বিধবাকে দুবার বিয়ে ও তালাকের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৫৯, এপ্রিল ২২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৯, এপ্রিল ২২, ২০১৭

বগুড়াবগুড়ার সান্তাহারে ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিলুফা বেগম নামে এক বিধবাকে দুবার বিয়ে ও তালাক দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়ও ওই বিধবার কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর নিলুফা বেগম মাওলানা রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন। কিন্তু টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেওয়ায় তিনি এখন হোটেলে ঝিয়ের কাজ করছেন। অবশ্য এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিলুফাকে দায়ী করেন। এছাড়া তারা একে অপরকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, সান্তাহার দৈনিক বাজার এলাকায় ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম স্ত্রী থাকার পরও গোপনে গত ২০১৩ সালে কলসা সোনাপাড়ার মৃত রোকনুজ্জামান পিন্টুর স্ত্রী নিলুফা বেগমকে বিয়ে করেন। কিন্তু তাকে বাড়িতে না নিয়ে অন্যত্র বসবাস করতে থাকেন। বাড়িতে নিতে বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। মাওলানা রফিকুল নতুন বাড়ি করে দেওয়ার নামে নিলুফার কাছে আগের স্বামীর দেওয়া ও বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। মাওলানা নতুন বাড়িতে বসবাস করলেও সেখানে নিলুফাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ সুযোগে মওলানা রফিকুল ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিলুফাকে তালাক দেন। খবরটি জানাজানি হলে মাওলানা এলাকার সচেতন জনগণের রোষাণলে পড়েন। এলাকাবাসীর চাপে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে ২০১৬ সালের জুনে নিলুফারকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে বাধ্য হন। আবারও বিয়ের খবরে মাওলানা রফিকুলের আগের পরিবার ক্ষিপ্ত হলে তিন মাস পর আগস্টে নিলুফাকে দ্বিতীয় দফা তালাক দেনি। এছাড়া গত মার্চে নানা অজুহাতে নিলুফা ও তার প্রথমপক্ষের একমাত্র ছেলে আশিকুর রহমানর বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে মামলা করেন।

ভাগ্য বিড়াম্বনার শিকার নিলুফা বেগম শুক্রবার সান্তাহার প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সাহায্য কামনা করে বলেন, মাওলানা রফিকুল শুধু মামলা করে ক্ষান্ত হননি, উকিলের সহকারি ও অন্যদের দিয়ে এবং মোবাইল ফোনে ছেলেকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তিনি ১২ এপ্রিল বগুড়ার তৃতীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাওলানার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রফিকুল তার কাছে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও বাড়িতে লোকজন এনে জিহাদ ও বিপ্লব বিষয়ে আলোচনা করতেন। এতে বাধা দিলে রফিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তালাক দেন। জনগণের চাপে দ্বিতীয়বার ৩ লাখ টাকা মোহরানায় বিয়ে করতে বাধ্য হন। এরপর ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে না পেয়ে দ্বিতীয়বার তালাক দেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেননি। নিলুফা ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। পরে তাকে জামায়াত ও জঙ্গিসঙ্গ ত্যাগ এবং বাধ্য হবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয়বার তালাক দেন। এছাড়া ছেলেকে দিয়ে হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তা চেয়ে মামলা করেছেন।

/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ