‘স্থানীয় কর্মসংস্থানে বেসরকারি শিল্পাঞ্চল জরুরি’

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:৫৮, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৫, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬

 

 

DIPU-5স্থানীয় কর্মসংস্থানে বেসরকারি শিল্পাঞ্চল জরুরি বলে মনে করেন বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তা সাসকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতিয়ার রহমান দিপু। তিনি বলেন, ‘শুধু সরকারি উদ্যোগ দিয়ে দেশে বেকারত্বের হার কমানো যাবে না। নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।’  বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

আতিয়ার রহমান দিপু বলেন, ‘গ্রাম-গঞ্জের অনেক সাধারণ মানুষই বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান নতুন কর্মসংস্থানের আশায়। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন মানুষও এ থেকে বিচ্ছিন্ন নন।’ তিনি বলেন, ‘দেশের দক্ষিণের জেলা গোপালগঞ্জ। বিভিন্ন কারণেই এখানে এর আগে শিল্প পার্ক গড়ে ওঠেনি। এলাকার বেকার যুবকসহ গরিব অসহায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার লক্ষ্যে আমি সেখানে একটি শিল্প পার্ক কারার কাজ শুরু করেছি। আমি বিশ্বাস করি, এখানে সাসকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন পার্ক গড়ে উঠলে গোলগঞ্জসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।’   

সাসকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও আজও তেমন কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠা পায়নি গোপালগঞ্জে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে এখনও বেকারত্ব রয়েছে। শুধু সরকারি উদ্যোগ দিয়ে দেশে বেকারত্ব হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ১০০টি অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে সাসকো গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক একটি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে আমি এ খাতে বিনিয়োগ করেছি। আমি চাই, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার গোপালগঞ্জে শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠুক। তাতে এ অঞ্চলের মানুষ আর বেকার থাকবে না। এছাড়া আমি কারও জমিতে কোনও বালু পড়লেও তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি।’

আতিয়ার রহমান দিপু বলেন, ‘দেশের অন্যতম গার্মেন্ট শিল্পে নামকরা প্রতিষ্ঠান সাসকো গ্রুপ। ব্যক্তি মালিকানাধীন সুবৃহৎ সবুজ শিল্প পার্ক সাসকো গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থাপনরত মুকসুদপুর অ্যাপারেলস লি. সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব লিড প্লাটিনাম স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গড়ে তোলা হচ্ছে। গোপালগঞ্জের পশ্চাদপদ এ অঞ্চলের গণমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গ্রিন পার্কটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি গড়ে উঠলে কমপক্ষে ৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এ এই এলাকার  বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম শিল্পাঞ্চল।’

গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক অনাবাদী জমি ও খাসভূমি রয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জে স্থানীয়ভাবে শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে এসব এলাকাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতাও প্রয়োজন। এ অঞ্চলের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী অধীর কুমার সাহা। বাড়ি বানিয়ারচরে। আওয়ামী লীগের জলিলপাড় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। এক সময় তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। স্থানীয় অন্যতম জমিদাতা অধীর কুমার সাহা জানান, ‘২০১৩ সাল থেকে ন্যায্যমূল্যের বিনিময়ে ধীরে ধীরে জমি একত্রিত করে আলোচিত স্থানে শিল্প পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু হয়।’ তিনি বলেন, ‘জোরপূর্বক বা জমি জবর দখলের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমরা নিজেদের আগ্রহেই সাসকো গ্রুপকে জমি দিয়েছি। ’

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সুস্পষ্ট নীতিমালায় বলা রয়েছে, বছরে একের অধিক ফসল ফলে এমন জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা যাবে না। সাসকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রিন পার্কের জন্য যে স্থানটি নির্বাচিত করা হয়েছে, তা বিদ্যমান নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করেনি বলে জানিয়েছেন আতিয়ার রহমান দিপু। তিনি বলেন,  ‘এলাকাটি এক ফসলি। কেউ উচ্ছেদ আতঙ্কের কথাও জানাননি। ’ এদিকে অধীর কুমার সাহা জানান, ‘৩২ একর জমির মধ্যে ২৬ শতাংশ জমি তার নিজের বিক্রি করা। একই কথা বলেন, ৬৫ শতাংশ জমিদাতা গোবিন্দ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এক ফসলি জমির চেয়ে এখানে শিল্প পার্ক হলে আমরা চিরস্থায়ী একটি সুবিধা পাব। আমরা চাই, আমাদের এলাকায় শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা হোক। তাহলে গোপালগঞ্জের শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।’ তারা বলেন, ‘সব এলাকায় বিভিন্ন ধরনের শিল্প হচ্ছে।’

/এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ