সাক্ষাৎকারে বিসিএস সভাপতি আলী আশফাক‘প্রযুক্তি পণ্য নিয়ে দেশে গবেষণা হয় না, আমরা গবেষণা সেল গঠন করব’

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৯:৫৩, এপ্রিল ১৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৬, এপ্রিল ১৮, ২০১৬

 আলী আশফাক

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) নবনির্বাচিত সভাপতি আলী আশফাক একক উদ্যোগে নয়, বরং সংগঠনটি পরিচালনা করতে চান সমষ্টিগত উদ্যোগের মাধ্যমে। বাণিজ্যিক এই সংগঠনটিকে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও দাঁড় করাতে চান।  

দেশে হার্ডওয়্যার শিল্প স্থাপনে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটা সময়ের চাহিদা। এই প্রস্তাবটা আসলে আমাদেরই।

দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রযুক্তি পণ্যে বিদ্যমান ওয়ারেন্টি সমস্যা দূর এবং প্রযুক্তি পণ্যের ওপর থেকে পুরোপুরি ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য কাজ করবেন বলে জানান। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি আরও বলেন, বিসিএসে একটি গবেষণা সেল গঠন করবেন।

আলী আশফাক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর এম সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া এই ব্যবসায়ী ১৯৯১ সাল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি বিসিএস’র সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।     

 বাংলা ট্রিবিউন: নতুন সভাপতি হিসেবে বিসিএস-এর জন্য আপনি কি করতে চান?

 আলী আশফাক: বিসিএস একটি বাণিজ্যিক সংগঠন। এতোদিন এই সংগঠনের সমস্যা অনেকে এককভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সামষ্টিকভাবে করেনি। এর সব সমস্যা সামষ্টিকভাবে করতে হবে।

 আমি মনে করি, যারা এই বাণিজ্যিক সংগঠনটির সদস্য তারা সবাই এক একজন সংগঠক। যেহেতু প্রত্যেকেই এক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। কোনও একক ব্যক্তি বাণিজ্যিক সংগঠনের সম্প্রসারণে এখনকার সময়ে বেশি এগোতে পারেন না। সম্মিলিত প্রতিনিধিত্বই পারে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে। তাহলে সদস্যরা এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

 বাংলা ট্রিবিউন: আপনার মেয়াদ শেষে বিসিএসকে কোথায় দেখতে চান?

 আলী আশফাক: আমরা (বিসিএস) গ্লোবালি কানেক্টেড। দুইটা জায়গায় উন্নয়নের জন্য সংগঠনটি কাজ করতে পারে। প্রাইভেট এবং পাবলিক-এই দুই জায়গায় দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য এটা মাদার অর্গানাইজেশন হিসেবে কাজ করতে পারে বিসিএস। এটাই হওয়া বাঞ্ছনীয়।

 বাংলা ট্রিবিউন: আপনি আপনার স্বপ্নের কথা বলছিলেন।

 আলী আশফাক: আমার মেয়াদে বিসিএস থেকে একটি রিসার্চ সেল বা গবেষাণা কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। এটা আমাদের স্বার্থেই করতে হবে। দেশে এত বড় বড় প্রযুক্তির মার্কেট গড়ে উঠেছে কিন্তু দুঃখের কথা হলো আমাদের কোনও প্রযুক্তি পণ্য নিয়ে গবেষণা নেই। কেউ কেউ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কিন্তু সেসব আসলে কতটা সঠিক তা নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ওঠে। আমরা যে রিসার্চ সেল করব সেই সেল থেকে দিক নির্দেশনামূলক, পলিসিগত ও ব্যবসায়ীদের সহায়ক তথ্য দেওয়া হবে। বাজার কি ধরনের পণ্যর চাহিদা, তরুণরা কোন পণ্যে আগ্রহী সেসব জানা আসলে খুব জরুরি।

 বাংলা ট্রিবিউন: আগামী দুই বছরে আপনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

 আলী আশফাক: বিসিএস যে এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়ার বিষয়টি চালু করেছে বা নিয়ম করেছে তা ব্যবসায়িকভাবে ঠিক করতে হবে। এক বছর, দুই বছর বা তিন বছর যা-ই করা হোক না কেন তা ব্যবসায়ীদের একজায়গায় বসে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আসলে সেবা নিশ্চিত করাটাই হচ্ছে আসল  কাজ।

 বাংলা ট্রিবিউন: হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে সরকার আগ্রহী দেখা যাচ্ছে।

 আলী আশফাক: আসলে এটা আমাদেরই চাহিদা ছিল, প্রস্তাব ছিল। এটা আসলে আমাদেরই উদ্যোগ।

 

আমাদের এখানে তো একেবারে জন্মলগ্ন থেকেই জোড়া (অ্যাসেম্বল করে) দিয়ে জিনিস বানায়। কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রি বলতে কি বোঝায়? জোড়া দেওয়াই তো। এটা সরকারকে বোঝানো গেছে। সরকার এর জন্য নীতিমালা তৈরি করছে। যা যা করা লাগবে সরকার করবে। অবকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছে। যেহেতু দেশে সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। অ্যাসেম্বিলিং তো আমরা করিই। কেবল এটাকে ইন্ড্রাস্ট্রি ফরম্যাটের মধ্যে ফেলা। কেন দেশের বাইরে থেকে প্রযুক্তি পণ্য অ্যাসেম্বল হয়ে আসবে? এটা যদি দেশে করা যায় তাহলে কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে তা ভাবা যায়!

 বাংলা ট্রিবিউন: কোনও পরিকল্পনা আছে আপনাদের?

 আলী আশফাক: আমাদের এখানে তো একেবারে জন্মলগ্ন থেকেই জোড়া (অ্যাসেম্বল করে) দিয়ে জিনিস বানায়। কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রি বলতে কি বোঝায়? জোড়া দেওয়াই তো। এটা সরকারকে বোঝানো গেছে। সরকার এর জন্য নীতিমালা তৈরি করছে। যা যা করা লাগবে সরকার করবে। অবকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছে। যেহেতু দেশে সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। অ্যাসেম্বিলিং তো আমরা করিই। কেবল এটাকে ইন্ড্রাস্ট্রি ফরম্যাটের মধ্যে ফেলা। কেন দেশের বাইরে থেকে প্রযুক্তি পণ্য অ্যাসেম্বল হয়ে আসবে? এটা যদি দেশে করা যায় তাহলে কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে তা ভাবা যায়!

 বাংলা ট্রিবিউন: প্রযুক্তি পণ্যেভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) নিয়ে একটা জটিলতা রয়েই গেছে।    

নিজের অফিসে আলী আশফাক

 আলী আশফাক: আইনগত জটিলতা এবং দুই একটি শব্দের কারণে হচ্ছে না। তবে আশার কথা হলো সমাধান হয়ে যাবে। বলা হচ্ছে, আইটি পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে কিন্তু ধাপগুলো ক্লিয়ার করা হয়নি। এ কারণে সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

শুল্ক প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সরকার কিছু পণ্যের নাম দিয়েছে কিন্তু এর বাইরে যে আরও অনেক পণ্য রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে বলা হলেও আসলে সব পণ্যের ওপর থেকে নয়। এ কারণে সমস্যা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আইনগত জটিলতা এবং দুই একটি শব্দের কারণে হচ্ছে না। তবে আশার কথা হলো সমাধান হয়ে যাবে। বলা হচ্ছে, আইটি পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে কিন্তু ধাপগুলো ক্লিয়ার করা হয়নি। এ কারণে সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। শুল্ক প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সরকার কিছু পণ্যের নাম দিয়েছে কিন্তু এর বাইরে যে আরও অনেক পণ্য রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে বলা হলেও আসলে সব পণ্যের ওপর থেকে নয়। এ কারণে সমস্যা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 বাংলা ট্রিবিউন: দেশর বাইরে যে ধরনের প্রযুক্তি মেলা হয় আমাদের দেশে কি সেই আদলে মেলা করা সম্ভব?

 আলী আশফাক: কেন সম্ভব নয়। এইবারই তো (বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৬) হলো। এর আগেরগুলো তো এভাবে হয়নি। এই মেলার পার্থক্য হলো, এবার বিদেশি অতিথিদের নিয়ে এসে বলা হয়েছে, তোমার ইনোভেটিভ জিনিস কি আছে? কতদিন আর ট্রেড করে খাবা? বরং তুমি বল, এখানে কি করতে পারবা।

 সরকার ডিসপ্লে করেছে, এই বছর আমার সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি পণ্য ক্রয় (আইটি স্পেন্ডিং) করতে হয়েছে। চলতি বছর তা ১০-১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ২০২১ সাল নাগাদ তা ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই টাকা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে না? তাই বিদেশিদের বলা হচ্ছে তোমরা আসো, এখানে উৎপাদন শুরু কর।

 বাংলা ট্রিবিউন: ওয়ারেন্টির একটা ঝামেলা ছিল।

 আলী আশফাক: বিসিএস থেকে যেকোনও প্রযুক্তি পণ্যে এক বছরের ওয়ারেন্টির বিষয়টি বলা হয়েছিল। এটা আসলে ট্রায়েল এবং আলোচনার মধ্যে ছিল। এটা এক বছর বা ৩ বছর কোনও ব্যাপার নয়। ক্রেতা টাকা দিচ্ছে কেনার সময় কিন্তু সেবা পাচ্ছে না, এটাই সমস্যা। সেবা্টা নিশ্চিত করাটাই হচ্ছে কাজ। এটা পণ্যের মূল্যের মধ্যে থাকাই ভালো। সেবাটা ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। সেবাটা কস্টিয়েংর মধ্যেই থাকতে হবে। এটা আলোচনার একটা পরযায়ে আছে। আরেকটু আলোচনা করা হলে আশাকরি একটা সমাধান হয়ে যাবে। তখন ওয়ারেন্টি এক বছর, তিন বছর বা ৫ বছর হলেও কোনও ব্যাপার হবে না। এটা আসলে ডিপেন্ডস অন। ক্ষুদ্র ও মাঝারিমানের ব্যবসায়ীদেরই হচ্ছে সমস্যা। তাদের ডিপেনডেন্সি যতদিন না কমবে ততদিন এই সমস্যার সমাধান হবে না।আর ইন্টারন্যাশনাল ওয়ারেন্টি হলো এক বছরের পরের ওয়ারেন্টি পণ্য কেনার সময় আমাদের পয়সা দিয়ে কিনতে হয়।

বাংলা ট্রিবিউন:সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আলী আশফাক: বাংলা ট্রিবিউনের জন্য শুভেচ্ছা।

 

/এইচএএইচ/ 

লাইভ

টপ