Vision  ad on bangla Tribune

মেয়াদোত্তীর্ণ সমঝোতা স্মারকেই চলছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাট

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ১২:২৬, ডিসেম্বর ০২, ২০১৬

সীমান্ত হাটসমঝোতা স্মারক নবায়ন না করেই চলছে সুনামগঞ্জের ডলুরা সীমান্ত হাট। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী উভয় দেশে বিক্রি ও বিপণনের জন্য ২০১২ সালের ১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এই হাটের। তিন বছরের সমঝোতা চুক্তিতে হাট শুরু হয়। তবে ২০১৫ সালে সেই মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও হাটের কার্যক্রম চলছে।  নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বিক্রেতা ও পণ্য বেচাকেনায় অনিয়মের মতো অনেক অভিযোগও রয়েছে সেখানে।

সরেজমিনে সীমান্ত হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা- বিক্রেতাদের কার্ডের মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড দিয়েই তারা হাটে কেনাবেচা করছেন।  সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সীমান্ত হাট সংলগ্ন বাংলাদেশ ও ভারতের পাঁচ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে উভয় দেশের ১৫০ ক্রেতা-বিক্রেতা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি। আবার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চেয়ে বহিরাগত বাংলাদেশিদের সংখ্যাই বেশি। প্রত্যেক কার্ডধারী ব্যবসায়ী ১০০ মার্কিন ডলার (৮ হাজার টাকা) পর্যন্ত পণ্যসামগ্রী কেনাবেচা করতে পারার কথা। তবে বাস্তবে এর পরিমাণ লাখের ঘরও ছাড়িয়ে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বাজারে বাংলাদেশি যেসব পণ্য নিয়ে যাওয়ার কথা তার বাইরেও অনেক পণ্য সীমান্ত হাটে বিক্রি হয়। আবার এ হাট দিয়ে ভারতীয় যেসব পণ্যসামগ্রী কেনাবেচার কথা তার বাইরেও মেয়াদহীন প্রসাধনী, গায়ের চাদর, কম্বল, নিম্নমানের শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী অবাধে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মোটা দাগে কার্ডধারী বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য আমদানি করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। ফলে দেশের বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ কার্ড, পণ্যসামগ্রী বেচাকেনায় অনিয়ম হলেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্টরা নীরব বলেও অভিযোগ উঠেছে।হাটের বিক্রেতাদের পরিচয়পত্র

সীমান্ত হাটের দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ কাস্টমস অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার বালা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাটে অবৈধ পণ্য কেনাবেচার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যেহেতু এখানে  আমি একা দায়িত্ব পালন করি তাই তেমন কিছু করার থাকে না।’

সীমান্ত হাটে দায়িত্ব পালনকারী বিএসএফ কর্মকর্তা গুঠিয়া বলেন, ‘মেয়াদ উত্তীর্ণের বিষয়টি দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন। আমরা বর্ডার হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকি।’হাটের বিক্রেতাদের পরিচয়পত্র

এদিকে, সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাসির উদ্দিন পিএসসিও জানান, বর্ডারহাটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে বিজিবি। মেয়াদের বিষয়টি তাদের দেখার বিষয়ের মধ্যে পড়ে না।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবেরা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ডার হাটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। সমঝোতা স্মারক নবায়নের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর সমঝোতা স্মারক তিন বছরের জন্য সম্পন্ন হয়। এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. রুহুল আমীন সরকার ও ভারতের সরকারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অরবিন্দ মেহতা। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ২০১২ সালের ১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ডলুরা সীমান্তহাটের উদ্বোধন করা হয়।

আরও পড়ুন-

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বিটিভি 

সংসদের মূল নকশা এসেছে

/বিটি/এফএস/ 

লাইভ

টপ