behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

দুই বছরের সালতামামি

বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী১২:৪৫, জানুয়ারি ১৪, ২০১৬

বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরীদশম সংসদ এবং সরকারের দু’ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সমগ্র দেশটাকে রণক্ষেত্র বানিয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া নিজেই লন্ডনে স্বীকার করেছেন যে মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও কঠিন যুদ্ধ তিনি দীর্ঘ চারমাস চালিয়েছেন। কিন্তু সফল হননি। ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল জনসাধারণ তার আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল না। আন্দোলনকারীদের বোমার আঘাতে ৩১৯ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বোমার স্প্লিন্টারে পঙ্গু হয়েছে আরও কয়েকশ মানুষ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে বিকলাঙ্গ হয়েছে শতাধিক।
আরবি ইনসান (মানুষ) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে উন্স ধাতু থেকে। উন্স-এর অর্থ হলো প্রেম। আন্দোলনকারীরা ইনসান ছিল না, ছিল হায়ওয়ান। তাদের হৃদয়ে মানুষের জন্য কোনও প্রেম ছিল না।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে তারা পুনরায় বোমাবাজির আন্দোলন করেছিল। তখন মানুষ মেরেছে ১৫২ জন। দীর্ঘ ৯২ দিন এ বোমাবাজি অব্যাহত ছিল। শেখ হাসিনার সরকার টিকে রইল মানুষের ভালবাসার জোরে। মানুষ যদি আন্দোলনের পক্ষে রাস্তায় নেমে আসতো তা হলে শেখ হাসিনার সরকার কোনভাবেই টিকে থাকতে পারতো না। আন্দোলনকারীদের হাতে তোপ-কামান থাকলে হয়ত তারা তাও ব্যবহার করতো। আদম সন্তানদের জীবন তাদের কাছে ঠুনকো ব্যাপার ছিল। আরবি, হিব্রু আর সুবিয়ানি ভাষায় আদম সমার্থক শব্দ। আদম মানে সভ্যতা। আদমকে দিয়ে আল্লাহ মানবসভ্যতা আরম্ভ করেছিলেন। যারা আল্লাহর সভ্যতা ধ্বংস করতে চায় তারা জালেম। জালেমের শেষ ফল ভালো হয় না।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ জরুরি ছিল। বিএনপি এখন যেমন পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তখনও অংশগ্রহণ করতে পারতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় উভয়দলের লোক নিয়ে গঠন করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া চেয়েছিলেন শতাংশে তার বিজয়। এ নির্বোধ পরামর্শ তাকে কে দিয়েছিল কে জানে। আজকে বিএনপির করুন অবস্থার জন্য দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তটাই দায়ী।
বেগম খালেদা জিয়া সম্ভবতো মনে করেছিলেন রাষ্ট্রদূতেরা সব করে দেবেন। তাতেও লাভ  হয়নি। এখন তার উচিৎ সংগঠন নিয়ে ব্যস্ত থাকা। ছড়ি ঘুরিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা করা আর বোমাবাজি করে নিরীহ মানুষ হত্যা করা কখনও গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়।
অসহযোগ আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল কিন্তু চৌরিচিরাহ থানা আক্রমণ করে কংগ্রেস কর্মীরা যখন ৭ জন পুলিশ হত্যা করলো তখন গান্ধী সম্পূর্ণ আন্দোলনটাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর একটা বিষয়ে সকল রাজনীতিবিদদের বোঝা উচিৎ, যতটুকু অগ্রসর হলে সমস্যা যুক্তিসঙ্গত সমাধানে পৌঁছা সম্ভব ততটুকু অগ্রসর হওয়া উচিৎ। শেখ হাসিনা উভয় দলের লোক নিয়ে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা তিনি তার পক্ষে থেকে চূড়ান্ত সীমানায় পৌঁছেই দিয়েছিলেন-বিএনপি অগ্রসর হয়ে তা গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। তবে নির্বাচনটা সুন্দর হতো। ২০১৪ সালের নির্বাচনটা ছিল শাসনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা। কোনও সরকার শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা সৃষ্টিতে সহযোগিতা করতে পারেন না।

২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তারও দু’ বছর পূর্ণ হলো। এ দু’ বছরসহ তিনি টানা ৭ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী। একটা জাতির জীবনে ৭ বছর কম সময় নয়। শেখ হাসিনার বৈশিষ্ট্য হলো লক্ষ্য স্থির করে কাজ করা। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। শেখ হাসিনা লক্ষ্য স্থির করেছেন ২০২১ সালের মাঝে বাংলাদেশকে তিনি বিশ্বদরবারে মধ্যম আয়ের দেশ বানাবেন। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই তিনি করার চেষ্টা করছেন। তার উদ্যোগ, উদ্যমের কমতি নেই। গত ৭ বছরে তিনি একটা দরিদ্র দেশকে নিম্নমধ্য আয়ের দেশ বানিয়েছেন। একথা প্রচলিত আছে সকালের সূর্য নাকি দিনের আভাস দেয়। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ যখন হয়েছে, সামনে আরও ৬ বছর বাকি। ইনশাআল্লাহ, দেশ ২০২১ সালেই মধ্যম আয়ের অবস্থানে পৌঁছাবে। তবে এটা প্রধানমন্ত্রীর একার দেশ নয়। ১৬ কোটি মানুষের দেশ। যে যার অবস্থান থেকে এ কাজে সহযোগিতা করতে হবে। শেখ হাসিনা নিজেকে অকুতোভয়, দৃঢ় প্রত্যয়ী হিসেবে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তুলে ধরতে পেরেছেন। যে কারণে বিশ্বে তার ইমেজ প্রসারিত। বিশ্ব নেতারা তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

বাংলাদেশের জলসীমা এবং স্থলসীমান্ত খুবই সুচারুরূপে চিহ্নিত হয়ে গেছে। এটা একটা মৌলিক কাজ। শান্তিতে থাকার জন্য এটা খুবই প্রয়োজনীয় এখন থেকে বাংলাদেশের নতুন-নতুন আয়ের ব্যবস্থার দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে।

নেপাল-ভুটান-সমগ্র পূর্ব-ভারত স্থলবেষ্টিত এলাকায় কোনও সমুদ্রবন্দর নেই। বাংলাদেশের অবস্থানের কারণে নতুন বন্দর গড়ার বহু সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর তার ৮০ শতাংশ ক্যাপাসিটি ব্যবহার করছে। পদ্মাসেতু হয়ে গেলে মংলা বন্দর ও তার পরিপূর্ণ ক্যাপাসিটি ব্যবহারের অবস্থানে গিয়ে পৌঁছবে। তবে বহু অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন। পদ্মা সেতুতে রেলের অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে চীন সম্মত হওয়ায় বড় ধরনের একটা জাতীয় উদ্বেগের অবসান হলো। পায়রা বন্দর এবং গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে ও কর্মতৎপরতা বাড়িয়ে দিতে হবে। ইউরোপের আমাসটার্ডাম বন্দর বহুজাতি ব্যবহার করে। ইতালির ভেনিস বন্দর সমগ্র পূর্ব ইউরোপের প্রবেশ দ্বার। ভারতের কলকাতা বন্দরের অবস্থা ভাল নয়। তারা হলদিয়ায় বন্দর হস্তান্তর করলেও শেষ পর্যন্ত এখানেও বন্দরের সচলতা বেশি দিন টিকবে না। সুতরাং বাংলাদেশ চট্টগ্রাম-মংলা-পায়রা বন্দর আধুনিকভাবে গড়ে তুললে এবং অবকাঠামোর বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করলে এ তিনটা বন্দর দিয়েই বাংলাদেশের হাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিরাট একটা পথ উন্মুক্ত হবে। সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত হবে এ বন্দরগুলো পশ্চাদভূমি।

রাজনীতি করলে রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন। নেতাকর্মীর প্রয়োজন। একথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের অবস্থা দেখলে অবসন্ন হতে হয়। তোলাবাজিতে দেশ বিরক্ত। কারও সময়েই দেশ তোলাবাজি মুক্ত হতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় নেই- শুনি সেখানেও নাকি তেলবাজি চলে। পশ্চিমবাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের তোলাবাজি আরও অবিনব। সমগ্র উপ-মহাদেশেই রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা প্রায় একইরূপ। রাজনৈতিক দল সম্পর্কে একটা নিউ-ডিল প্রয়োজন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীসহ সকল দলের নেতানেত্রীদের বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করা উচিৎ।

বেতন কাঠামো নিয়ে বেশ একটা অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ১০ লক্ষ সরকারি-আধা সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মচারী নাকি কর্মবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। সরকারকে আমরা অনুরোধ করবো বিষয়টা তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি করে ফেলুন। আর সরকারি কর্মচারী আর শিক্ষকদের বলব আপনারাও যতটুকু সম্ভব বাড়াবাড়ি ত্যাগ করে নিষ্পত্তিতে আসুন। শেখ হাসিনা সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক

bakhtiaruddinchowdhury@gmail.com

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ