ক্লায়েন্ট প্রোডাক্ট) শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। ডেলের ক্লায়েন্ট প্রোডাক্টের মধ্যে রয়েছে নোটবুক, পিসি, ওয়ার্কস্টেশন ইত্যাদি।’

আরেক ব্র্যান্ড আসুস সূত্রে জানা গেছে, ব্যান্ডটির প্রিমিয়াম সিরিজের ল্যাপটপের সংকট কম। বাজারে তাদের গেমিং ল্যাপটপও রয়েছে পর্যাপ্ত। তবে বাজেট সিরিজের (৬০ হাজার টাকার মধ্যে) ল্যাপটপের সংকট রয়েছে। আসুস গ্লোবাল পিটিই’র ডিজিটাল অ্যান্ড পিআর স্পেশালিস্ট নাফিজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘বাজেট সিরিজের ল্যাপটপের চাহিদা বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অনলাইন ক্লাস, মিটিং শুরু হওয়ায় হঠাৎ করে আকাশচুম্বী চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে দিন দিন সংকট বেড়েছেই।’ তিনি জানান, আসুসের বাজেট সিরিজ ল্যাপটপের অন্তত শতাধিক মডেলের ল্যাপটপ আছে, কিন্তু চাহিদা থাকায় শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাজারে সংকটও দেখা দিয়েছে। তার মতে, আগামী বছরের প্রথম কোয়ার্টার নাগাদ করোনার কারণে বাজার ইফেক্টেড থাকতে পারে।

একই অবস্থা এইচপি, এসার, এমএসআই ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও। বাজেট সিরিজের ল্যাপটপগুলোর সংকট যাচ্ছে। বাজারে অল্প সংখ্যক ল্যাপটপ ঢোকামাত্রই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ