অবৈধ মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে সরকারের বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খবর বাসস।
কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন সূত্রে জানানো হয় যে অবৈধ মোবাইলের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু হবে। তবে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা এতে থাকবে না। বর্তমানে সচল থাকা ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আসা বা চোরাচালানের অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের ব্যবস্থা থাকবে। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে দ্বিতীয় ধাপে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এর আগে ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর সরকারের সিদ্ধান্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন বন্ধ ও ক্লোন প্রতিরোধ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর এবং ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্যবস্থাটি চালুর তোড়জোড় শুরু করে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নির্দেশনা ও ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে নিরাপত্তা সংস্থা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সুপারিশের পর, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের সভায় এনইআইআর চালুর চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, অনিবন্ধিত ও চোরাই হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতিত ব্যবহৃত হচ্ছে, যা রোধে এনইআইআর অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কেবল ২জি নেটওয়ার্ক-সমর্থিত হ্যান্ডসেট ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধের রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি।
দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি
১৫টি ভিডিও পোস্ট করলেই প্রায় চার লাখ টাকা দিবে এক্স, নেই ফলোয়ারের শর্ত