বড় লোকসানে মধ্যপাড়া

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১০:০৬, মে ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৭, মে ১৮, ২০১৮

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি (ছবি: সংগৃহীত)আয় দূরে থাক, লোকসানই এড়াতে পারছে না মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি। দেশের একমাত্র পাথর খনির লোকসানের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ৪৭২ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। প্রতি বছর এই খনির অপারেশনাল (পরিচালনা ব্যয়) লোকসানের পরিমাণ ৫৫ কোটি টাকার বেশি বলে খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি কর্তৃপক্ষ যে আয়-ব্যয়ের হিসাব মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন তাতে বলা হচ্ছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৯০ কোটি টাকার পুঞ্জিভূত লোকসান ছিল। এর সঙ্গে স্থায়ী সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। ফলে ওই বছর অপারেশনাল লোকসান হয় ৫৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য দায়দেনা। পাথর বিক্রির হিসাব সমন্বয় করে নিট লোকসানের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪৭২ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কঠিন শিলা খনিটিকে লাভের ধারায় ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। কীভাবে পাথর খনিটি লাভের ধারায় ফিরতে পারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, খনি থেকে পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল তা পূরণ করতে পারেনি মধ্যপাড়া। এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত খনির কাজ বন্ধ থাকায় খনিটি লোকসানে পড়ে। দেশের একমাত্র পাথর খনিটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাথর তুলতে না পারায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিদেশ থেকে এনে পাথর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বিদেশ থেকে মানসম্মত পাথর কেনা বাবদ অনেক খরচ হচ্ছে।

২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর এ খনির ঠিকাদার হিসেবে জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি) নিয়োগ দেয় পেট্রোবাংলা।পরবর্তী ছয় বছরে তাদের ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের কথা থাকলেও সোয়া ৪ বছর শেষে তারা মাত্র ১৬ লাখ টন উত্তোলন করেছে। চুক্তি মেয়াদের বাকি দুই বছরের মধ্যে বাকি ৭৬ লাখ টন পাথর তোলা সম্ভব নয়।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খনি থেকে পাথর তোলার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে এককভাবে ঠিকাদারকে দোষারোপ না করে তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নকশা অনুমোদন আর যন্ত্রপাতি না কেনার কারণেই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে কোম্পানিটি সরকারের একটি বড় লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।’

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১৯৭৪ সালে পাথর খনিটি আবিষ্কৃত হয়। শুরুতে উত্তর কোরিয়ার নামনাম কোম্পানি খনির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে। ২০০৭ সালের ২৫ মে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। সনাতন পদ্ধতিতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই খনন কাজ চলে। পরে সরকার আধুনিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করার জন্য জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে নিয়োগ দেয়।

আরও পড়ুন- জুনে ভারত থেকে আসছে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

/এফএস/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ