অনুধাবনে শিক্ষা

Send
মাহমুদুর রহমান
প্রকাশিত : ১৫:৫৯, এপ্রিল ০৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০২, এপ্রিল ০৮, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানঝড়ের ঠিক আগ মুহূর্তে ক্ষণিকের জন্য প্রকৃতি শান্ত, স্থির হয়ে থমকে দাঁড়ায়, হয়তো এক পলকের অন্তরদর্শনে বিভোর হয়ে। হয়তো বা প্রাণীকুলকে আগাম সতর্কতা জানিয়ে দেয়। একটি পাতাও নড়ে না, পাখিরাও নিশ্চুপ, পশু প্রাণীর চোখে- মুখে অজানা কোনও কিছুর আগমনের ছায়া। তারপর ছুটে আসে শীতল হাওয়া, যা বিজ্ঞানের সেরা শীতাতপ প্রযুক্তিকে বৃদ্ধাঙুল প্রদর্শন করে অন্তর-বাহিরকে নির্মল ছোঁয়া দিয়ে সাফ করে দেয়, তৃষ্ণা মিটিয়ে দেয়। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলেও মনে হয় আরও কিছুটা যদি প্রসারিত করা যেত ফুসফুসদ্বয়।
পরবর্তীতে ধেয়ে আসা তীব্র বাতাসে ডাল-পালার উত্তাল নৃত্য কোনও সাধনা থেকে নয়, প্রকৃতির পরিচালনায়। যে সুরের ঝঙ্কার বেজে ওঠে তা তো মানব কল্পনার সীমার বাইরে, যেন সুরবিহীন, শুধু শব্দের ছন্দ । বাতাসের হুটোপুটিতে মানব কেশ উড়ে যায় অনিয়ন্ত্রিত উল্লাসে, রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে যাওয়া শীতলতার নেই চিকিৎসকের কোন নিষেধাজ্ঞা। ছুটে যাই আমরা আশ্রয়ের খোঁজে, কিন্তু প্রশ্ন করিনা নৃত্যে নড়বড় গাছের ডালে খরকুঠোর নীড়ে কি করে পাখিরা তাদের শিশুদের নিয়ে নিরাপদ থাকে? কেনই বা, ঝড়ের শেষে উড়ে যাওয়া টিনের চাল সন্ধানে আমরা বেড়িয়ে পড়ি, নজরে পড়ে না বিধ্বস্ত কোনও পাখির বাসা? হয়তোবা প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে তা রক্ষা করে।
কোনও এক অজানা বিধান মতো, মানব আয়ুষ্কাল শত শত বছর থেকে নেমে এসেছে ৬০-৭০ এ। অথচ একই বিধানের আওতায় সামান্য তেলাপোকা সৃষ্ট প্রাণীর মধ্যে সব চাইতে প্রাচীন। মানবকুলের শত ইচ্ছে আর রাসায়নিক আক্রমণ উপেক্ষা করে সে বেঁচে আছে। পিঁপড়ার মতো কর্মঠ প্রাণী কটা আছে? তাদের চলা সুশৃঙ্খল, চলার পথে বন্ধু বাৎসল্য চোখে পড়ার মতো। সমষ্টিগত কর্মে তারা পারদর্শী এবং নিজ ওজনের বহুগুণ বেশি ভার তারা বহন করতে সামর্থ । তাদেরও রয়েছে সমাজ ব্যবস্থা, প্রজনন, জন্ম-মৃত্যু। যুদ্ধ-বিগ্রহ কি আছে?। বিড়াল শাবক ছোটবেলা থেকেই শিখে নিচ্ছে নিজেদের পরিস্কার রাখা। পাখির নীড় থাকে পরিস্কার পরিপাটি, তা যতই তার শিশু জন্মায়। আর সৃষ্টির সেরা আমরা আমাদের আশপাশ, হাট-বাজার এমনকি উপাসনালয় পরিস্কার রাখতে হিমশিম খাই এবং কর্তৃপক্ষের দোষারোপ করি।
জীবন ব্যবস্থা এমনই, তাদের সঙ্গী বেছে নেয়। কই তাদের সঙ্গী নিয়ে কেউ পলায়ন করেনা তো। তাদের শিশুদের কেউ অপহরণ করেনা তো, তাদের শিশুদের ধর্ষণ করে মেরে ফেলে না তো। কখনও কি দেখা যায় একে অন্যের খাবার নিয়ে টানাটানি করতে? হ্যাঁ, উচ্ছিষ্টের খোঁজ তারা করবেই। ডাস্টবিনে সন্ধানরত পথকলিদের কি মনে পড়ে। তাহলে আমরা কী করে সেরা সৃষ্টির দাবিদার? আমরা পাখি শিকার করে আনন্দ পাই, বাঘ শিকার আমাদের জন্য অ্যাডভেঞ্চার। কখনও কোনও হাতি বা বাঘ আমাদের শিকারে এলে পাগলা প্রাণী বলে ধারালো অস্ত্রের সন্ধান হয়। যদি প্রাণীকুল তাদের কোনও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের আক্রমণ করে, সেটা করা বড় অন্যায় হবে? আমাদের উপাসনালয়ে প্রাণীর স্থান নেই, কেননা বাহ্যিক  দিক থেকে তারা আমাদের ভাষায় নোংরা। অথচ, সকল উপাসনালয়ের মূলে রয়েছে বাহ্যিক নয়, অন্তরের পবিত্রতা। পৃথিবীর সব জল ঢাললেও, সমস্ত বালি গায়ে ছড়ালেও অন্তর পরিষ্কার হয় না। কুকুরের প্রভু ভক্তি , প্রহড়ার নির্ভিকতা, পাখির সৌম্য, পিঁপড়ের কর্মঠ স্বভাব থেকে শেখার আছে, যদি অনুসন্ধিৎসু অনুধাবন থাকে।

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ