ভারতের বৃহত্তম ডেলিভারি ব্যবসার মধ্যে রয়েছে জোম্যাটো ও এর কুইক-কমার্স সহযোগী প্ল্যাটফর্ম ব্লিঙ্কইট। খাবার, মুদিপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক কর্মীর ওপর নির্ভর করে।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩১ লাখ ভারতীয় জোম্যাটো ও ব্লিঙ্কইটের ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কাজ করেছেন। আগামী বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু ডেলিভারির জন্য পর্যাপ্ত মানুষ না পাওয়া গেলে কী হবে? জোম্যাটো প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েল বলেছেন, তেমন হলে প্রতিষ্ঠানটি ড্রোনের দিকে যেতে পারে।
এক্সে সাম্প্রতিক এক জবাবে এ ভাবনা জানান গোয়েল। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন, আগামী ১৫ বছরে কি সবাই ডেলিভারি কর্মী হয়ে যাবে? জবাবে গোয়েল লেখেন, আমি আশা করি, তা হবে না। আমাদের আরও ভালো কাজ দরকার। কাজের জন্য যথেষ্ট মানুষ না থাকলে আমরা ড্রোনে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকব।
ভারতে গিগ কাজ এবং খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ডেলিভারির ধরন বদলাতে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান আলোচনার মধ্যে তার এ মন্তব্য এলো। ডেলিভারি কর্মীর ভবিষ্যৎ সংকটের সমাধান হিসেবে গোয়েল ড্রোনের কথা বললেও জোম্যাটোয় ড্রোননির্ভর ডেলিভারি চালুর কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তিনি ঘোষণা করেননি।
গোয়েল আরও বলেন, জোম্যাটোর মূল প্রতিষ্ঠান কর্মচারী, গুদামকর্মী ও তাদের পরিবারসহ ভারতের জনসংখ্যার ১ শতাংশের অনেক বেশি মানুষের জীবিকার জোগান দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার আশা তার।
ভারতে ড্রোন ডেলিভারি
ভারতে ড্রোনে খাবার ডেলিভারি এখনও মূলধারায় আসেনি, তবে কয়েক বছর ধরে কোম্পানিগুলো প্রযুক্তিটি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। ২০২১ সালে খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর প্যাকেজ ড্রোনে ডেলিভারির পরীক্ষা চালাতে এএনআরএ টেকনোলজিসের সঙ্গে অংশীদারত্বে যায় সুইগি। উত্তর প্রদেশের এটা এবং পাঞ্জাবের রূপনগরে পরীক্ষার পরিকল্পনা ছিল। লক্ষ্য ছিল, অপারেটর ও ড্রোনের মধ্যে সরাসরি দৃষ্টিসীমা ছাড়াই ড্রোন কীভাবে বেশি দূরত্বে প্যাকেজ বহন করতে পারে, তা যাচাই করা।
২০২২ সালে সুইগি দিল্লি-এনসিআর ও বেঙ্গালুরুতে নিজেদের কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইনস্টামার্টের জন্যও ড্রোন পরীক্ষার পরিকল্পনা করে। ধারণা ছিল, ডার্ক স্টোর থেকে নির্ধারিত সংগ্রহস্থলে মুদিপণ্য ড্রোনে পৌঁছানো হবে, সেখান থেকে ডেলিভারি পার্টনাররা গ্রাহকের বাড়ি পর্যন্ত শেষ ধাপ সম্পন্ন করবেন। তবে এসব উদ্যোগ ছিল পরীক্ষামূলক এবং এখনও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ হয়নি।
ইতিমধ্যে ড্রোন ডেলিভারি চলছে
ভারতে ড্রোনে খাবার ডেলিভারি এখনও সাধারণ না হলেও বিশ্বের অন্যান্য অংশে প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডোরড্যাশ উইং, ফ্লাইট্রেক্স ও মান্নাসহ ড্রোন ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে যোগ্য এলাকার নির্বাচিত রেস্তোরাঁ থেকে অর্ডার পৌঁছে দিচ্ছে। সেবাটি ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকা ও শার্লটের কিছু অংশে পাওয়া যায়।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের উইংও ওয়ালমার্টের মতো অংশীদারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বাজারে ড্রোন ডেলিভারি দেয়। যোগ্য এলাকার গ্রাহকেরা সমর্থিত অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার করে নির্ধারিত ড্রপ-অফ পয়েন্টে ডেলিভারি পেতে পারেন। তবে প্যাকেজের আকার ও ওজনে সীমাবদ্ধতা, আবহাওয়া এবং ড্রোন কোথায় নিরাপদে চলতে পারে এসব সীমাবদ্ধতা এখনও রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে