উইন্ডোজের প্রাথমিক দিনগুলোতে কম্পিউটার নিরাপদ রাখা পুরোপুরি ব্যবহারকারীর নিজের দায়বদ্ধতা ছিল। ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পিসিতে ম্যাকাফি, এভিজি বা নর্টনের মতো থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করাটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সময় বদলেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে উইন্ডোজ পিসির জন্য টাকা দিয়ে আলাদা অ্যান্টিভাইরাস কেনা কি কেবলই অর্থের অপচয়?
উইন্ডোজ ৮ প্রকাশের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকেই পিসিতে বিল্ট-ইন অ্যান্টিভাইরাস দেওয়া শুরু করে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রথম দিকে ‘মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস’-এর পারফরম্যান্স খুব একটা প্রশংসনীয় ছিল না। তবে বছরের পর বছর উন্নয়নের মাধ্যমে এটি এখন অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এভি-টেস্ট-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৫ সালের মে-জুন মাসে ডিফেন্ডারের সুরক্ষা রেটিং ছিল ৬-এর মধ্যে মাত্র ০.৫। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টের পরীক্ষায় পূর্ণ ৬ পেয়ে মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। বাস্তবভিত্তিক আক্রমণ ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ম্যালওয়্যার পরীক্ষায় ডিফেন্ডার শতভাগ হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে পুরো শিল্পে সুরক্ষার গড় হার ছিল যথাক্রমে ৯৯.৯ ও ১০০ শতাংশ।
উইন্ডোজ ১১-এ ডিফেন্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এবং নতুন আপডেটগুলোও নিজে থেকেই ডাউনলোড করে নেয়। তা সত্ত্বেও বাজারে থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাস সফ্টওয়্যারের উপস্থিতি এখনও বেশ লক্ষণীয়।
বর্তমান সময়ে সরাসরি ভাইরাসের চেয়ে ভূয়া লগইন পেজ, অনলাইন স্ক্যাম ও প্রতারণামূলক পপ-আপের মতো হুমকি অনেক বেশি দেখা যায়। এই সুযোগেই থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাস সংস্থাগুলো অ্যান্টি-স্ক্যাম ফিচার, ভিপিএন, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কিংবা অতিরিক্ত ক্লাউড ব্যাকআপ যুক্ত করে গ্রাহকদের পেইড সাবস্ক্রিপশন কিনতে উৎসাহিত করছে। তবে ইন্টারনেটে কেনাকাটা বা ব্রাউজিংয়ের সুরক্ষায় মাইক্রোসফট এজের ‘স্মার্টস্ক্রিন’-এর মতো বিনামূল্যে পাওয়া বিল্ট-ইন ফিচারগুলোই অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট।
তাছাড়া, ব্যাকগ্রাউন্ডে থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাস চালু থাকলে তা সিস্টেমের পারফরম্যান্সেও কিছুটা প্রভাব ফেলে। টমস গাইড-এর পরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘মালওয়্যারবাইটস প্রিমিয়াম’ দিয়ে ফুল স্ক্যান চালানোর সময় কম্পিউটার গেমসের পারফরম্যান্স স্বাভাবিক ৮৭ এফপিএস থেকে কমে ৭৫ এফপিএসে নেমে আসে। অন্যদিকে, থার্ড-পার্টি সফটওয়্যারের বিনামূল্যে পাওয়া সংস্করণগুলোতেও সারাক্ষণ পেইড সংস্করণে আপগ্রেড করার বিরক্তিজনক পপ-আপ মেসেজ আসতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি সম্পর্কে কম ধারণাসম্পন্ন কারও জন্য ভিপিএন বা বাড়তি ফিচারসম্বলিত পুরো সিকিউরিটি স্যুট কার্যকর হতে পারে। তবে সাধারণ বা অভিজ্ঞ অধিকাংশ উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করা বিনামূল্যে পাওয়া ‘মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার’-ই যথেষ্ট। তাই স্রেফ পুরোনো অভ্যাসের বশে ২০২৬ সালে এসে আলাদা অ্যান্টিভাইরাসে টাকা খরচ করাটা কার্যত অপ্রয়োজনীয়।
সূত্র: এনগেজেট
নতুন ফোন বা হার্ডড্রাইভে পুরো স্টোরেজ ব্যবহার করা যায় না কেন?
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার করার আগে ফেক না আসল যাচাই করবেন যেভাবে