গভীর রাতে সবার অজান্তে মিয়ানমারে ফেরত গেছে রোহিঙ্গা পরিবারটি

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪৬, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৩, এপ্রিল ১৫, ২০১৮

মিয়ানমার ফেরত যাওয়া আকতার আলম

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে স্বেচ্ছায় একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত গেছে। ফেরত যাওয়া পরিবারের গৃহকর্তার নাম মোহাম্মদ আকতার আলম। তার পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জন ফেরত গেছেন। তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, শনিবার গভীর রাতে সবার অজান্তে তারা মিয়ানমারে ফেরত গেছে।

আকতার আলমের বাড়ি মিয়ানমারের তুমব্রু এলাকায় এবং তিনি ওই এলাকার চেয়ারম্যান। শনিবার (১৪ এপ্রিল)  গভীর রাতে মিয়ানমার সীমান্তের ঢেঁকিবুনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তারা ফেরত গেছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেছে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড (বিজিপি)। তিনি সেখানে গিয়ে পরিচয় শনাক্তকরণ কার্ড বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।

মিয়ানমার ফেরত যাওয়া আকতার আলমের পরিবারের সদস্য

তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা এরফান বলেন, ‘আজ (শনিবার) গভীর রাতে আকতার আলম তার পরিবার নিয়ে সবার অজান্তে মিয়ানমারে ফেরত গেছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করে তিনি মিয়ানমারে ফেরত গেছেন।’

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর অন্যান্য রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আকতার। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকায় এক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তিনি এতদিন বাংলাদেশে ছিলেন।

মিয়ানমার ফেরত যাওয়া আকতার আলমের পরিবারের সদস্য

খালেদ হোসেন নামের আরেক রোহিঙ্গা নেতা জানান, মিয়ানমারের ফেরত যাওয়া আকতার আলমের ২ ছেলে, ২ মেয়েসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। এরমধ্যে এক মেয়েকে রেখে ৫ জনকে নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন তারা। তবে এক সন্তানকে রেখে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি। তাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গারা জানতো না। মিয়ানমার গিয়েই তারা এনভিসি কার্ড সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নে তমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করছিল।

কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আকতার নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিক তার পরিবার নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন বলে আমি শুনেছি। এটা প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। তমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারগুলো প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। এজন্য মিয়ানমার সরকারকে আগে থেকেই বলা হচ্ছে ওই পরিবারগুলোতে ফেরত নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা সবাইকে ফেরত না নিয়ে শুধু একটি পরিবারকে নিয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন- বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরলো প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার
৭০ রোহিঙ্গাবাহী নৌকা মিয়ানমার উপকূল ছেড়েছে 

রয়টার্সমিয়ানমারের বিবৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানালেন আইসিসির কৌঁসুলিরা



আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন মিয়ানমার

/এসটি/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ