রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর: ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ

Send
জ. ই. মামুন
প্রকাশিত : ১৭:০৮, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৯, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

জ. ই. মামুনরোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস বঞ্চনার ইতিহাস—নির্মম নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ, অমানবিকতা ও পরিচয়হীনতারও।
মিয়ানমারের সামরিক সরকারে দাবি—রোহিঙ্গারা সে দেশের বৈধ অধিবাসী নয়। ১৮২৬ সালে ব্রিটিশরা তাদের দেশ দখল করার পর যারা বাংলাদেশ থেকে আরাকানে গিয়ে বসবাস শুরু করে, তারা বাঙালি; মিয়ানমারের নাগরিক নয়। কিন্তু এই দাবি মানতে নারাজ শত শত বছর ধরে আজকের রাখাইন বা অতীতের আরাকানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।
ধারণা করা হয়, আরাকানের রাজধানী ম্রোহং থেকে বিবর্তিত হয়ে প্রথমে রোয়াং এবং পরে রোসাং নামের উৎপত্তি। সেখান থেকেই রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল এই রোসাং রাজসভায় সাহিত্য চর্চা করতেন। ‘পদ্মাবতী’ তার অমর মহাকাব্য।
আরাকানের সঙ্গে বাংলার ঘনিষ্ঠতা আরও পুরনো। ১৪০৬ সালে আরাকানের ম্রাক-উক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নারমিখলা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তৎকালীন বাংলার রাজধানী গৌড়ে আশ্রয় নেন। এই গৌঢ় আজকের চট্টগ্রাম। ২৪ বছর সেখানে নির্বাসিত ছিলেন তিনি। গৌড়ের শাসক জালাল উদ্দিন শাহ ৩০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে আরাকান থেকে বর্মি শাসককে উৎখাত করেন। নারমিখলা তখন ইসলাম গ্রহণ করে মোহাম্মাদ সোলায়মান নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন। পরবর্তী একশো বছর এই ম্রাক উক রাজবংশ আরাকান শাসন করে। তখন থেকে দীর্ঘকাল আরাকান ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র। নারমখিলার বংশধরেরা অবশ্যই পরে চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম আরাকানের অধিনে ছিল।

মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়ে তার ছোট ভাই শাহ সুজা ১৬৬০ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে সড়ক পথে আরাকান যান। কিন্তু রোসাং রাজা চন্দ্র সুধর্মা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ও তার পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এরপর থেকেই আরাকানে অরাজকতা শুরু হয়, যার ফল হিসেবে  ১৭৮৫ সালে বার্মার রাজা বোডপায়া আরাকান দখল করে একে বার্মার অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেন। এরইসঙ্গে অস্তমিত হয় আরাকানের স্বাধীনতার সূর্য। তখন থেকে মূলত বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু। ১৭৮৫ থেকে ১৭৯৯ সাল—এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদী পার হয়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে আশ্রয় নেন।

১৮২৬ সালে মিয়ানমার দখল করে ব্রিটিশরা। উচ্চারণের সুবিধার জন্য তারা মিয়ানমারের নাম দেয় বার্মা, চট্টগ্রামের নাম দেয় চিটাগং। এরপর থেকে আর আরাকান রাজ্য স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। বরং যতবার তারা স্বাধীনতার জন্য সংগঠিত হতে চেয়েছে, ততবারই তাদের ওপর নেমে এসেছে বর্মি শাসকদের নির্মম নিপীড়ন। যার আজকের পরিভাষা জাতিগত নিধন।

দুই বছর আগে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দল—প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। তারা আশ্রয় নেয় কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ে, জঙ্গলে। তখন তাদের মাথার ওপরে ছিল না ছাউনি, পেটে ছিল না ভাত, ছিল না পরনের কাপড়ও। গত দুই বছরে বাংলাদেশ সরকার, দেশের সাধারণ মানুষ, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ও দেশি-বিদেশি শত শত সাহায্য সংস্থার প্রচেষ্টায় এখন অনেকটাই নিরাপদ-নিশ্চিত জীবন পেয়েছে এদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

তাদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার সাড়ে ছয় হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ৩৪টি আশ্রয় শিবির, সেখানে ঘরের সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার।

ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য এরইমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। ঘরের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে ৩৫ কিলোমিটার পাকা বা আধাপাকা সড়ক, পাকা নর্দমা ও কালভার্ট। বসানো হয়েছে ২০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন, সাড়ে ৬ হাজার স্ট্রিট লাইট, ঘরে ঘরে দেওয়া হয়েছে সৌর বিদ্যুতের আলো। বসানো হয়েছে ১০ হাজার নলকূপ, বানানো হয়েছে ৫৮ হাজারের বেশি পাকা শৌচাগার এবং ১৭ হাজার গোসলখানা। পাইপের মাধ্যমেও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে অনেক ক্যাম্পে।

ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় প্রতিমাসে পরিবারের সদস্য সংখ্যাভেদে ৩০ থেকে ১২০ কেজি চাল, ৯ থেকে ২৭ কেজি ডাল, ৩ থেকে ১২ লিটার ভোজ্য তেল পাচ্ছে।  বিশেষ ই-টোকেনের মাধ্যমে সুপার শপের আদলে গড়ে তোলা দোকান থেকে তারা জনপ্রতি মাসিক ৭৮০ টাকার অন্য পণ্যসামগ্রী কিনতে পারে। এর বাইরে তারা পায় প্রতি তিন মাসের জন্য পরিবার প্রতি ১২টি সাবান, ৪ বোতল স্যাভলন, নারীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন, অন্তর্বাস ইত্যাদি। এছাড়া বালতি, মগ, পানির পাত্র থেকে শুরু করে যাবতীয় গার্হস্থ্য সামগ্রী রয়েছে সাহায্যের তালিকায়।

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের অনেকে মিয়ানমারের সহিংসতায় নিহত হয়েছে, অনেকে ধরা পড়ে সে দেশের কারাগারে থাকার কারণে এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ শতাংশই নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে এতিম বা বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। সিঙ্গল মাদারের (স্বামীহীন একক মা) সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।

শরণার্থীদের স্বাস্থসেবা দেওয়ার জন্য খোলা হয়েছে কয়েকশ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। কোনও জটিল রোগ হলে তাদের কক্সবাজার বা ঢাকা-চট্টগ্রামের হাসপাতালে পাঠানোরও ব্যবস্থা আছে। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানসকি স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খোলা হয়েছে অনেকগুলো পরামর্শ কেন্দ্র।

গর্ভবতী নারীদের বিশেষ যত্ন এবং প্রসবকালীন সুবিধাও নিশ্চিত করা হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তবে রোহিঙ্গা নারীদের সন্তান প্রসবের হার—সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, সম্ভবত বিশ্বে সর্বোচ্চ। গড়ে একেক জন নারীর সন্তান ৮ থেকে ১০ জন। কারও কারও ১৮-২০জন সন্তানও আছে। এ অবস্থায় সরকার ও সাহায্য সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ৬৪ হাজার শিশু সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে। তাদের জন্য খোলা হয়েছে এক হাজার ৬৮২টি শিক্ষাকেন্দ্র। দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থাগুলো এসব স্কুল পরিচালনা করে। এর বাইরে ক্যাম্পের ঘরে ঘরেও শিশুদের জন্য অনানুষ্ঠানিক স্কুলিংয়ের ব্যবস্থা আছে।  শিশুদের রাখাইন ভাষা, ইংরেজি ও অংক শেখায় স্বল্পশিক্ষিত রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়েরা। তবে, স্কুলে রোহিঙ্গা শিশুদের বাংলা শেখানো হয় না। এসব স্কুলের রোহিঙ্গা শিক্ষকরা তাদের অন্য সুযোগ-সুবিধার বাইরেও মাসে সাত-আট হাজার টাকা বেতন পান।

রোহিঙ্গা নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চালু করা হয়েছে ‘নারীবান্ধব সেবাকেন্দ্র’ নামের বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে তাদের সেলাই, হাতের কাজ, মোবাইলফোন সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ক্যাম্পেই উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে আশা ‘নারীবান্ধব সেবাকেন্দ্র’ পরিচালনাকারী এনজিওগুলোর। প্রশিক্ষণ নিতে আসা রোহিঙ্গা নারীরাও মনে করে, যেহেতু সহসা তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই এদেশেই কিছু একটা উপার্জনের উপায় করতে হবে।

অবশ্য এরই মধ্যে অনেকে ক্যাম্পের ভেতরে বা আশপোশে শুরু করেছেন বিভিন্ন রকমের ব্যবসা-বাণিজ্য। নিত্যপণ্যের পাশাপাশি ঘড়ি সানগ্লাস, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন বিলাসদ্রব্য কেনাবেচা হয় সেসব দোকানে।

image1এক সময়ের সবুজ পাহাড়ি ভূমি এখন সার সার বস্তিঘরে ঠাসা। কোথাও পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি, কোথাও রাস্তা, হেলিপ্যাড, আবার কোথাও পাহাড় কেটে সেই মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে অন্য কাজে। কোথাও সবুজের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। যদিও প্রকৃতির এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ওই এলাকায় ব্যাপক হারে গাছ লাগানোর কথা থাকলেও সাহায্যকারীদের তেমন উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না।

ক্যাম্প এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং নানা উন্নয়ন কাজের কারণে গত দুই বছরে কাটা পড়েছে হাজার হাজার গাছ। শুরুতে রোহিঙ্গারা রান্নার জন্য গাছ কেটে উজাড় করেছে বনের পর বন। এখন এই সংকট সমাধানের জন্য দাতা সংস্থাগুলো এগিয়ে এসেছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে। পরিবারের সদস্য ভেদে মাসে তারা এক থেকে তিনটি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারছে বিনামূল্যে।

দিন যত যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক তত খারাপ হচ্ছে। দু’বছর আগে যখন তারা প্রথম এখানে আসে, তখন স্থানীয় লোকজনই তাদের নিজেদের জমিতে, বাড়িতে, বাগানে থাকার জায়গা দিয়েছে, খাবার দিয়েছে, পানি দিয়েছে। কিন্তু দিনে দিনে রোহিঙ্গারা এই এলাকায় সংগঠিত হয়েছে এবং বারবার স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন এক ধরনের অস্বস্তি ও আতঙ্কে দিন কাটে স্থানীয়দের।

এছাড়া ক্যাম্পে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার মানুষের আনাগোনায় ওই এলাকায় নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া, স্থানীয় মানুষের যাতায়াত, চিকিৎসা, লেখাপড়া—সবই এখন হুমকির মুখে। উখিয়া থেকে জেলা শহর কক্সবাজার ৩০-৩৫ কিলোমিটার, আগে এই পথটুকু যেতে সময় লাগতো ৩০-৪০ মিনিট, আর এখন রাস্তায় দিনরাত হাজার হাজার গাড়ি আর ঢাকার মতো যানজটের কারণে এই পথ যেতে সময় লাগে দুই-তিন ঘণ্টা। এছাড়া ওই রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ খারাপ। ক্যাম্পেরে ভেতরে সবকিছু নতুন, ঝকঝকে হলেও মূল সড়ক বা ক্যাম্পের বাইরে সাহায্য সংস্থার নজর নেই। তাই গোটা এলাকা হয়ে পড়েছে আরও বেশি দুর্বিষহ। এছাড়া রোহিঙ্গারা যেসব সুযোগ সুবিধা পায়, তার অর্ধেক সচ্ছলতাও নেই ওই এলাকার বহু সাধারণ মানুষের। তাই  রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকে বলেছেন, ক্যাম্পের আশপাশের স্থানীয়দেরও বিশেষ সাহায্যের আওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি। নইলে দীর্ঘমেয়াদে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংঘাত অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে।

রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ মাদক—বিশেষত ইয়াবা কারাবারে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার এলাকাবাসী। কেউ কেউ বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ কোনো রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে গেলে তার সহযোগিরা বাঙালিদের ওপর আক্রমণ করে। কারণ, তাদের ধারণা বাঙালিরাই পুলিশে খবর দিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের সুসংগঠিত বিশাল সমাবেশ এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরে না যাওয়ার ঘোষণা সরকারের পাশাপাশি উদ্বেগে ফেলেছে স্থানীয়দেরও। অন্যদিকে, তাদের মোবাইলফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি নিয়েও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন, তাদের হাতে মোবাইলফোন থাকলেও সমস্যা নেই। কারণ, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাইলেই কোন মোবাইলে কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়, তা জানতে পারে। তাতে বরং রোহিঙ্গাদের ওপর নজরদারি করা সহজ।

তবে, সবচেয়ে বড় বিষয়, বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জনসাধারণের এখন মূল চাওয়া, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেন-দরবারও কম হয়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার সে ব্যাপারে কোনও আগ্রহ বা আন্তরিকতা দেখায়নি। যা রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে পারে। ফলে অনিশ্চয়তার অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে তাদের দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা। আর এদিকে, ১০/১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা নিয়ে এক ক্রান্তিকাল পার করছে বাংলাদেশ।

ছবি: লেখক

লেখক: সাংবাদিক

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ