সাইবার ক্রাইম: তীরবিদ্ধ শিল্পী

Send
রওনক হাসান
প্রকাশিত : ১৬:২২, এপ্রিল ০১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৩, এপ্রিল ২২, ২০১৮

রওনক হাসানঅবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যখন ব্যাপক ব্যবহার তখন তার পাশাপাশি এর অপব্যবহারও কোনও অংশে কম নয়, বরং বেশিই। বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখছি প্রায়ই বিভিন্ন শিল্পীর আইডি হ্যাক হচ্ছে। কেউ কেউ নানান উপায়ে আইডি উদ্ধার করতে পারছেন, কেউ পারছেন না। অনেকের কাছে টাকাও চাওয়া হয়। শিল্পীর বিভিন্ন ছবি, ভিডিও দিয়ে ট্রল হচ্ছে এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে কোনও একটি ঘটনার সঙ্গে কোনও শিল্পীর যদি সংশ্লিষ্টতা কোনোভাবে খুঁজে পাওয়া যায় তবে সেই শিল্পীকে প্রায় সবাই টেনেহিঁচড়ে তার অর্জিত যাবতীয় সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছেন। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার অপেক্ষা অধিকাংশ মানুষ করেন না। ভাবেন না যে একবার যদি তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয় তবে তার হারানো গৌরব কি তারা ফিরিয়ে দিতে পারবেন?
আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর ইন্ডাস্ট্রি  গড়ে তুলবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লগ্নি হচ্ছে কিন্তু আজও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি শিল্প হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করেনি, সংবিধানে এখনও অভিনয় শিল্পীর পদবি বিনোদনকর্মী হিসেবে। আমরা যতই চেষ্টা করছি ততই হঠাৎ হঠাৎ এমন সব ঘটনা আকাশ ফুঁড়ে সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে, আমরা বারবার থমকে যাচ্ছি। অপরাধ যেই করুক, হোক সে শিল্পী, অশিল্পী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা, সাংবাদিক যেই হোক না কেন, সে আমি হই বা আমার ভাই হোক, সে রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করবে, সবাই তাকে তিরস্কার করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভীষণ উদ্বেগের বিষয় হলো, যেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা যাচ্ছে কেউ একজন একটা কিছু পোস্ট করলো তো বাকি সবাই সত্য মিথ্যা যাচাই না করে সেটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছি, আর তা যদি হয় কোনও তারকা বা বিশিষ্ট কাউকে নিয়ে, তবে তো মুহূর্তেই দাউ দাউ করে তা ছড়িয়ে পড়ে।

সবার নিশ্চয়ই ফটোসাংবাদিক জিয়া এবং কল্যাণ কোরাইয়ার ঘটনা মনে আছে? একই দিনে জিয়া পান্থপথে এবং কল্যাণ তেজগাঁওয়ে অ্যাকসিডেন্ট করেন এবং জিয়া যখন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন তখন কল্যাণ তার আহত বন্ধুর জন্য সেখানে যান। কতিপয় মানুষ দুটো ঘটনাকে এক করে ফেলেন এবং বিষয়টি দাঁড়ায় কল্যাণ গাড়িচাপা দিয়েছে জিয়াকে। পরদিন সকালে যখন আমরা জানতে পারি কল্যাণ থানায় তখন আমরা কেউ কেউ থানায় ছুটে যাই। কারণ, আমরা তখনও কিছুই জানি না। থানায় গিয়ে যখন পুরো বিষয় শুনলাম তখন আমরা চিন্তিত হলাম। কারণ, কল্যাণ বলছে সে অ্যাকসিডেন্ট করেছে তেজগাঁওয়ে আর জিয়ার জিয়ার অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে পান্থপথে। আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। কারণ, এমনও তো হতে পারে কল্যাণ বাঁচার জন্য মিথ্যা বলছে। আগেই বলে নিই, কল্যাণ আমার ভীষণ ঘনিষ্ঠ। উৎসব পার্বণে আমি ওর বাসায় যাই ও আমার বাসায় আসে। আমরা কয়েকজন জিয়ার ঘটনাস্থল এবং কল্যাণ-এর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তেজগাঁওয়ে আমরা প্রমাণ পাই যে এখানে অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে এবং যে ট্রাকের সঙ্গে কল্যাণের অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে সেই ট্রাকের মালিক, চালক সকলকেই পাওয়া যায়। আর কল্যাণের ফোন ট্র্যাক করে দেখা যায়, যখন পান্থপথে জিয়ার অ্যাকসিডেন্ট হয় তখন কল্যাণের অবস্থান জোয়ার সাহারা। আমরা নিশ্চিত হই কল্যাণ নির্দোষ এবং তখনই আমরা কল্যাণ এর পক্ষে অবস্থান নেই। ততদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণকে মাতাল,খুনি, উচ্ছৃঙ্খল, বাজে ছেলে হিসেবে সবাই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে, অনেকে তার ফাঁসিও দাবি করছে। আর আমরা যখন কল্যাণের পক্ষে অবস্থান নিলাম তখন পুরো শিল্পী সমাজকে নিয়ে আক্রমণ। অধিকাংশ সাংবাদিক এবং শিল্পী তখন একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়ে গেলো। অথচ এমনটা কখনও হওয়ার কথা ছিল না। অভিনয় শিল্পীসংঘ প্রথম আলোর সঙ্গে বসলো এবং প্রথম আলো কর্তৃপক্ষও অনুধাবন করলেন এটা আসলে পুরোটাই একটা ভুল বোঝাবুঝি। তারা প্রতিশ্রুতি দিলেন দ্রুত সমাধান করে ফেলবেন। ক’দিন আগে প্রথম আলো আনুষ্ঠানিকভাবে জিয়া  দুর্ঘটনা মামলা থেকে কল্যাণের নাম প্রত্যাহার করেছে,তাই দৈনিক প্রথম আলো কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ। কিন্তু এই যে অতি উৎসাহী ফেসবুকবাসী যারা অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে শুধুমাত্র হুজুগে নেচে কল্যাণের যে ক্ষতি করলেন তারা কি কল্যাণকে তা ফিরিয়ে দিতে পারবেন? জেল থেকে বেরিয়ে এই ছেলেটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বছরখানেক লেগেছে। আমরা দেখেছি সে কী ট্রমার ভেতর দিয়ে  গেছে।

এবার আসি গাজী রাকায়েত প্রসঙ্গে ...।

হঠাৎ একদিন আমরা দেখলাম একটি মেয়ে গাজী রাকায়েত-এর অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কোনও একটি মেয়ের সঙ্গে হওয়া কনভারসেশন-এর স্ক্রিনশট পোস্ট করলেন। সেখানে কিছু কথাবার্তা বলার পরই মেয়েটিকে বাজে প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিষয়টি ভীষণ লজ্জার এবং ঘৃণ্য তো বটেই। গাজী রাকায়েত যে বানানরীতিতে লেখেন সেই কনভারসেশনেও একই– তাই সন্দেহ জাগে যে এটি হয়তো তিনিই করেছেন। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে আমরা দেখি যে মেয়েটির সঙ্গে মাত্রই কথাবার্তা শুরু করে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাজে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়, যেটা পুরোপুরি অস্বাভাবিক। স্ক্রিনশটের যুগে মাত্রই পরিচিত হওয়া অবিশ্বস্ত একটি মেয়েকে এমন প্রস্তাব কোনও নির্বোধ নাবালকও করবেন না, যদি না সেই আইডি ফেক না হয়ে থাকে। সেখানে তার মতো একজন নামি মানুষ সজ্ঞানে এমন কাজ করবেন সেটাও ভাবা যায় না। ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনি প্রায় বিশ-বাইশ বছর ধরে। তার বিরুদ্ধে কোনও মেয়ের অভিযোগ,চরিত্র নিয়ে কানাঘুষা পর্যন্ত কোনোদিন শোনা যায়নি। তাই পুরো বিষয়টাই আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। তবু ধরে নিলাম মধ্যরাতে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় তিনি এটি করেও থাকতে পারেন।  কল্যাণের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তার সঙ্গে অতটা ঘনিষ্ঠ আমি নই। তবু আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, তাই আমি অপেক্ষা করেছি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যিনি আইটি নিয়ে কাজ করে প্রশংসিত সেই তানভির ভাই যখন বের করলেন যে গাজী রাকায়েতের আইডি হ্যাকড, তখন আমি বিশ্বাস করতে শুরু করি যে তিনি কাজটি করেননি। পুলিশও যখন তাদের তদন্তে দেখলেন যে আইডি চালাচ্ছিল অন্য কেউ তখন আমার আর কোনও সন্দেহ থাকলো না। ইতোমধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। এবারও যথারীতি একজনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো শিল্পী সমাজকে নিয়ে গালাগাল,অশ্লীল বাক্যবাণে আমাদের প্রতি আক্রমণ। গাজী রাকায়েত মেয়েটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন এবং সেটা সাতান্ন ধারায়। যেটি কিনা কালো আইন বলে চিহ্নিত। এই কালো আইন সম্পর্কে আমার আসলে কোনও ধারণাই ছিল না। রাকায়েত ভাইকে যখন জিজ্ঞেস করলাম এই সাতান্ন ধারায় মামলা করলেন কেন। তিনি বললেন আমিও তো এটা জানি না। যখন মামলা হয় এ বিষয়ে তার কোনও ধারণাই ছিল না। পরে সবার কাছ থেকে শুনে তিনি থানায় জিজ্ঞেস করার পর তিনি জানলেন আইসিটি অ্যাক্টে তার যে অভিযোগ সেটি নাকি এই ধারাতেই করতে হয়, আর আছে পর্নোগ্রাফি মামলা, সেটা তার অভিযোগের আওতায় পড়ে না। পরে মেয়েটি তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি মামলা করেন, যদিও এই মামলায় অশ্লীল ছবি বা ভিডিও পোস্ট করলেই করা যায়, যেখানে তিনি এমন কিছু করেননি। রাকায়েত ভাই নিজেও সাতান্ন ধারা নিয়ে বিব্রত হন। যেটা তার অভিপ্রায় ছিল না। এরমধ্যে কেউ একজন লিখলেন গাজী রাকায়েতের বাবা নাকি আল শামস-এর কমান্ডার ছিলেন। অসংখ্য মানুষ তাকে নারী নিপীড়কসহ অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল তো করছিলই, সেখানে যুক্ত হলো রাজাকারের বাচ্চা। যেখানে তার বাবা উনিশশ’ সত্তর সালেই মারা যান। একজন মৃত ব্যক্তি কী করে একাত্তরে আল শামস-এর কমান্ডার হলেন!

শিল্পীর চিন্তা,তার বোধ,প্রতিবাদের ভাষা তার শিল্পকর্মে। তবু এদেশের সকল গণতান্ত্রিক, সামাজিক,প্রগতিশীল আন্দোলনে সকলের সঙ্গে শিল্পীরাও রাস্তায় নেমেছেন বিভিন্ন সময়। শাহবাগের গণআন্দোলনে আমরাও ছিলাম সেই প্রথম দিন থেকেই। অনেকেরই স্মরণে আছে নিশ্চয়ই। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর কিন্তু আমাদেরও! অদ্যাবধি যত অকিঞ্চিৎকর হোক যেটুকু আমার অর্জন তা অন্যের কালিমা গায়ে মেখে আমি নিশ্চয়ই তা হারাতে চাইবো না। যেহেতু প্রমাণ হয়েছে তার আইডি অন্য কেউ ব্যবহার করছিল, সেহেতু তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ধারায় যে মামলা করা হয়েছিল, তাতে তিনি নির্দোষই প্রমাণিত হতেন এবং এই ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি কোনও অশ্লীল ছবি বা ভিডিও আপলোড করেন তবেই মামলা হয়। সেটাও তিনি করেননি। বরং মেয়েটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে যে অন্যায় করেছেন তার জন্য সাতান্ন ধারায় মেয়েটির ন্যূনতম তেরো বছরের সাজা হতে পারতো। সাতান্ন ধারা নিয়ে তিনি নিজেই অস্বস্তিতে ছিলেন এবং এমন সাজা হোক তিনি চাননি বলেই মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন।

এবার আসি মোশারফ করিম ভাইয়ের প্রসঙ্গ। আমার আগের লেখার কিয়দংশ যুক্ত করলাম।

‘জ্ঞানের সবচেয়ে বড় শত্রু অজ্ঞতা নয়,সবচেয়ে বড় শত্রু হলো জ্ঞানের বিভ্রম!’

এটা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কথা। এই মুহূর্তে মোশারফ ভাইকে কতিপয় জ্ঞানের বিভ্রমে তাড়িত ব্যক্তি নাস্তিক আখ্যা দিলেন এবং তা নিয়ে একদল অশিক্ষিত লাফালাফি শুরু করলো, যা নিতান্তই হাস্যকর। অনুষ্ঠানটি যেকোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ দেখলেই বুঝবেন তিনি আপত্তিকর কিছু বলেননি। যা বলেছেন ভুল কিছু বলেননি, ঠিকই  বলেছেন। পোশাক ধর্ষণের কারণ নয়,মানুষের ভেতরের পশুত্বই কারণ ।

শিল্পীর সম্মানহানি হয় এমন মন্তব্য করতে কতিপয় মানুষের এবং নিউজ করতে কতিপয় পত্রিকার যেমন উৎসাহের অভাব হয় না, তেমনি যৌক্তিক প্রসঙ্গেও শিল্পীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এমনটাও খুব চোখে পড়ে না। কই  মোশাররফ ভাইয়ের সমর্থনে কোনও নিউজ তো চোখে পড়লো না! কেন! মৌলবাদীদের ভয়! নাকি মৌলবাদী পাঠক হারাবার আশঙ্কা! কে জানে!

এই যে এত কথা বললাম,এসবের মোদ্দা কথা আসলে কী! আমরা যেকোনও একটা কিছু পেলেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছি, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিভিন্ন মানুষের পিণ্ডি চটকাচ্ছি, প্রায়শই কোনও প্রকার প্রমাণ ছাড়াই। তীরবিদ্ধ করছি শিল্পীদের। আমরা একবারও আমাদের ভুক্তভোগী মানুষটার জায়গায়, শিল্পীর জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে দেখেছি? তাদের জায়গায় যদি আমি হতাম! আমারই ভাই বা বোন হতো! আমরা কি ভেবেছি, আমাদের কারণে সামাজিকভাবে সেই মানুষটার জীবন কতটা বদলে গেছে! সেকি আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে! তার পরিবারের মানুষইবা এই পরিস্থিতিতে কী আচরণ করবে আর অন্যের কাছ থেকে পাবে!  যারা কল্যাণ, রাকায়েত ভাইয়ের বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলেছেন,  ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তারা কি দুঃখ প্রকাশ করে কোনও লেখা দিয়েছেন! আমার চোখে অন্তত পড়েনি। সাধারণ মানুষের কথা বাদ,যারা কোনও না কোনোভাবে এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত, আমি তাদের অনেকের কর্মকাণ্ড এবং লেখায় ভীষণ আশাহত। আমার কথা হলো কোনও একটি ঘটনা ঘটলে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে কেন! একটু অপেক্ষা করলে কী হয়? একটু খোঁজ-খবর করে ন্যূনতম ধারণা পেতে অসুবিধা কোথায়? যেখানে আমরা সবাই একই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ! এই ইন্ডাস্ট্রির একটি মানুষের ওপর আঘাত মানেই তো আমার ওপর আঘাত। সে আমার পরিচিত হোক বা না হোক! আপনাকে সত্য উচ্চারণ করতে কেউ নিষেধ করছে না। ঘটনার সত্যতা জেনে তবেই কথা বলুন। নাকি ততক্ষণ অপেক্ষা করলে ইস্যু পুরনো হয়ে যাবে! লাইক, কমেন্টস কম পড়বে! দু’চারটা নাটকে অভিনয় করলেই যেমন অভিনেতা হয় না, তেমনি ফেসবুকে দু’চার কলম লিখে লেখক,সাংবাদিক বা দু’চারটা মিটিং,মিছিল,সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করলেই সুশীল হওয়া যায় না। শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, নারীবাদী, পুরুষবাদী, ফেমিনিস্ট, কমিউনিস্ট, আমলা, অ্যাকটিভিস্ট, ফেসবুক অ্যাকটিভিস্ট হওয়ার আগে সংবেদনশীল মানুষ হওয়াটা সবার আগে জরুরি। আমার কারণে যেন অন্য কোনও মানুষের জীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না পড়ে। আমাদের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করা। এই ইন্ডাস্ট্রি, এই দেশ, প্রতিটি মানুষ আমাদের। একে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। উপকারে না আসি আমার জন্য যেন কারো কোনও ক্ষতি না হয়। সবাই ভালো থাকুন। সত্যের জয় হোক। সুন্দরের জয় হোক।

লেখক: অভিনেতা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অভিনয় শিল্পীসংঘ

/এসএএস/এমওএফ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ