এই গতিতে রোহিঙ্গা নিবন্ধনে লাগবে চার বছর

Send
আবদুল আজিজ, কক্সবাজার
প্রকাশিত : ১৮:১৬, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৭, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষমান রোহিঙ্গারা (ছবি: প্রতিনিধি)মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। উখিয়া ও টেকনাফে চলমান ১০টি বুথের প্রতিটিতে দিনে অন্তত ৫০০ করে রোহিঙ্গা নিবন্ধনের কথা ছিল। সেই হিসেবে প্রতিদিন কমবেশি পাঁচ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু ১০টি বুথ মিলিয়ে পাঁচ দিনে মাত্র দুই হাজার ৬০০ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধন হয়েছে। এই গতিতে চলতে থাকলে আট লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গার নিবন্ধনে চার বছরের মতো সময় লাগতে পারে। নিবন্ধন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যন্ত্রপাতি ও লোক সংকটের কারণে বেশি সময় লাগছে।  

গত ১১ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় ও পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন শুরু করে সরকার। এতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সহায়তায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি।  শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পাঁচ দিনে মাত্র দুই হাজার ৬০০ শরণার্থী তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।রোহিঙ্গা নিবন্ধন (ছবি: আমানুর রহমান রনি)

কুতুপালংয়ে একটি কেন্দ্রে ছয়টি ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় একটি কেন্দ্রে চারটি বুথ খোলা হয়েছে। তবে বালুখালীসহ অন্যান্য স্থানে আরও ১৫ থেকে ২০টি কেন্দ্র খুলে নিবন্ধন কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও এখনও সেই কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়নি। ফলে শুধু কুতুপালং নিবন্ধন কেন্দ্রে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩৫০ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এই কার্যক্রম।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধনের জন্য আসা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ লাইন। কেউ সারিবদ্ধভাবে, কেউ এমনি জটলা বেঁধে আছে। সেখানেই কথা হয় রোহিঙ্গা কালু মিয়া (৬০), জহির আলম (৩৫), আহমদ কবির (১৮), জুলেখা বিবি (৪৫), শাহেনা আক্তারসহ (২৫) কয়েকজনের সঙ্গে।রোহিঙ্গা নিবন্ধন (ছবি: প্রতিনিধি)

তারা জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও নিবন্ধন করতে পারেননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দুই দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। আগামী দিনগুলোয় যেকোনও উপায়ে নিবন্ধনে নিজের নাম ওঠানোর জন্য চেষ্টা করবেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) অ্যান্ড মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রজেক্টের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর লে. কর্নেল ফয়সাল হাসান বলেন, ‘এ কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো এখন যেসব রোহিঙ্গা আসছে, তাদের পাশাপাশি আগে থেকে ক্যাম্পে থাকা সব রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার, যেন রোহিঙ্গারা দেশের অন্য কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যেতে না পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিবন্ধন প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, সবেমাত্র শুরু করেছি। এটা আরও যন্ত্রপাতি ও লোকবলের ওপর নির্ভর করছে।’রোহিঙ্গা নিবন্ধন (ছবি: প্রতিনিধি)

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রথম রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়। এরপর ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। ওই সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় পক্ষের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিতে কিছু রোহিঙ্গা ফেরত নিলে রোহিঙ্গাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যায়। কিন্তু, হঠাৎ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে সব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে থেকে যায়, তাদের জন্য উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় দু’টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়। সেখানে ৩২ হাজারের বেশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে। নিবন্ধিতদের পাশাপাশি অনিবন্ধিত আরও তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।  

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর রাখাইনে পুনরায় নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়ন শুরু হয়। ওই সময় ৯২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৯টি চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। ওই সময় থেকে এই পর্যন্ত চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

আরও পড়ুন- তিন দিনে মাত্র ৮শ’ নিবন্ধন, রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ



/বিএল/এফএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ