আগামী সপ্তাহে কমছে তেলের দাম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৫২, এপ্রিল ০৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৫, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

জ্বালানি তেলআগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
বুধবার দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে মোট তিন ধাপে জ্বালানির দাম কমানো হবে। যার মধ্যে প্রথম ধাপের পরিপত্র আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জারি করা হবে। প্রথম ধাপে জ্বালানির (পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিন) দাম সর্বোচ্চ ১০ টাকা কমতে পারে। এছাড়া পরবর্তী দুই ধাপে বাজার পর্যালোচনা করে জ্বালানির দাম কমানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসছে। তেলের দাম ধীরে ধীরে সমন্বয় করছে সরকার। প্রথম ধাপের পরিপত্রে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম সমন্বয়ের কথা থাকবে।’
নসরুল হামিদ বলেন, ‘পরিপত্র জারির পর জ্বালানির দাম কমলে যানবহন ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া কমানোরও সুযোগ রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৫/৬ মাস পর দ্বিতীয় ধাপের ও তারপর আরও ৬/৭ মাস পর তৃতীয় ধাপে জ্বালানির দাম কমানো হবে।’

প্রতিটি ধাপের মধ্যে এত সময় কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে কমানোর পরে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। কারণ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান ও ভর্তুকী এখনও শেষ হয়নি।’

‘ভেজাল জ্বালানি রোধে অভিযান আগামী সপ্তাহেই’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারাদেশে ভেজাল জ্বালানি প্রতিরোধে আগামী সপ্তাহ থেকেই পাম্পগুলোতে অভিযান চালানো হবে। অভিযানে যেসব পাম্পে ভেজাল জ্বালানি বিক্রির প্রমাণ মিলবে তাদের লাইসেন্স সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে মোট ১ হাজার ২শ’ জ্বালানি পাম্প রয়েছে। কোন কোন পাম্প জ্বালানিতে ভেজাল দেয় তার তথ্য সরকারের কাছে আসছে। তাই অভিযানে দোষী পাম্প মালিকদের আর জরিমানা না করে সরাসরি লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

‘দেশেই উৎপাদন হবে পেট্রোল ও অকটেন’
নসরুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে ভবিষ্যতে আর পেট্রোল ও অকটেন আমদানি করার প্রয়োজন হবে না। দেশেই পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে বাজারজাত করা হবে।’

তিনি বলেন, দেশে এখন পেট্রোল আমদানি করতে হয় না। ভবিষ্যতে আমরা অকটেনও আমদানি করবো না। ফলে দেশের বিপুল অংকের অর্থ বেঁচে যাবে।’

দেশে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে গ্যাস রয়েছে সেখানে কনডেন্সড হচ্ছে। এটাকেই রিফাইন করে নিজেদের অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদন করতে পারবো।’ 

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সভায় আগামী ৬ মাসের মধ্যে আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক ভবন সরানোর সিদ্ধান্ত হওয়ায় সময়সীমা শেষে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো আবাসিক সেক্টর থেকে গ্যাস ব্যবহার সরিয়ে আনা। তবে পরিবহন খাতে সিএনজির ব্যবহার থাকতে পারে। তিনি শিল্প খাতে গ্যাস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।   

/ওএফ/এসএনএইচ/এজে/

লাইভ

টপ