‘সিগারেটের আগে বিড়ি শিল্প বন্ধের ঘোষণা বৈষম্যমূলক’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:১৩, এপ্রিল ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৪, এপ্রিল ২৩, ২০১৮



সম্মেলন



দেশে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বিড়ি শিল্প এবং ২০৩৮ সালের মধ্যে সিগারেট শিল্পকে বন্ধ করার ঘোষণাকে বৈষম্যমূলক চিহ্নিত করে সিগারেটের আগে বিড়ি শিল্প বন্ধ না করার দাবি জানিয়েছে তামাক চাষী ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবসায়ীরা। সোমবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রংপুরের তামাক চাষী ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবসায়ীদের আয়োজিত সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। প্রতি হাজার বিড়িতে শুল্ক ১৪ টাকা নির্ধারণসহ বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি ছাড়া তামাক চাষ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা কর ফাঁকির পাশাপাশি ৩৫ টাকা মূল্যের সিগারেট ২৭ টাকায় বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে বিড়ি শিল্পকে বন্ধের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন অর্থমন্ত্রী।

বক্তারা জানান, গত ৩১ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ‘তামাক ও সিগারেট উৎপাদন বন্ধকরণ’ শিরোনামে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্প বন্ধ ও সিগারেট শিল্প বন্ধ করতে ২২ বছর সময় দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে তামাক চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা এ সম্মেলনে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি মেনে নেওয়া না হলে রাজধানীর রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

রংপুরের বেশিরভাগ চাষী তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এই তামাক বিড়ি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানকার মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তামাক ছাড়া অন্য কোনও ফসলের ভালো ফলন হয় না। তাই এসব চাষীর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা ছাড়া এই শিল্প বন্ধ করে দিলে আবার সেই মঙ্গা পরিস্থিতি ফিরে আসবে। তাছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অভিযোগ রয়েছে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত সিগারেট কোম্পানিগুলো ১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এছাড়া বিগত ৮ বছরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো ১৩ হাজার কোটি টাকার মতো পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারপরও তাদের কোন যুক্তিতে ২২ বছর অতিরিক্ত সময় দিয়ে এ বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলেন বক্তরা।

সম্মেলনে বিড়ি-সিগারেটের বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি ও ভারত বাংলাদেশের বিড়ি শুল্কের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বাংলাদেশে সিগারেট যতদিন থাকবে, বিড়ি শিল্পও ততদিন থাকবে; ভারতের মতো বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে হবে; ভারতের মতো প্রতিহাজার বিড়িতে শুল্ক ১৪ টাকা করতে হবে এবং যেসব বিড়ি ফ্যাক্টরি ২০ লাখ শলাকার কম উৎপাদন করে তাদের কাছ শুল্ক নেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

নিলফামারী জেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রংপুর তামাক চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম তুহিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ফকির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

 আরও পড়ুন:

‘বিড়ি শিল্প চলছে শিশু দাসে’

 

/এসও/এইচআই/

লাইভ

টপ