'হরি' ধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালী আর নেই

Send
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:৪৭, জুলাই ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৭, জুলাই ০৬, ২০১৭

হরিপদ কাপালী ( ঝিনাইদহ প্রতিনিধি)

দেশে সাড়া জাগানো ‘হরি’ ধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালী আর নেই। ঝিনাইদহের এই মডেল কৃষক বুধবার মধ্য রাতে আসাননগর গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯৫ বছর। গত ছয় মাস ধরে তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিলেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলীয়ারপুর শ্বশানে তার অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে সাধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীনসহ মিডিয়া কর্মী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বাড়িতে যান।

হরিপদর’র পালিত ছেলে রুপ কুমার জানান, তার বাবা ১৯২২ সালের ১৭ সেপ্টম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পরপরই তিনি তার বাবা কুঞ্জু লাল কাপালী ও মা সরোধনীকে হারান। পরে কিশোর হরিপদ পরের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যুবক বয়সে তিনি সুনিতীকে বিয়ে করে আসাননগর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতেই থেকে যান।

মৃত্যুর আগে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও বিবিসির কাছে দেওয়া সাক্ষাতকারে কৃষক হরিপদ এই ধান উদ্ভাবনের বিষয়ে জানিয়েছিলেন, তার ইরি ধান ক্ষেতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ধান গাছ দেখে তিনি সেটাকে আলাদা করে রাখেন। এরপর বীজ সংগ্রহ করে ১৯৯২ সালে তিনি নিজের ক্ষেতে এ ধান আবাদ করেন এবং সুফল পান। এরপর এই ধানের আবাদ সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার কৃষকরা তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ইরি ও বোরো মৌসুমে এ ধান আবাদ শুরু করে। এই ধান উদ্ভাবনের জন্য হরিপদকে বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি সংগঠন সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড দেয়। নবম ও দশম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বইতে হরিপদ কাপালীর কথা অর্ন্তভুক্ত করা হয়।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের দিকে ঝিনাইদহসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে নাম পরিচয় বিহীন এক জাতের ধানের আবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৫ সালে ঝিনাইদহের সিনিয়র সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল এই ধান চাষের ওপর আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ১৯৯৬ সালে চ্যানেল আই এর বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ ঝিনাইদহে এসে হরি ধানের ওপর সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করলে দেশব্যাপী হৈ চৈ পড়ে যায়। পোকামাকড়, ক্ষরা ও অতিবৃষ্টি সহিষ্ণু এই জাতের ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ দেখে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা নিরিক্ষা করে বিশেষ ধরনের এই জাতের ধান চাষের ওপর ছাড়পত্র দেয়।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: লংগদুতে তদন্ত কমিটির গণশুনানি 

 

লাইভ

টপ