behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ইতিহাস মার্জনা করবে না

বিভুরঞ্জন সরকার২৩:৩০, জানুয়ারি ২২, ২০১৬

বিভুরঞ্জন সরকারগত ২১ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাত্তরে মাবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালে সত্যিকার অর্থে যারা সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করেছিলেন, বিএনপি তাদের বিচার চায়। কিন্তু সেটা হবে আন্তর্জাতিক মানসম্মত, স্বচ্ছ। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মান দেয়নি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেছেন, নিজের ঘরে (আওয়ামী লীগের) মানবতাবিরোধী অপরাধী পালছে, মন্ত্রী বানাচ্ছে। তাদের আত্মীয়-স্বজন অনেকে রাজাকার আছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের মনে গভীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণার জন্ম দিয়েছে। খালেদা জিয়া হঠাৎ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালেন কেন? যাদের বিচার চলছে, বিচারের রায় হয়েছে, তারা কেউ কি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা তো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই গ্রহণ করেছে। তারপরও এই দাবি তুলে কাদের পক্ষ নিলেন বিএনপি নেত্রী? কাদের সন্তুষ্ট করলেন তিনি? আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মান দেয়নি বলে খালেদা জিয়া যে কথা বলেছেন, সেটাও কি বাস্তবে প্রমাণযোগ্য? আওয়ামী লীগের ঘরেও যদি মানবতাবিরোধী অপরাধী থাকেন, তাহলে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি খালেদা জিয়া জানাতেই পারেন। কিন্তু যেসব দাগী মানবতাবিরোধী অপরাধকারীদের বিচার করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ না করে কাদা ছেটানোর কৌশল নিয়েছেন কেন?
এটা শুরু থেকেই লক্ষ করা যাচ্ছে যে, মানবতাবিরোধীদের বিচারের দাবিতে দেশবাসীর মধ্যে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি না থাকলেও বিএনপির মধ্যে এ নিয়ে চরম বিভ্রান্তি রয়েছে। জামায়াত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের  দল, তারা এই অপরাধের বিচার চাইবে না—এটাই স্বাভাবিক, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। বিএনপি কেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে স্বচ্ছ এবং স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারছে না—এ প্রশ্ন বিএনপি নেতৃত্বকে তাড়িত না করলেও দেশের মানুষকে প্রচণ্ডভাবে আলোড়িত করছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিএনপি নেতৃত্বের কসরতের শেষ নেই। বিএনপিতে অনেক খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। কিন্তু তারপরও  বিএনপি কিভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রশ্নে দোদুল্যমানতা দেখিয়ে আসছে? মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী দল জামায়াতের খপ্পরে পড়ে বিএনপির কি সর্বনাশ হচ্ছে, সেটা কি বিএনপির ‘মুক্তিযোদ্ধা’রা এখনও টের পাচ্ছেন না? তারা কি বুঝতে পারছেন না যে, দেশের মানুষ বিএনপিকে জামায়াতমুক্ত দেখতে চায়। সেনাছাউনিতে জন্ম নেওয়া দলটি  জন্মসকলংক মোচনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেবে—এটাই প্রত্যাশা। এ বিষয়গুলোর সঙ্গে মানুষের গভীর আবেগ জড়িত। মানবতাবিরোধীদের বিচারের প্রশ্নে বিএনপির দ্বিধা-সংশয় কার্যত এই দলটিকে কি দেশবাসীর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাবে না? আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিএনপি নেতারা যা বলছেন, তাতে ধোঁয়াশা দূর না হয়ে বরং বাড়ছে। জন্ম দিচ্ছে নতুন বিতর্কের। বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রায়ই মুখস্ত বলার মতো বলে থাকেন, আমরা যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার চাই, তবে সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া।
‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চাই, তবে’—বলে বিএনপি প্রকৃতপক্ষে একটি অস্পষ্ট অবস্থানই তৈরি করেছে। ‘বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া’— এ সব কথার অর্থ কী? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা খুন, গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন, তাদের বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়া যথেষ্ট স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের। কাউকে তো ধরে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না। আর ‘নিরপেক্ষ বিচার’ জিনিসটাই বা কেমন? অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে অস্বীকার করবেন, বিচারকরা সেটাই অভ্রান্ত ধরে নিয়ে তাদের খালাস দিয়ে দেবেন? আজগুবি বা যুক্তিহীন কথা বলা বিএনপি নেতারা বন্ধ না করলে তারা আরও পাঁকে জড়াবেন। বিচার প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একাত্তরের ঘাতক-দালালরা দেশে-বিদেশে নানা উপায়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। মোটা অংকের টাকা দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিএনপিও এখন ওই পক্ষের হয়েই কাজ করছে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতি থেকে অন্তত সেরকম ধারণাই সবার মনে তৈরি হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের  অভিযোগে এ পর্যন্ত জামায়াতনেতা গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, দেলাওয়ার হোসাইন সাইদী এবং বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আবদুল আলিমসহ অন্য যাদেরই গ্রেফতার করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে কিংবা দণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের কাউকেই কোনও ধরনের অনুমান কিংবা সন্দেহবশত গ্রেফতার করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, আছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণও। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে তাদের সবার মুক্তি দাবি করেছেন এবং বলেছেন, তারা নাকি মানবতাবিরোদী অপরাধী নন। প্রশ্ন হলো, তারা যদি মানবতাবিরোধী অপরাধী না হয়ে থাকেন, তাহলে মানবতাবিরোধী অপরাধী কারা? বিএনপি কোন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের  বিচার দাবি করে? তাদের বিবেচনায় কারা প্রকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধী, তাদের তালিকা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় না কেন?

বিএনপি নেতারা একদিকে বলছেন, তারা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে নন, অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য বেশ কিছু বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ও পারদর্শী ব্যক্তি বাংলাদেশে ঘুরে গেছেন। বিচার কাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা কেউই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। বরং এর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অথচ মওদুদ এই ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলেছেন।

বিএনপি নেতারা এটা প্রায়ই বলে থাকেন যে, বিচারটা রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হতে হবে এবং বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যাবে না। বিএনপির এ ধরনের বক্তব্যই আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিচারটা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের সিদ্ধান্তটা ষোলোআনা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই এতদিন এই বিচার হয়নি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের যারা বিরোধিতা করেছিলেন, তারা কেউ অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই তারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী শক্তি হয়ে লাখ লাখ নিরাপরাধ বাঙালিকে হত্যা করেছেন, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন, মা-বোনের ওপর চরম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবেই তারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিরোধিতা করেছেন, অস্ত্র হাতে মুক্তিকামী বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তারা এখনও রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রাজনৈতিক দলেই তাদের অবস্থান। কাজেই এই ঘৃণ্য ঘাতক-দালালদের বিচারটা রাজনীতিনিরপেক্ষ হবে কিভাবে? দেশের মানুষ এই ঘাতক-দালালদের বিচার চায়। সরকার দেশবাসীর দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিচার কাজ শুরু করছে। যারা ঘাতক-দালাল তারা রাজনৈতিকভাবে কেবল সরকারের নয়, তারা তো কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশবাসীরই প্রতিপক্ষ, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কাজেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের  বিচার কাজ শুরু করা হয়েছে বলে প্রচারণাটা শঠতাপূর্ণ এবং এ ধরনের প্রচারণা একেবারেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। সরকার যদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম. কে. আনোয়ার, সাদেক হোসেন খোকা, মীর্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্রিগেডিয়ার (অব) হান্নান শাহ প্রমুখ নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের   মামলা দিয়ে গ্রেফতার করত, তাহলেই না বলা যেত—সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এই বিচার কাজ করতে চাইছে। সেটা তো করা হয়নি। তারপরও কেন এই অভিযোগ? এটা কি বিএনপির নোংরা রাজনীতি নয়?

বিএনপির পক্ষ থেকে এমন প্রশ্নও তোলা হয় যে, এতদিন পরে কেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের  বিচার করা হচ্ছে? স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে কেন এই বিচার করা হয়নি? ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেও বা কেন এই বিচার কাজ শুরু করা হয়নি? এ সব প্রশ্নের অনেক লম্বা জবাব দেওয়া যায়। সেটা না করে তর্কের খাতিরে বিএনপির প্রশ্নগুলো যৌক্তিক ধরে নিয়েও কি পাল্টা বলা যায় না যে, আগে আওয়ামী লীগ বিচার না করে ভুল করেছিল। এখন সেই ভুল শুধরে নিয়ে বিচার করছে। এতে বিএনপির সমস্যা কোথায়? দেশের শাসন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি সময় ছিল বিএনপি। বিএনপি যদি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চায়-ই, তাহলে তারা কেন ক্ষমতায় থাকতে ‘স্বচ্ছ’ ও ‘নিরপেক্ষ’ভাবে বিচার কাজটি শুরু ও শেষ করেনি? মানুষের চোখে ধুলো দিতে গিয়ে বস্তুত নিজেদের শরীরে নোংরা মাখছে বিএনপি।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য বিএনপির আরেকটি বাহানা হলো এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন যে, জামায়াত যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করে, তখন তারা সঙ্গী, আর বিএনপির সঙ্গে এলেই জঙ্গি? অথবা আওয়ামী লীগে যে-সব মানবতাবিরোধী অপরাধী  আছেন, তাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? কেন তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না? এই প্রশ্নগুলো উত্থাপনের পেছনে বিএনপির কোনও সৎ উদ্দেশ্য নেই। তারা আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আওয়ামী লীগ আগের ভুল শুধরে নিয়েছে। বিএনপি কেন ভুলগুলোকেই আঁকড়ে থাকতে চাচ্ছে? এটা ঠিক যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতও যুগপৎ ধারায় আন্দোলন করেছিল। জামায়াতকে তখন সঙ্গে নেওয়াটা ছিল আওয়ামী লীগের একটি ভুল ‘কৌশল’। তবে সেটা ছিল খুব সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য একেবারেই দানা বাঁধেনি। তাছাড়া ওই আন্দোলনে থাকার কারণে পরবর্তী নির্বাচনে জামায়াত কি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কোনও সুবিধা পেয়েছিল? আওয়ামী লীগ কি জামায়াতকে দুই-একটি সিট ছেড়ে দিয়েছিল? নাকি ওই নির্বাচনে জামায়াতের সিট সংখ্যা আরও কমে গিয়েছিল? আওয়ামী লীগের সঙ্গী হয়ে জামায়াত যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্যই বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশকে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য করেছিল—এটা তো অস্বীকার করার মতো বিষয় নয়। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ খুন করা বা গণহত্যার বিচার কখনও তামাদি হয় না। এটা এক বছর, দশ বছর, পঞ্চাশ বছর পরও হতে পারে। যখন উপযুক্ত পরিবেশ-পরিস্থিতি হয়, তখনই ঘাতকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। কাজেই আগে বিচার করা হয়নি বলে বিলম্বে বিচার করা যাবে না—এটা কোনওভাবেই যুক্তির কথা হতে পারে না। বিএনপি যদি অযুক্তি-কুযুক্তি পরিহার করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে স্বচ্ছ অবস্থান গ্রহণ না করে তাহলে ইতিহাস কি বিএনপিকে মার্জনা করবে?


লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ইমেইল: bibhu54@yahoo.com

 

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ