ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) সামিটে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলা হবে। করোনার ফলে বাজার হারিয়ে দেশের বিপিও খাত খাদের একেবারে কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো হলো সেটা জানানো হবে খাত সংশ্লিষ্টদের। বিশ্ব দরবারে পৌঁছানো হবে সক্ষমতার গল্প। বাংলাদেশের বিপিও খাত কী পারে, আর নতুন করে এই খাতে কী কী যুক্ত হলো তা তুলে ধরা হবে আসছে বিপিও সামিটে।
ডিসেম্বরের ৮-১১ তারিখ পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০২২। সেই আয়োজনের মধ্যে ৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বিপিও সামিট। এবারের বিপিও সামিট অন্যান্যবারের মতো হচ্ছে না। এবার সরাসরি রাজধানীতে এ কর্মযজ্ঞের আয়োজন হচ্ছে না। দেশের প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় বিপিও সামিট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যে বিভাগীয় বিপিও সামিট আয়োজন শেষ হবে। ডিসেম্বরে ঢাকায় মূল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, বিভাগীয় আয়োজনের জন্য এরইমধ্যে টেন্ডারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সাত বিভাগে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় বিপিও সামিটে ক্যারিয়ার মেলা, চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনগুলোতে পলিসি পর্যায়ের লোকজন সামিটে উপস্থিত থাকবেন। বিভাগীয় সামিটের প্রাপ্ত সুপারিশমালা মূল সামিটে প্রতিফলিত হবে বলে তারা জানান।
প্রসঙ্গত, বিপিও অর্থ বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিং বলতে শুধু কল সেন্টার আউটসোর্সিং নয়। টেলিযোগাযোগ, ব্যাংক, বিমা, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসের কাজ (কল সেন্টার), এইচআর, আইটি অ্যাকাউন্ট সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করার বিষয়টিকে সাধারণভাবে বিপিও বলা হয়ে থাকে।
দেশে ২০১৫ সালে প্রথবারের মতো বিপিও সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে ২০১৬, ২০১৮, ২০১৯ সালে দেশে আন্তর্জাতিক আবহে বিপিও সামিট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ২০১৭ সালে বিপিও সামিট হয়নি।
দেশের বিপিও প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাক্কো (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং)-এর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন জানান, দেশের বিপিও খাতের বাজার আকার প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলার হলো আন্তর্জাতিক বাজার আর স্থানীয় বাজার ২০০ মিলিয়ন ডলারের। তিনি জানান, বর্তমান সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠান ২৭০টি। এতে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাকালে দেশে কল সেন্টারগুলো বাজার হারিয়েছিল ৬০ শতাংশের বেশি। সেখান থেকে এই খাত ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার আগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে। এরমধ্যে এই আউট সোর্সিং খাতে গ্রাফিক্স, ডিজিটাল মিডিয়া, ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং, চিকিৎসা খাত ও পর্যটন খাত কল সেন্টার ও আউটসোর্সিংয়ে যুক্ত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিমাণও বেড়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিপিও খাতে ৪০-৪৫ শতাংশ নারী কাজ করেন। তাদের কাজের মানও ভালো। তাদের কাজ তুলনামূলকভাবে নির্ভুল হয়। ফলে এ খাতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে।
বিপিও সামিটে এর সবকিছু প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেছে।









